‘লিভিং সেল’ উদ্ভাবন করলেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 01.06.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

‘লিভিং সেল’ উদ্ভাবন করলেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা

মার্কিন বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক উদ্ভাবন বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীদের মধ্যে বেশ হৈচৈ ফেলে দিয়েছে৷ প্রায় ১৫ বছর গবেষণার পর তাঁরা ‘সিনথেটিক লিভিং সেল’ অর্থাৎ প্রাণ আছে এমন সেল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন৷

default

মস্তিষ্কের সেল

মেরিল্যান্ডের জে ক্রেইগ ভেন্টার ইনস্টিটিউটের একদল বিজ্ঞানী এ বিষয়ে গবেষণাটি করেন৷ গবেষণা দলের নেতৃত্ব দেন ডঃ ক্রেইগ ভেন্টার৷ অ্যামেরিকার বিখ্যাত ‘সায়েন্স' ম্যাগাজিনে সম্প্রতি গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে৷ অনেকেই একে ‘যুগান্তকারী' ঘটনা বলছেন৷ তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োক্যামিস্ট্রি এন্ড মলিকিউলার বায়োলজির অধ্যাপক জেবা ইসলাম সেরাজ বলছেন, আবিস্কৃত সেলটিকে ঠিক জীবন্ত বলা যাবেনা৷ তিনি বলছেন, বিজ্ঞানীরা যেটা করেছেন সেটা হলো, একটি লিভিং ব্যাকটেরিয়াল সেলের নিজস্ব ডিএনএ বের করে দিয়ে সেখানে ল্যাবরেটরীতে তৈরি ডিএনএ ঢুকিয়ে দিয়েছেন৷ আর ল্যাবে তৈরি ডিএনএ-টি জীবন্ত নয়৷

কেন এত আলোচনা

তাহলে কেন বিষয়টি নিয়ে এত হৈচৈ হচ্ছে? এর কারণ, গবেষকরা আশা করছেন যে, এই লিভিং সেল থেকে ভবিষ্যতে এমন ব্যাকটিরিয়া তৈরি করা সম্ভব হবে যেটা দিয়ে জীবন রক্ষাকারী ভ্যাকসিন সহ বায়োফুয়েল তৈরি করা যাবে, যা পরিবেশের জন্য বেশ উপকারি৷ এছাড়া এই সিনথেটিক ব্যাকটিরিয়া দিয়ে এক ধরণের শেওলা তৈরি করাও সম্ভব, যা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা করবে৷ অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে বিশ্ববাসীর চিন্তা অনেকটা কমাতে সহায়তা করবে এই ব্যাকটিরিয়া৷ জানা গেছে, ডঃ ভেন্টার আর তাঁর সহকর্মীরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ওষুধ ও জ্বালানী কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন৷ ভবিষ্যৎ সিনথেটিক ব্যাকটিরিয়ার ক্রোমোজোম তৈরিতে গবেষণার জন্য অর্থ জোগাড় করতেই তাঁরা মাঠে নেমেছেন, বলে জানা গেছে৷

সমালোচকরা কী বলছেন

তবে সবাই যে এই গবেষণার ফলাফলে খুশি, তা কিন্তু নয়৷ কেউ কেউ এর সমালোচনাও করেছেন৷ তাঁরা বলছেন যে, গবেষণা থেকে প্রাপ্ত লাভের কথা বাড়িয়ে বলা হচ্ছে৷ কেউ কেউ এমনও বলছেন যে, এই সিনথেটিক ব্যাকটিরিয়া নাকি বিপজ্জনক হতে পারে৷ এই দলের একজন হলেন জেনেটিক প্রযুক্তির উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ করে এমন একটি সংস্থা জেনেওয়াচ ইউকে'র ডঃ হেলেন ওয়ালেস৷ তিনি বলছেন, ‘‘পরিবেশ দূষণ কমাতে এই ব্যাকটিরিয়া ছাড়ার অর্থ হলো নতুন আরেক ধরণের দূষণ ছড়ানো৷ কারণ পরিবেশে তারা কীরকম কাজ করবে তাতো আমরা জানিনা৷'' সম্ভাব্য অপকারিতার কথা এড়িয়ে যাওয়ায় তিনি ডঃ ভেন্টারের সমালোচনাও করেছেন৷ এমনকি গবেষণাকাজে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা উঠিয়ে আনতেই ডঃ ভেন্টার লাভের কথা বাড়িয়ে বলছেন বলে মনে করেন ডঃ ওয়ালেস৷

এদিকে সিনথেটিক ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ‘বায়োউইপন' অর্থাৎ বায়ো-অস্ত্র তৈরির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুলিয়ান সাভুলেস্কু৷ আর এটা হলে তা হবে বিশ্বের জন্য সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার, বলেছেন অক্সফোর্ডের ঐ অধ্যাপক৷ তবে ডঃ ভেন্টার এ ধরণের আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন৷ তিনি বলছেন যে, দুটি নামকরা প্রতিষ্ঠান যার একটি হলো ম্যাসাচুসেটস্ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটি এবং অন্যটি প্রতিরক্ষা বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি সংস্থা তারা যৌথভাবে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যেখানে বায়োউইপন তৈরির আশঙ্কা কম বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে৷

এই ‘লিভিং সেল' দিয়ে সিনথেটিক ব্যাকটিরিয়া ছাড়াও আর কোনো অর্গানিজম তৈরি সম্ভব কি না এ ব্যাপারে ডঃ ভেন্টার বলেন, হয়তো সম্ভব৷ তবে এজন্য অনেক অনেক বছর অপেক্ষা করতে হবে৷ কারণ ১৫ বছর ধরে গবেষণার পরও এখনো এক সেল ও এক ক্রোমোজমের ব্যাকটিরিয়াই তৈরি করা গেলো না৷ সেখানে বহু সেল আর বহু ক্রোমোজোমের অর্গানিজম তৈরিতে কত সময় লাগতে পারে তা সহজেই অনুমেয়৷

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সংশ্লিষ্ট বিষয়