1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

লাস্ট ট্যাঙ্গোর মারিয়া স্নাইডার আর নেই

মাত্র ৫৮ বছর বয়সে চলে গেলেন বের্তোলুচ্চির সেই যৌন-আবেদনপূর্ণ ছবির ফরাসি নায়িকা৷ সঙ্গে নিয়ে গেলেন আধুনিক সংস্কৃতির, হলিউডের ইতিহাসের এক টুকরো৷

default

লাস্ট ট্যাঙ্গোর একটি দৃশ্যে ব্র্যান্ডো এবং স্নাইডার

তা না হলে এ' কাহিনী শোনানোর প্রয়োজন পড়তো না৷ কেননা ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফির যুগে - অন্তত পশ্চিমে - বের্তোলুচ্চির সেই ১৯৭২ সালের ছবি দেখে কেউ বিস্মিত হবেন কিনা সন্দেহ৷ তবে সে আমলে হলিউডের নীতিবাগিশতা এবং শুচিবাই, দু'টোই একটা ধাক্কা খেয়েছিল - এ' কথা বলেছেন ‘লাস্ট ট্যাঙ্গো ইন প্যারিস' ছবির পরিচালক বের্নার্দো বের্তোলুচ্চি নিজেই৷ এবং বলেছেন মারিয়া স্নাইডারের মৃত্যু উপলক্ষে৷

লাস্ট ট্যাঙ্গোর প্লট বলতে প্যারিসে এক মাঝবয়সি মার্কিনির সঙ্গে এক ফরাসি তরুণীর ব্যবসায়িকভাবে দৈহিক সম্পর্কের কাহিনী৷ ছবিটির ধাক্কা বলতে ছিল প্রধানত তিন: প্রথমত, ৪৮ বছর বয়সি মার্লন ব্র্যান্ডোর নিজস্ব আভিজাত্য৷ দ্বিতীয়ত, ১৯ বছর বয়সের মারিয়া স্নাইডারের যৌন আবেদন৷ তৃতীয়ত এমন সব দৃশ্য, যেগুলো আজও বহু দেশের সেন্সর বোর্ডে আটকে যাবে৷

যাই হোক, আজ মারিয়া মারা যাবার পর তাঁকে নারী স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে৷ কিন্তু লাস্ট ট্যাঙ্গোর শুটিং'এর সময় ১৯ বছর বয়সের মারিয়ার মনে হয়েছিল, তাঁকে অপব্যবহার করা হচ্ছে৷ বের্তোলুচ্চিকে তাঁর ভালো লাগেনি৷ সেক্স সিম্বলে পরিণত হতেও তাঁর ভালো লাগেনি৷ পরে ছবির রিলিজের পর ছবি নিয়ে কেলেঙ্কারিতে মাথা খারাপ হবার যোগাড় হয়েছিল, নার্ভাস ব্রেকডাউনও হয়েছিল৷

Bernardo Betolucci und Maria Schneider

লাস্ট ট্যাঙ্গোর মুহররতে বের্তোলুচ্চি এবং স্নাইডার

নার্ভাস ব্রেকডাউন থেকে ড্রাগস৷ আশির দশকে সেরে উঠে মারিয়া স্নাইডার আবার ছবি করা শুরু করেন৷ কিন্তু জীবনে আর কখনো নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করতে চাননি৷ শেষ জীবনে তাঁর অভিযোগ ছিল, লাস্ট ট্যাঙ্গো তাঁর সহজাত যৌবন কেড়ে নিয়েছে৷ - আজ বের্তোলুচ্চি বলছেন, লাস্ট ট্যাঙ্গোর যৌন দৃশ্যগুলোতে তিনি যে মারিয়াকে দিয়ে অভিনয় করিয়েছেন, সেজন্য তাঁর মারিয়ার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার ইচ্ছা ছিল৷

মারিয়া স্নাইডারকে এই দৃষ্টি থেকে দেখলে মনে হবে, তিনি শুধু অতীতেরই নন, আমাদের এই ঘোর উদারপন্থি বর্তমানকেও যেন তাঁর কিছু বলার আছে৷

প্রতিবেদন: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সম্পাদনা: আরাফাতুল ইসলাম