1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

লাল থেকে সবুজ হওয়া বাংলায় দায়িত্বের পাহাড়ের ওপর মমতা

সুদীর্ঘ চৌঁত্রিশ বছর পর বদলে গেল পশ্চিমবঙ্গের দৃশ্যপট৷ লাল থেকে সবুজ৷ বাম থেকে তৃণমূল৷ এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় শুধুই আবেগ নয়, আছে দায়িত্বও৷ পটভূমি বদলে ফেলার পর সেই দায়িত্বকেই প্রথমে মর্যাদা দিতে চাইছেন মমতা৷

default

জোটের হাতে ২২৭, তৃণমূল একাই ১৮৪

গোটা পশ্চিমবঙ্গেই বদলে গেছে পুরো ছবি৷ শেষ নির্বাচনেও যেখানে বামজোটের দখলেই ছিল সব, মাত্র পাঁচ বছরের কম সময়ে সেই পশ্চিমবঙ্গের হাওয়া পুরো ঘুরে গিয়েছে বিরোধীদের দিকে৷ খুলে বললে, বাম বিরোধীতার দিকে৷ শেষ পর্যন্ত বামপন্থী জোট মাত্র ৬২টি আসনের দখল রাখতে পেরেছে৷ যাতে সিপিআইএমের আসন ৪০টি৷ হেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য সহ আবাসন মন্ত্রী গৌতম দেব, অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত৷ নামজাদা নেতাদের হারের তালিকাটা এতটাই দীর্ঘ যে তার থেকে এটা স্পষ্ট প্রমাণ হয়ে গেছে যে গোটা মন্ত্রিসভাটাকেই দূরে ঠেলে দিয়েছেন রাজ্যের মানুষ৷ আর মানুষের অকুন্ঠ সমর্থন পেয়ে বাংলার রাজনীতির রঙকে লাল থেকে সবুজে বদলে ফেলেছে মমতার নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস আর কংগ্রেসের জোট৷ কংগ্রেস এককভাবে জিতেছে মোট ৪২ টি আসন৷ এর বাইরে এস ইউ সি একটি এবং দুটি আসন নির্দলের দখলে আর পাহাড়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার দখলে তিনটি আসন৷ মোট ২৯৪ আসনের বিধানসভায় এমন পরিপূর্ণ ভরাডুবির মুখে দীর্ঘ ৩৪ বছর পর বামফ্রন্ট৷

বিরোধীতার রাজনীতি থেকে এবার দায়িত্বের রাজনীতি

সেই ১৯৮২ সাল থেকে প্রায় ছাত্র অবস্থাতেই রাজনীতিতে এসেছিলেন যে তরুণী, সেদিনের সেই মমতা ব্যানার্জ্জীই আজ হতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী৷ কলকাতার দক্ষিণাঞ্চলের কালিঘাটের সামান্য নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান আসলে শুধুমাত্র বাম বিরোধীতায় ভর করেই৷ সারা জীবন প্রতিবাদের রাজনীতি করে, কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে নিজের আলাদা দল গড়ে তিনি অবশেষে প্রমাণ করে দিলেন, বামদুর্গে ফাটলই শুধু নয় , গোটা দুর্গটাকে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়াও সম্ভব৷ তারই প্রতিফলন ঘটে গেল বামফ্রন্টের জন্য গতকালের তেরো মে'র কালো শুক্রবারে৷ লহমায় ইতিহাস তৈরি হল গোটা দুনিয়ার সামনে৷ কিন্তু তারপরের দায়িত্বটা অনেক বেশি বড়৷ সেকথা জানেন বলেই ইতিমধ্যে সেই চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করে নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী৷ রাজ্যের উন্নয়ন আর মা মাটি মানুষের জন্য সুশাসনই হবে তাঁর নতুন সরকারের মূল মন্ত্র৷ একথা ঘোষণা করেই বলে দিয়েছেন, চ্যালেঞ্জ আছে তা তিনি জানেন৷ তবে, সেটাকে কিভাবে মোকাবিলা করা যায় তাও তাঁর জানা আছে৷

হারের ব্যাখ্যা নাকি দোষারোপ

কিন্তু কেন এই শোচনীয় ফলাফল বামেদের? এর জবাবে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব বাবুর মন্তব্য, ‘বুঝতে পারিনি৷' রাজ্য সিপিএমের প্রধান ব্যক্তিত্ব বিমান বসু ইতিহাসের স্মরণাপন্ন হয়ে বলেছেন, ‘এমন হয়৷ ইন্দিরা গান্ধীকেও হারতে হয়েছিল৷' আর এবারের নির্বাচনী যুদ্ধে বাম সেনাপতি আবাসনমন্ত্রী গৌতম দেবের বক্তব্য, ‘মানুষ আমাদের কথা বিশ্বাস করেন নি৷' তবে, কেন এই হার তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ এখনও শুরু করতেই পারে নি বামেরা৷ বরং তার বদলে যেটা এই মুহূর্তে চলছে, তা হল এই হারের জন্য একে অপরকে দোষারোপের কূট তর্কাতর্কি৷ যদিও, দীর্ঘ ৩৪ বছরের শাসনের পর বামেদের সামনে অপেক্ষা করছে বিরোধী আসনে বসার তিক্ততা৷ গঠনমূলক বিরোধীতার কথা শোনা যাচ্ছে নেতাদের মুখে৷

কিন্তু বদলটা ঘটে গেছে৷ আর সেটা সত্যিই ‘গঠনমূলক৷' আর যাই হোক, এই বিপুল জনসমর্থনের জনাদেশ কখনোই ‘অমূলক' নয়৷

প্রতিবেদন: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্পাদনা: জান্নাতুল ফেরদৌস

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়