1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

লিউকেমিয়ার থেরাপিতে ইমিউনসেল প্রতিস্থাপন

লিউকেমিয়া, মানে ব্লাড ক্যানসার৷ এই রোগটি শনাক্ত করা হলে যেন হতচকিত হয়ে যায় মানুষ৷ যেমনটি ঘটেছে প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডো ওয়েস্টারভেলের ক্ষেত্রে৷ এই রোগে যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয়, ততই সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি৷

গুরুতর লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসারের ক্ষেত্রে রক্তের স্টেমসেলের প্রতিস্থাপন করা এখন প্রচলিত পদ্ধতি৷ এক্ষেত্রে লিউকেমিয়া রোগীর অসুস্থ অস্থির মজ্জা বদলে দাতার সুস্থ সেল প্রতিস্থাপন করা হয়৷

শ্বেতকণিকার মারাত্মক অসুখ

রক্তের শ্বেতকণিকার মারাত্মক অসুখকে ব্লাড ক্যানসার বা লিউকেমিয়া বলা হয়৷ আর এই শ্বেতকণিকাই দেহে সংক্রমণ প্রতিরোধের কাজ করে থাকে৷ কঠিন লিউকেমিয়া হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে৷ তাই যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা শুরু করা উচিত৷

রক্তের স্টেমসেল প্রতিস্থাপন থেরাপিতে দেহের প্রত্যাখ্যানের সম্ভাবনা থাকে৷ এ কারণে রোগীকে এমন ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়, যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে দমন করে রাখে৷ এর ফলে আবার সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়৷ বেড়ে যায় বিভিন্ন অসুখ বিসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা৷ এ জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিকাগুলি, অর্থাৎ শৈশবে যে সব টিকা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি আবার দিতে হয়৷ তবে ছত্রাক ও হারপিস ভাইরাস প্রতিরোধের কোনো টিকাও নেই৷ অন্যদিকে রোগীর দেহে কার্যকর একটা ইমিউন সিস্টেম গড়ে উঠতে কয়েক মাস এমনকি কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে৷

Lymphknoten Mikroskopische Übersicht

আজ রোগীর অসুস্থ অস্থির মজ্জা বদলে দাতার সুস্থ সেল প্রতিস্থাপন করা সম্ভব

‘‘লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত অনেক রোগী স্টেমসেল প্রতিস্থাপন করার পরপরই চার সপ্তাহের মধ্যেই সংক্রমণের শিকার হন৷ কেউ কেউ আবার অনেক বছর পরও কঠিন সংক্রামক রোগের কবলে পড়েন৷'' বলেন এরলাঙ্গেন ইউনিভার্সিটি ক্লিনিকের আন্ড্রেয়াস মাকেনসেন৷ এরলাঙ্গেন-এর গবেষকরা এক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো বা সম্পূর্ণ দূর করার জন্য এখন গবেষণা করছেন৷

ইমিউন সেল প্রতিস্থাপন

ভবিষ্যতে ব্লাড ক্যানসারের স্টেমসেল প্রতিস্থাপনের পরপরই রোগীকে কার্যকর বি-লিম্ফোসাইেস দেওয়া হবে৷ এই সেল শ্বেতকণিকার অন্তর্ভুক্ত, যা দেহের অ্যান্টিবডি বা ইমিউন সিস্টেমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ৷

Stammzellenforschung

ব্লাড ক্যানসার প্রতিরোধে স্টেম সেল নিয়ে গবেষণা চলছে...

গবেষক টিমটি টেস্ট টিউব ও ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে এই সেলকে আলাদা করতে সক্ষম হয়েছেন৷ তাঁরা এই ইমিউন সেলকে দাতার রক্ত থেকে বিশোধিত করে অস্থির মজ্জা প্রতিস্থাপনের পর রোগীর দেহে ঢোকানোর একটি কৌশল আবিষ্কার করেছেন৷

গবেষণায় এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় প্রতিস্থাপনের তিন থেকে চার মাস পর৷ ‘‘সাধারণত এই সময়টাতেই রোগীর দেহে ইমিউন সিস্টেম অচল হয়ে পড়ে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে৷ আমরা দেখাতে পেরেছি, স্টেমসেল প্রতিস্থাপনের পর পর রক্তে মেমোরি কোষ বা স্মৃতি কোষ থাকে না৷'' জানান গবেষকরা৷

এই সেলগুলি দেহের রোগ প্রতিরোধমূলক স্মৃতির দায়িত্বে রয়েছে৷ অ্যান্টিবডি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক ধরনের তথ্যভাণ্ডার বলা যায় এদের৷ গবেষকরা এই সেলগুলিকে রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করতে চান৷ এর ফলে দেহকে নতুন করে প্রতিরোধমূলক কার্যকলাপ শিখতে হবে না৷ রোগীরা স্টেমসেল থেরাপির পর দাতার কাছ থেকেই কার্যকর ইমিউন সিস্টেম পেতে পারেন৷

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, দাতাকে টাইফয়ডের টিকা দেওয়া হয়ে থাকলে গ্রহীতাও এই অ্যান্টিবডি পেয়ে যাবেন৷

‘‘আমরা অবশ্য প্রচলিত টিকা দিয়েও রোগীর শরীরে প্রতিক্রিয়া হয় কিনা তা দেখতে চাই৷ আমরা জানি যে, স্মৃতিকোষ ছাড়া রোগীর দেহে টিকার কোনো প্রতিক্রিয়া হয় না৷ এ জন্য আমার দুই গ্রুপের মধ্যে এই ধরনের পরীক্ষা চালাতে চাই৷''

এতে ঝুঁকিও রয়েছে

তবে এই থেরাপিতে ঝুঁকি হলো, ইমিউন সেলগুলি শুধু ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধেই যে অ্যান্টিবডি তৈরি করবে, তাই নয়, হয়ত অটো-অ্যান্টিবডিও গড়ে তুলতে পারে৷ ইমিউন সিস্টেম লাইনচ্যুত হয়ে যেতে পারে, দেখা দিতে পারে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া, আক্রান্ত হতে পারে সুস্থকোষও৷ ‘‘তাই আমরা প্রথম গবেষণা অল্প সংখ্যক ইমিউন সেল নিয়ে শুরু করতে চাই৷'' বলেন মাকেনসেন৷

এরলাঙ্গেন-এর গবেষকদের পরীক্ষা এখন প্রথম ধাপে রয়েছে৷ ১৫ জন রোগী এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন৷ এর মধ্যে বাভারিয়ার ২১ বছর বয়সি এক রোগীও আছেন৷ তাঁর দেহে ইমিউন সেল প্রতিস্থাপন করা হয় গত মার্চ মাসে৷ এখন তিনি বাড়িতে আছেন৷ শরীরের অবস্থা চমৎকার৷ হাসপাতালে নিয়মিত পরীক্ষা করাতে আসেন তিনি৷ এই তরুণই বিশ্বে প্রথম ব্যক্তি, যার শরীরে ইমিউন সেল প্রতিস্থাপন করা হলো৷ আনন্দের সুরে বলেন গবেষক মাকেনসেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন