লিবিয়ায় আক্রমণ চলেছে, ন্যাটো দ্বিধাগ্রস্ত | বিশ্ব | DW | 21.03.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

লিবিয়ায় আক্রমণ চলেছে, ন্যাটো দ্বিধাগ্রস্ত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ব্রাজিলের মন জয় করতে ব্যস্ত৷ ওদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের মূল প্রচেষ্টা হল লিবিয়ায় মার্কিন সামরিক সংশ্লেষকে যতোটা সম্ভব সীমিত করে দেখানো৷ ন্যাটো আবার এক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাতেই আটকে রয়েছে৷

default

বেনগাজির কাছে রকেটের আঘাতে বাস জ্বলছে

ওডিসি ডন অভিযানে মার্কিনিরা যে মুখ্য ভূমিকা নিতে এতো গররাজি, তার কারণ জার্মানির মতো সাবধানি দেশের মনোভাব দেখলেই বোঝা যায়৷ লিবিয়ায় যে শেষমেষ কি ঘটবে, তা এতোটাই অনিশ্চিত, যে যারা সামরিক হস্তক্ষেপে অংশ নিচ্ছে, এবং যারা সামরিক হস্তক্ষেপে অংশ নিচ্ছে না, দু'দলই একটা ঝুঁকি নিচ্ছে৷ একদিকে আরব বিশ্বে একটা বড় পরিবর্তনের সময় বাদ পড়ার আশঙ্কা৷ অপরদিকে আরেকটা ইরাক কিংবা আফগানিস্তানে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা৷ মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান এ্যাডমিরাল মাইক মালেন নিজে বলেছেন: লিবিয়ায় সামরিক পদক্ষেপের ফলশ্রুতি ‘‘খুবই অনিশ্চিত''৷

Flash-Galerie Libyen Bürgerkrieg Frankreich Marine

ফ্রান্সের পরমাণু চালিত বিমানবাহী জাহাজ শারল দ্য গল টুঁলো বন্দর থেকে যাত্র শুরু করছে

হ্যাঁ থেকে না'এর দূরত্ব

ফ্রান্স তো গোড়া থেকেই একলা চলো রে মনোভাব নিয়েই মাঠে নেমেছে৷ ব্রিটেন'ও সেরকম৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেন ধরি মাছ না ছুঁই পানি করতে পারলে বাঁচে৷ ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি আধা দুনিয়াকে প্যারিসে ডেকেছিলেন বটে, কিন্তু বস্তুত তিনি শুধু আরব লিগের হ্যাঁ শুনতে পেয়েই খুশি৷ এখন তো সেই হ্যাঁ'ও ধীরে ধীরে না হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷

ন্যাটোয় তকরার

সারা সপ্তাহান্ত ধরে ব্রাসেলসে ন্যাটোর বৈঠকের পর বৈঠক চলেছে৷ কিন্তু তা'তে লিবিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি৷ একমাত্র যা ঠিক হয়েছে, তা হল: জাতিসংঘের প্রস্তাবে লিবিয়াকে অস্ত্র সরবরাহের উপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, ন্যাটো তা কার্যকরি করতে সাহায্য করবে৷ এই আন্তঃ-অতলান্তিক সামরিক জোটের পক্ষে ঘরের পাশে যখন বোমা পড়ছে, তখন জলপুলিশের কাজ করাটা কতোটা সম্মানজনক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে৷ ভাবা যায়? ন্যাটোয় এখনও নো-ফ্লাই জোন নিয়ে তকরার চলেছে৷ অবশ্য ফ্রান্স স্বয়ং নাকি এই লিবিয়া সংঘাতে ন্যাটোকে দূরেই রাখতে চায়৷ কেননা একে তো আফগানিস্তান যুদ্ধের কারণে আরব বিশ্বে ন্যাটোর বিশেষ সুনাম নেই৷ দ্বিতীয়ত, ন্যাটো বলতেই মার্কিন নেতৃত্বের কথা মনে পড়ে৷

Libyen Bürgerkrieg Rebellen Panzer

বেনগাজির উপকণ্ঠে বিদ্রোহীদের হাতে সরকারি ট্যাংক

গাদ্দাফির মতিগতি

গাদ্দাফির কৌশলও এযাবৎ স্পষ্ট নয়৷ রবিবার আরো একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সেটা ভঙ্গও করেছেন, বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘের অভিযোগ৷ নয়তো বিদেশী সাংবাদিকদের ডেকে তথাকথিত নিহত বেসামরিক ব্যক্তিদের কবর দেখানো হচ্ছে৷ ওদিকে যুদ্ধও কিছু থেমে নেই৷ বেনগাজি যাবার পথে ধ্বংস ট্যাংকের পাশে গাদ্দাফির সৈন্যদের মৃতদেহ৷ অপরদিকে খোদ বেনগাজির ভিতরেও কিন্তু বিস্ফোরণ এবং ভারী গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে৷ গাদ্দাফি অনুগামীরা হয়তো বেনগাজিতে ঢোকার চেষ্টা করেও থাকতে পারে৷ আর পশ্চিম লিবিয়ায় বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত শেষ শহর মিসরাতা'তে সরকারি ট্যাংক ঢোকার খবর তো আছেই৷

প্রতিবেদন: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সম্পাদনা: রিয়াজুল ইসলাম

নির্বাচিত প্রতিবেদন