1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

শরণার্থীদের জন্য ইউরোপের সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল

পূর্ব আফ্রিকা বা মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে শরণার্থীদের যে স্রোত ইউরোপে আসছে, কয়েকটি দেশে তা বড় রকমের চাপ তৈরি করছে৷ গ্রেহেম লুকাস মনে করেন, ইউরোপে শরণার্থীরা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান, তা যথেষ্ট নয়৷

ভূমধ্যসাগর থেকে কোনো বিপর্যয়ের খবর আসে না এমন দিন আজকাল কমই পাই৷ এ বছর ইটালি হয়ে ইউরোপে ঢুকতে গিয়ে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ সাগরে ডুবেছে৷ কয়েক হাজার এমন ভাগ্যবানও আছেন, যাঁদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড়ে তোলা নৌ-টহল বাহিনী উদ্ধার করেছে৷ তাঁরা রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে পারছেন৷ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যেমনটি হচ্ছে, এই শরণার্থীদের সঙ্গে ইউরোপ সেরকম করছে না, অর্থাৎ, তাঁদের ফিরিয়ে দিচ্ছে না বা জাহাজগুলো টেনে সাগরের মাঝখানে ছেড়ে দিয়ে আসছে না৷ সমস্যাটিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখছে ইউরোপ, যা নিশ্চয়ই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য৷ তবে এ কথাও মনে রাখতে হবে যে, ইউরোপ কিন্তু এ সব নিজের স্বার্থেই করছে৷

Lucas Grahame Kommentarbild App

গ্রেহেম লুকাস, ডয়চে ভেলে

ইউরোপের বেশির ভাগ দেশেই জন্মহার ক্রমাগত কমছে৷ এ কারণে কোথাও কোথাও জনসংখ্যা কমেও যাচ্ছে৷ অথচ ইউরোপের কাঙ্খিত উন্নয়ন কিন্তু আমাদের সার্বিক আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল৷ কর্মক্ষম বয়সের দক্ষ কর্মী যথেষ্ট থাকলেই কেবল আমরা যে মানের জীবনযাপনে অভ্যস্থ, তার উপযোগী সম্পদ ইউরোপের অর্থনীতি জোগান দিতে পারবে৷ এ কারণেই আমাদের অভিবাসী দরকার৷

ইউরোপের রাজনীতিবিদরা এ বাস্তবতা বুঝতে শুরু করেছেন৷ সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, জার্মানি অভিবাসীদের দেশ৷ প্রচলিত ধারণা কতটা বদলাচ্ছে তাঁর এ কথা থেকেই তা বোঝা যায়৷ কয়েক বছর আগে জার্মানির কোনো নেতার মুখে এমন মন্তব্য একেবারে অকল্পনীয় ছিল৷ ম্যার্কেল আসলে জানেন যে, তাঁর নিজের মধ্য-ডান খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দলের ভেতরে এ বিষয়ে কিছুটা মতবিরোধ থাকলেও দেশের বেশির ভাগ মানুষ তাঁর পাশে আছে৷ তবে বিরুদ্ধবাদীরা সংখ্যায় কম হলেও সরব৷ কম বেতনের চাকরি করছেন এমন অনেকেই অভিবাসীদের নিজেদের জন্য হুমকি মনে করেছেন৷

ইউরোপের আরো কিছু দেশেও এখন প্রায় একই অবস্থা৷ সেসব দেশে ভূমধ্যসাগর থেকে ধেয়ে আসা শরণার্থীদের বিষয়ে উদ্বেগ, অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে৷ উগ্র-ডানপন্থি দলগুলো এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভিত শক্ত করছে৷ ম্যার্কেল অভিবাসীদের প্রসঙ্গে কিছু বৈপ্লবিক মন্তব্যও করেছেন৷

তিনি এও বলেছেন, যেসব অভিবাসন প্রত্যাশীর বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা এবং কম্পিউটার বিষয়ক কাজে দক্ষতা আছে, তাঁদের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার কোনো দরকার নেই, জার্মানি তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত – এ বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত থাকতে পারেন৷ কথাটি অবশ্য ম্যার্কেল জার্মানির পূর্বাঞ্চলে দানা বেঁধে ওঠা ছোট অথচ সোচ্চার এক বিদেশি-বিরোধী আন্দোলনের জবাবে বলেছিলেন৷

ফ্রান্স, জার্মানি, হল্যান্ড এবং ব্রিটেনের মতো কয়েকটি দেশের রাজনীতিতে উগ্রতা বাড়ছে৷ উগ্র-ডানপন্থিরা উঠে আসছে৷ বেশ চিন্তার বিষয়৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে ইউরোপে অভিবাসীদের জন্য অবিলম্বে একটি সুসংবদ্ধ নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার৷ ইউরোপ এখনো তা করে উঠতে পারেনি৷

ফলে নিরাপদ আশ্রয় এবং ভালো কাজের আশায় দক্ষিণ ইউরোপে যে অভিবাসন প্রত্যাশীরা আসছেন, অনেক সময়ই তাঁরা এমন জায়গায় এসে পড়ছে যেখানে তেমন একটা সুযোগ নেই এবং যেখানে তারা অনাহূত৷ কালাইসের আফ্রিকান অভিবাসনপ্রত্যাশীরা নৌকায় করে লুকিয়ে ব্রিটেনে ঢোকার চেষ্টা করছে৷ প্যারিসে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে অনেক গৃহহীন মানুষ৷ তাই, একটি বিষয় খুব পরিষ্কার যে, ইউরোপ অভিবাসনের সমস্যাটিকে যথাযথভাবে সামাল দিচ্ছে না৷ এটা খুবই উদ্বেগের৷ ইউরোপীয় পর্যায়ে শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করা দরকার৷ ইউরোপের অভিবাসীর দরকার আছে৷ তবে উগ্র-ডানপন্থিদের দৌরাত্ম্য আরো বেড়ে যাওয়ার বিপদ নিয়ন্ত্রণের কথা মাথায় রেখেই সব কাজ করতে হবে৷ মনে রাখা দরকার, ইউরোপীয় গণতন্ত্রে সংখ্যাগুরুর মেধা ও মননের লড়াইয়ে জয়লাভ এখনো অনেক বাকি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়