1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

লোরেলাই : এক সর্বনাশী মৎসকন্যা

শুধু তাঁর চাহনিতেই পুরুষরা মোহিত হতেন৷ কিন্তু তাদের জন্য সে বয়ে এনেছিল শুধু সর্বনাশ৷ লোরেলাই এক কিংবদন্তি সৌন্দর্য, অশুভ জাদুকরি এবং সেই সাথে পর্যটকদের জন্য বিরাট এক আকর্ষণ৷

রাইন নদীর পারে সুন্দর-শান্ত একটি এলাকা আসমানহাউজেন৷ অধিবাসির সংখ্যা ১ হাজার৷ সেখানকার রাইনের তীর প্রধানত জাহাজ ঘাট বা জেটি হিসেবেই ব্যবহৃত৷ এখান থেকেই ছোটছোট জাহাজ প্রতিদিন পর্যটকদের নিয়ে যায় সেই বিখ্যাত পাথুরে খাড়া পাহাড় দেখাতে যা ‘মৎসকন্যা লোরেলাই' নামে পরিচিত৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বছরে প্রায় ২০ মিলিয়ন বা দু কোটি পর্যটক আসেন এই ‘মিডল রাইন ভ্যালি'-তে, লোরেলাই দেখার জন্য দিনের ভ্রমণে পাড়ি জমান তাঁরা৷ তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই ‘লোরেলাই'-এর গল্প জানেন৷ ২০০২ সাল থেকে লোরেলাই ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত৷

Loreley Felsen Loreleyfelsen

এই সেই পাহাড় যেখান থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সর্বনাশী মৎসকন্যা লোরেলাই

সুর্যস্নাত দিনে জাহাজের ডেকে আইস বা ঠান্ডা পানীয় নিয়ে বসে পর্যটকরা আনন্দময় পরিবেশে উপভোগ করেন ধীরে ধীরে সরে যাওয়া নদীর পারের অপরূপ দৃশ্য৷ পুরোনো দূর্গ বা কাসেল, কাঠের ঘর, সবুজে ঘেরা বনান্তর আর সরস সবুজ আঙ্গুর-খেত বা ভিনিয়ার্ড৷প্রায় দেড় ঘণ্টা নৌ পথ পাড়ি দিয়ে রাইনের বহু মোড়ের মতোই একটি মোড়ে এই পাহাড়৷ এবড়োথেবড়ো- প্রস্তরময়, উঁচু৷ খুব চোখে পড়ার মতো কিছু নয়৷ কিন্তু রাইনের মতোই একে ঘিরে রেখেছে কাল্পনিক, পৌরাণিক এবং কাব্য কাহিনী, যা ছড়িয়ে পড়েছে আটলান্টিক মহাসাগরের ওপার অবধি৷

১৮০১ সালে রোমান্টিক ধারার কবি ও লেখক ক্লেমেন্স ব্রেন্টানো তাঁর বিয়োগান্তক কাহিনীতে লোরেলাইকে এক জাদুকরী নারীর রূপ দিয়েছিলেন৷ এই পাহাড়ের কাছেই ছোট্ট একটি এলাকা বাখারাখে ছিল তাঁর বাস৷ যে কোনো পুরুষই মুগ্ধ হয়ে যেত তাঁর রূপে৷ এক বিশপ তাঁকে মঠে নিয়ে আসার আদেশ করেন৷ যাবার পথেই শেষবারের মতো একবার দেখতে চায় তাঁর ভালবাসার স্থান৷ উঠে আসে এই পাহাড়ে৷ মৃদু গানের সাথে উড়ছিল তাঁর সোনালী চুল৷ তারপর সেই উঁচু থেকেই সে ঝাঁপিয়ে পড়ে রাইনের বুকে৷

Mittelrheintal Loreley

লোরেলাই খ্যাত পাহাড়ের পাশ দিয়ে বয়ে চলা রাইন

লোকগাঁথায় আছে একটি ভ্রাম্যমাণ জাহাজের নাবিকেরা মুগ্ধ চোখে উপরে তাকিয়ে দেখছিলো দাঁড়িয়ে থাকা ‘লোরেলাই'-এর সেই অপরূপ রূপ৷ পথভ্রষ্ট জাহাজ ধাক্কা খায় পানির তলার কঠিন পাথুরে শিলায়৷ বিধ্বস্ত হয় জাহাজ৷

তবে সাহিত্যে লোরেলাইকে সুপরিচিত করে তোলেন বিখ্যাত কবি, লেখক ও সাংবাদিক হাইনরিশ হাইনে৷ ২০ বছর পর তিনি তাঁর কাব্যে লোরেলাইকে জাদুকরী হিসেবে নয়, তাঁকে তিনি সর্বনাশী মৎসকন্যা হিসেবে তুলে ধরেছেন, যার সাথে গ্রিক পুরাণের কুহকিনীদের কিছুটা মিল রয়েছে৷ তারাওতো অসহায় নাবিকদের ডুবিয়ে মারে৷

৩১ বছর বয়সি নিকো পাঁচ বছর যাবৎ নাবিকের কাজ করছেন৷ কিন্তু ‘লোরেলাই'-এর গান তিনি কখনো শোনেননি৷ রাইন নদীর এই বাঁকে জাহাজ চালানোয় খুব দক্ষতার প্রয়োজন, কারণ, এই মোড় খুব সরু৷ উল্টোদিক থেকে আসা জাহাজ বা অন্য জলযানগুলো সম্পর্কে সজাগ থাকতে হয়৷

ব্রেন্টানোর ভাষায় লোরেলাই এক ‘সর্বনাশী জাদুকরী', কিন্তু নিকো এবং তাঁর পরিবারের জন্য এক আশীর্বাদ, কারণ, প্রতি বছরই তাঁর জাহাজ থাকে পূর্ণ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন