1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

লুই কানের নকশায় ফিরছে সংসদ ভবন?

জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের মূল নকশা আসার পর থেকে নকশার বাইরে নির্মাণ করা স্থাপনা সরানোর বিষয়টিই আলোচনায় রয়েছে৷ সরানোর সিদ্ধান্ত আছে৷ সিদ্ধান্ত কার্যকর করলে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরসহ অনেক স্থাপনা সরাতে হবে৷

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশা এখন ঢাকায়৷ ৪১টি বাক্স করে নিয়ে আসা হয়েছে স্থপতি লুই আই কানের করা নকশা৷ মার্কিন এই স্থপতির নকশা অনুযায়ীই জাতীয় সংসদ ভবন নির্মাণ করা হয়৷

কিন্তু সংসদ ভবন এলাকায় লুইকানের নকশার বাইরেও কিছু স্থাপনা গড়ে উঠেছে৷ ১৯৮১ সালের ৩০ মে তখনকার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার দুই দিন পর তার কবর সেখানে প্রতিস্থাপন করা হয়৷ ক্রিসেন্ট লেকে ঝুলন্ত ব্রিজ নির্মাণ করা হয়৷ আর চন্দ্রিমা উদ্যানের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় জিয়া উদ্যান৷ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সংসদ ভবন এলাকায় আরো সাতজনকে সমাহিত করা হয়৷ তাদের মধ্যে স্বাধীনতাবিরোধী শাহ আজিজুর রহমান, খান এ সবুর ও মশিউর রহমান জাদু মিয়ার কবরও রয়েছে৷

নকশা লঙ্ঘন করে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনসহ আরো সাতটি স্থাপনা ও বাসভবন নির্মাণ করা হয়েছে সংসদ ভবন এলাকায়৷ ২০১৪ সালে সংসদ ভবন এলাকায় নকশা বহির্ভূত সব ধরণের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় সরকার৷ নকশার বাইরে সব ধরণের স্থাপনা ভাঙারও সিদ্ধান্ত হয়৷ একই বছরের ১৭ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর সভায় জিয়াউর রহমানের কবর সংসদ ভবন এলাকা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়৷ ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন, সংসদ ভবনকে তার মূল নকশায় ফিরিয়ে আনা হবে৷ তারই অংশ হিসেবে স্থপতি লুইকানের মূল নকশা বাংলাদেশে আনা হলো৷ এর সফট কপিও আনা হবে বলে জানা গেছে৷

আর সংসদ ভবন মূল নকশায় ফিরিয়ে আনতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আগেই একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে৷ তাতে বলা হয়েছে, ‘‘শেরে বাংলা নগরে সংসদ ভবনের মূল নকশায় জিয়াউর রহমানের কবরের কোনো জায়গা নেই৷’’ একই সঙ্গে অন্যান্য নকশাবহির্ভূত স্থাপনাও সরানোর প্রস্তাব দেয় মন্ত্রণালয়৷

তবে মূল নকশা আসার পর সংসদ ভবন এলাকার নকশাবহির্ভূত স্থাপনা সরানোর ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো কথা বলা হয়নি৷ সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, ‘‘আজকালের মধ্যে নকশার বাক্সগুলো খোলা হবে৷ এরপর প্রধানমন্ত্রীকে তা দেখানো হবে৷ আগে নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ সরকার এবং সরকারের গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের৷’’

গণপূর্ত মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন আগেই সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘কারো কবর সরানোর জন্য সংস্কার করা হবে না৷ লুই আই কানের নকশা যেভাবে আছে, সে অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য যা যা করণীয়, সবই করা হবে৷’’ তবে মঙ্গলবার যোগাযোগ করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি৷

অডিও শুনুন 01:14

এই নকশা আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করবো: ফিরোজ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নকশা সংসদ সচিবালয় এনেছে৷ এখন এই নকশা আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করবো৷ আমরা চাই সরকার তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করুক৷ এখন দেখার বিষয় সংসদ ভবন এলাকায় নকশার বাইরে কতটুকু বা কত স্থাপনা আছে৷ সেই অনুযায়ী কাজ হবে৷ এখানে সংসদের কাজ আছে৷ তবে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মূল কাজ৷ এর বেশি এখন আর কিছু বলা যাচ্ছেনা৷’’

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার নকশা সম্পর্কে ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসির মামুন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘লুই কানের এই স্থাপত্য বিশ্ববিখ্যাত, বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ৷ কিন্তু বিগত সময়ে মূল নকশার বাইরে অনেক স্থাপনা হয়েছে৷ আমাদের কথা হলো, এই সংসদ ভবনকে লুই কানের নকশায় ফিরিয়ে আনতে হবে৷ এখানে শুধু জিয়উর রহমানের কবর নয়, এখানে পাকিস্তানিদের কবরও আছে৷ জিয়াউর রহমানসহ পাকিস্তানি মনোভাবসম্পন্নদের কবর এখানে থাকতে পারেনা৷ আর সংসদ ভবন শুধু ভবন নয়, পুরোটা মিলেই সংসদ ভবন৷ এটা কোনো কবরস্থান নয়৷’’

অধ্যাপক মুনতাসির মামুন মনে করেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই জিয়াউর রহমানসহ অন্যদের কবর সেখানে স্থাপন করা হয়েছিল এবং সে কারণেই মূল নকশায় ফিরে যাওয়াটা বেশি দরকার৷ তাঁর মতে, ‘‘এটা নিয়ে কেউ রাজনীতির প্রশ্ন তুলতে পারেন৷ আমার কথা হলো, জিয়াউর রহমানের কবর এখানে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে৷ একই উদ্দেশ্যে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কবর এখানে করা হয়নি৷ আমরা সংসদ ভবন নিয়ে সব রাজনীতির অবসান চাই৷ চাই মূল নকশায় ফিরে যেতে৷’’

অডিও শুনুন 02:45

সরকারের উচিত নকশার বাইরের সব কিছু সরিয়ে ফেলা: মুনতাসির মামুন

তিনি আরো বলেন, ‘‘নকশা লঙ্ঘন করে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনও নির্মাণ করা হয়েছে৷ সরকারের উচিত হবে নকশার বাইরের সব কিছু সরিয়ে ফেলা৷’’

আরেক প্রশ্নের জবাবে মুনতাসির মামুন বলেন, ‘‘সংসদ ভবন এলাকায় যদি জিয়াউর রহমানের কবর থাকে, তাহলে যে কোনো বিবেচনায় আরো অনেক কবর সেখানে থাকতে পারে৷ সেটাতো সম্ভব নয়৷ সংসদ ভবন এলাকা তো করস্থান নয়৷ আর জিয়াউর রহমানের কবর তো সংসদ ভবন এলাকায় ছিলনা৷ অন্য জায়গা থেকে এনে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে৷’’

সংসদ ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৬১ সালে, অর্থাৎ পাকিস্তান আমলে৷ স্থপতি মাযহারুল ইসলামকে সংসদ ভবনের নকশার দায়িত্ব দেয়া হলেও তাঁর প্রস্তাবে লুই কান প্রধান স্থপতি হিসেবে কাজ করেন৷ আর আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ ভবনের উদ্বোধন করা হয় ১৯৮২ সালে ২৮ জানুয়ারি৷

সামনে ও পেছনে বিস্তীর্ণ সবুজ খোলা মাঠসহ ২০৮ একর জমির ওপর জাতীয় সংসদ ভবন লুই কানের নকশার প্রথম ধাপ৷ এর চারদিকে আট লেনের সড়ক, মাঝখানে লেক৷ দ্বিতীয় ধাপে লেকের পর বিস্তীর্ণ সবুজ চত্বর৷ এছাড়া বাকি জায়গায় গড়ে তোলার কথা সচিবালয়, লাইব্রেরি, জাদুঘর, হাসপাতালসহ প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিকবলয়৷

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে নীচে মন্তব্যের ঘরে লিখুন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়