1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

লাজারত: ইউরোপের বৃহত্তম গাঁজা উৎপাদন কেন্দ্র

ইউরোপের গঞ্জিকা রাজধানী কোথায়, এ প্রশ্ন উঠলে নেদারল্যান্ডস নয়, দক্ষিণ আলবেনিয়ার একটি ছোট কিন্তু অতীব সমৃদ্ধিশালী গ্রামের কথা বলা যেতে পারে৷ গ্রামটির নাম লাজারত, যেখানে মাঠে-ঘাটে বাড়ির-বাগানে, সর্বত্র গাঁজার চাষ হয়৷

হঠাৎ পুলিশ এসে গেলে অবশ্য তাদের দিকে বন্দুকের গুলি, এমনকি রকেট-চালিত গ্রেনেড বা মর্টার ছোঁড়াও আশ্চর্য নয়৷ এই অভিনব অভ্যর্থনার কারণ হলো, স্থানীয় মাদকপাচারকারী গোষ্ঠীরা পাঁচ হাজার বাসিন্দার এই প্রান্তিক জনপদটিকে ইউরোপের বৃহত্তম বেআইনি গাঁজা উৎপাদন কেন্দ্রের পরিণত করেছে৷

পাহাড়ে ঘেরা সবুজ উপত্যকা৷ তারই কোলে লাজারত গ্রাম, দশ বছর আগেও যা ছিল চাষিদের গ্রাম৷ আজ সেখানে বছরে ন'শো মেট্রিক টন ক্যানাবিস উৎপন্ন হয়, কালোবাজারে যার মূল্য ৪৫০ কোটি ইউরোর বেশি, যা কিনা বলকান প্রদেশের ছোট্ট দেশটির জিডিপি-র প্রায় অর্ধেক৷

Albanien Marijuana Plantage im Dorf Lazarat

মারিজুয়ানার চাষ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে

আজ আর লাজারত গরিব-গুর্বোদের গ্রাম নয়৷ আজ সেখানে ঝাঁ-চকচকে দামি দামি গাড়ি চলে, সেই সঙ্গে দেখা যায় বড় বড় বাংলো প্যাটার্নের নানা বাড়ি৷ অথচ ৯০-এর দশকে আলবেনিয়ায় রাজনৈতিক তুলকালামের পর এই গ্রামের বহু বাসিন্দা বেকার হয়ে পড়েছিল৷ তাদের অনেকেই আবার কাজ করতো শুল্ক বিভাগে, চোরাচালান রুখতে, কেননা গ্রিস সীমান্ত এখান থেকে বেশি দূর নয়৷

সে যাবৎ মারিজুয়ানার চাষ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে, কেননা দুই প্রতিবেশি দেশ গ্রিস আর ইটালি থেকে চাহিদার কোনো অন্ত নেই৷ এছাড়া এশিয়া ও ল্যাটিন অ্যামেরিকা থেকে ইউরোপ অভিমুখে ড্রাগস চোরাচালানেও আলবেনিয়া একটা বড় ‘ট্র্যানজিট পয়েন্ট'৷ ইতিপূর্বে সরকারি কর্তৃপক্ষ ড্রাগ গ্যাংগুলিকে মোটামুটি শান্তিতেই থাকতে দিয়েছেন – বিশেষ করে পুলিশ পাঠালে যখন গুলি অথবা মর্টার চালিয়ে তাদের স্বাগত জানানো হয়৷

কিন্তু গতবছর আলবেনিয়ায় সমাজতন্ত্রী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকার প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, তারা ঝাড়ে-মূলে এই পাপের উচ্ছেদ করবেন – বিশেষ করে যখন আলবেনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আশা রাখে৷ আলবেনিয়ার ইইউ-সদস্যতা-প্রার্থী দেশ হিসেবে গণ্য হওয়ার আবেদন তিন-তিনবার বাতিল হয়েছে, যার পথে মূল অন্তরায় ছিল সংগঠিত অপরাধবৃত্তি এবং দুর্নীতি

কাজেই এ সপ্তাহে ৫০০ পুলিশ পাঠানো হয়েছিল লাজারতে আইন-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে৷ গ্রামের ধারেকাছে পৌঁছাতে না পৌঁছাতে পুলিশকে রকেট-চালিত গ্রেনেড আর মর্টারের গোলা এবং সেই সঙ্গে মেশিন-গানের গুলির মুখোমুখি হতে হয়েছে৷ এ সবই আবার স্থানীয় টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে৷ মঙ্গলবার পুলিশের সংখ্যা বাড়িয়ে ৮০০ করা হয়; পুলিশ গ্রামের এক-চতুর্থাংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়৷ বুধবারে পুলিশ আরো কিছুটা এগোতে সমর্থ হয়েছে, ইত্যাদি৷

দেখে-শুনে মনে হবে যেন যুদ্ধ চলেছে! কিন্তু বস্তুত এই অসম যুদ্ধে কেউ নিহত হয়নি; একজন পুলিশ আর তিনজন গ্রামবাসী হাল্কা গুলির আঘাত পেয়েছে, তার বেশি কিছু নয়৷ আর গ্রামের ওপর যে ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে আকাশে উঠছে, তা হলো গাঁজা পোড়ানোর ধোঁয়া – খানিকটা পোড়াচ্ছে পুলিশ, বাকিটা গ্রামবাসীরা নিজেই, যা-তে তা ধরা না পড়ে৷

বুধবার সকালের মধ্যেই নাকি গ্যাং লিডার পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, সুদীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর৷ এছাড়া সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷

ইউরোপের গঞ্জিকা রাজধানীর এখানেই সমাপ্তি কিনা – তা অবশ্য অজ্ঞাত!

এসি/ডিজি (এপি, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন