1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘‘লাথি মারিনি পা এগিয়েছি’’, বললেন সাংসদ রনি

সাংবাদিক নির্যাতনের পর ফেসবুক স্ট্যাটাসে পদত্যাগ করতে পারেন বললেও শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেননি পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সরকার দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি৷

তিনি ডয়চে ভেলের কাছে দাবি করেন, তাঁকে নিয়ে আওয়ামী লীগ বা জাতীয় সংসদ বিব্রত নয়, তাই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন৷

সাংসদ গোলাম মাওলা রনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে পদত্যাগের কথা বলেন সোমবার৷ এরপর মঙ্গললবার সকাল থেকেই গুজব ছিল যে তিনি পদত্যাগ করছেন৷ দুপুরে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে দেখা করতে গেলে এই গুজব আরো প্রবল হয়৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ না করেই স্পিকারের কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন৷ রনি ডয়চে ভেলেকে জানান যে, তিনি স্পিকারের কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন, তাতে সংসদ বিব্রত কিনা? জবাবে স্পিকার তাঁকে বলেছেন যে এটা সংসদের কোনো বিষয় নয়, ব্যক্তিগত বিষয়৷ তাই সংসদের বিব্রত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না৷ এছাড়া, তাঁর দল আওয়ামী লীগও তাঁকে নিয়ে বিব্রত নয় বলে জানান রনি৷ দলের প্রধান, আওয়ামী লীগ বা সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাঁকে কেউ পদত্যাগ করতে বলেননি৷ উপরন্তু অনেকে সহানুভূতি জানিয়েছেন৷ সবাই বলেছেন, ব্যক্তিগত বিষয় ব্যক্তিগতভাবে মোকাবেলা করার জন্য৷ আর এসব কারণেই শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেননি তিনি৷

তবে এরই মধ্যে সাংবাদিকরা রনিকে গ্রেপ্তার এবং তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিলের জন্য সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন৷ তাঁরা রনিকে সাংবাদিকদের শত্রু বলেও ঘোষণা করেছেন৷ এছাড়া, তাঁকে বয়কটের আহ্বান জানানো হয়েছে আগেই৷

এর জবাবে রনি বলেন, শনিবারের ঘটনায় ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে৷ তিনি আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছেন৷ তিনিও সালমান এফ রহমানসহ ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের দুই সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন৷ দুটি মামলারই সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ প্রমাণ হয় তাহলে তিনি যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবেন৷ তিনি দাবি করেন, শনিবার তিনি সাংবাদিকদের লাথি মারেননি বা নির্যাতন করেননি৷ তিনি হেঁটে তাঁর অফিসে যাচ্ছিলেন৷ পা এগিয়েছেন৷ আর তাকেই লাথি বলে চালানো হচ্ছে৷ তাহলে তাঁর অফিসের সামনে সাংবাদিকদের মারধোর করল কারা? এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তেই তা বেরিয়ে আসবে৷ তিনি দাবি করেন, আরো অনেক ঘটনা আছে যা তিনি বলতে চান না৷ তাই তদন্ত এবং বিচারে দোষি প্রমাণ হওয়ার আগে রনি তাঁকে বয়কট না করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানান৷ তাঁর প্রশ্ন, সংবাদমাধ্যম যদি কারুর কথা বলা বন্ধ করে দিতে চায় তাহলে তা কিভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতা হয়?

রনির বিরুদ্ধে ২০০৯ সালেও তাঁর নির্বাচনী এলাকা পটুয়াখালীর গলাচিপা এবং দশমিনায় নদী দখল এবং সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে৷ এর জবাবে তিনি বলেন, এটা তাঁর স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অপ্রপচার৷ শনিবার ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যান তোপখানায় তাঁর অফিসে ২ কোটি টাকা ঘুস লেনেদেন হতে পারে খবর পেয়েই গিয়েছিল৷ তবে রনি বলেন, সিড়িতে ক্যামেরা নিয়ে প্রকাশ্যে বসে থেকে ঘুস লেদেনের দৃশ্য পাওয়া যায় কিনা – এটি একটা প্রশ্ন৷ আর তাই যদি হয়, তাহলে কোন কাজে কে তাঁকে ঘুস দিত তা প্রকাশ করুক ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন৷ রনি বলেন, যার ঘুস দেয়ার কথা ছিল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ধরে তদন্ত করলেই তা স্পষ্ট হবে৷

এদিকে রনির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের খবরও প্রকাশ পেয়েছে সংবাদমাধ্যমে৷ তবে রনি দাবি করেন, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি নিয়ে টক শো-তে কথা বলায় সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন তাঁর বিরুদ্ধে লেগেছে৷ সালমান এফ রহমান দেশের বাইরে থাকায় তাঁর বক্তব্য অবশ্য জানা যায়নি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন