1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

লাদাখে জার্মান বাড়ি

জার্মানির আখেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যদি হিমালয়ের শীর্ষে লাদাখে বাড়ি তৈরি করার সুযোগ পান, তবে সেটা দেখতে কেমন হবে? আর তাতে নতুনত্বই বা থাকবে কতটা?

default

লাদাখ

সে স্কুলবাড়ি কি লাদাখ অঞ্চলের অন্যান্য বাড়িগুলোর মতোই দেখতে হবে? নাকি তাতে ইউরোপীয় কায়দার ছাদ কিংবা জানলা থাকবে? সব মিলিয়ে গড়ে উঠবে লাদাখবাসীদের মনপসন্দ স্কুলভবন৷

গরম, ধুলোবালি, এত উঁচুতে বাতাসও পাতলা – হিমালয় মানুষ বা যন্ত্র, কাউকেই ছেড়ে কথা বলে না৷ ২০১৩ সালের জুলাই মাসে জার্মানির আখেন শহরের একদল ছাত্র ভারত যাত্রা করেছিল৷ উদ্দেশ্য ছিল, এমন এক ধরনের বাড়ি তৈরি করা, যা চরম আবহাওয়ার মধ্যেও টিকে থাকবে, আবার প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিজেই তৈরি করবে৷

আখেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক জো রুয়ফ বলেন: ‘‘এ ধরনের এলাকার জন্য বাড়ির নকশা বানানো স্বভাবতই একটা চ্যালেঞ্জ৷ এলাকাটা অপরিচিত; কোথায় বাড়ি বানানো হবে; খরচ কী ধরা হয়েছে; জ্ঞান কতটা; কারা সে কাজ করতে পারে ইত্যাদি৷''

Grenzkonflikt Indien China Ladakh

লাদাখে যাওয়ার রাস্তা

লাদাখ যাত্রার এক বছর আগেই পরিকল্পনা শুরু হয়৷ ছাত্ররা তাঁদের সব আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করেন, নকশা আঁকেন৷ এই সব উঠতি স্থপতিদের সামনে আসল চ্যালেঞ্জ হলো, ভারতীয় সংস্কৃতি ও আধুনিক নির্মাণ-পদ্ধতির মধ্যে সমন্বয় সাধন – তাও শুধুমাত্র প্রথাগত মালমশলা দিয়ে৷ এ কাজে তারা সাহায্য পান বাড়ি তৈরির ঠিকাদার সোনাম গিয়াৎসো-র কাছ থেকে৷ সোনাম ঠিক সে জন্যেই ভারত থেকে জার্মানিতে এসেছিলেন৷ সোনাম জানান:

‘‘আমাদের যখন একটা বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা থাকে, তখন এক বছর আগে থেকেই সব কিছু যোগাড়যন্ত্র করে ৫০০ কিলোমিটার দূরে সাইটে পাঠাতে হয়৷ ট্যাক্সিতে যেতে সময় লাগে দু'দিন, ট্রাকে পাঁচ থেকে ছ'দিন – সেটাই হলো সমস্যা৷''

হিমালয়ের কোলে স্কুলবাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায় মে মাসেই৷ তবে অনেক কিছুই যন্ত্রের বদলে হাতে করা হয়, কেননা বাজেট যৎসামান্য৷ অন্যদিকে সারা গ্রামের মানুষ হাত লাগায়! কুড়িয়ে পাওয়া পাথর ও সিমেন্ট দিয়েই দুই তলা বাড়ির ভিত্তি তৈরি হবে৷

প্রথম কয়েক সপ্তাহ বেশ ভালোই কাজ চলে: নীচের তলা তৈরি প্রায় শেষ, জানলা-দরজা লাগানো হয়ে গেছে৷ ১৪ জন মজদুর সপ্তাহে সাতদিন দশ ঘণ্টা করে কাজ করেছেন৷ প্রচুর কাজ, কেননা বাড়ি তৈরিতে ২০ হাজার ইট বসাতে হবে – হাতে তৈরি করা ইট৷ ঠিকাদার সোনাম গিয়াৎসো সন্তুষ্ট: সব কিছু পরিকল্পনা মতো চলেছে৷ ছাত্ররাও সাহায্য করছে৷

তবে জার্মান ছাত্র গেয়র্গ শেন্ডশিলর্ৎস যেমন বলেন: ‘‘৩,৭০০ মিটার উচ্চতায় কাজ করাটা খুবই কষ্টকর – আমি এখনও হাঁপাচ্ছি৷ প্রথমদিকে তো এ রকমভাবে কাজ করার কথা ভাবাও যায়নি; অ্যাক্লিমেটাইজেশন, অর্থাৎ অভ্যস্ত হবার প্রশ্ন ছিল৷''

একতলার ছাদ তৈরির ভিত্তি হল দুমা বা মোটা কাঠের লক্কড়৷ প্রতি ঘরে বেজোড় সংখ্যার দুমা লাগাতে হবে: সেটাই হলো এই অঞ্চলের মানুষদের সংস্কার৷ দুমার উপরে পাতলা পাতলা থালু বসাতে হবে৷ এগুলো হলো ছাদের নীচের দিকের অংশ, যার উপর ছড়িগুলো বসানো হয়৷ পরে এর ওপর কাঠের মেঝে বসে৷ দুমা, থালু, তার উপর ছোট ছোট ডালপালা৷ সবশেষে মাটি লেপে ছাদটি নিশ্ছিদ্র করা হয়৷

স্কুলভবনের মূল ছাদটি তৈরি আখেনের ছাত্রদের পক্ষে আরো সমস্যাকর, কেননা এই এলাকার জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটেছে৷ ক্রমেই আরো বেশি বৃষ্টিপাতের কারণে প্রথাগত সমান্তরাল মাটির ছাদে আর কাজ চলে না৷ কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার রাইনার লেৎসিউস ব্যাখ্যা দিলেন: ‘‘মাটির ছাদ বৃষ্টিধারার আঘাত সইতে পারে না৷ কাজেই সামান্য একটু ঢালু টিনের ছাদ দিয়ে জল যাতে ভালোভাবে বয়ে যেতে পারে, তার ব্যবস্থা করতে হবে৷ কিন্তু আপাতত লাদাখের প্রথাগত বাড়ির আকৃতি বজায় রাখতে হবে, যাতে জনসাধারণ তা মেনে নেয়৷''

বাড়িটি যাতে সূর্যের তাপ ধরে রাখতে পারে, সে জন্য সেটা সূর্যের দিকে মুখ করে বানাতে হবে৷ মোটা দেওয়ালগুলো তাপ ধরে রাখে, সেই সঙ্গে জার্মানির মতো ডবল কাচের জানলা বসিয়ে বাইরের ঠাণ্ডা রোখা হয়৷ শুধু ‘পেন্ট রুফ' বা ওপরের ছাদটি ইউরোপীয় কায়দায় তৈরি হচ্ছে৷ ছ'মাসের মধ্যেই স্কুলের বাড়ি তৈরি শেষ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়