1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

লাখো বাঙালির কণ্ঠে ধ্বনিত হলো জাতীয় সংগীত

লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশের মানুষ৷ গিনেস বুকে স্থান করে নেবার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহাসিক এই আয়োজনটি করে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়৷

বুধবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে গাওয়া হয় গানটির প্রথম ১০ লাইন৷ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট নাগরিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সেনাসদস্য, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পোশাক শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হয়ে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে ঠোঁট মেলান৷ আর এই সংগীত পরিচালনা করেন বিশিষ্ট সুরকার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক সুজেয় শ্যাম৷ বিশ্বরেকর্ডে অংশ নিতে ভোর থেকেই জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড অভিমুখে লাখো মানুষের ঢল নামে৷ দীর্ঘ লাইন ধরে প্যারেড গ্রাউন্ডের ভেতরে প্রবেশ করেন সবাই৷ এ সময় প্রত্যেককে একটি ব্যাগ দেয়া হয়৷ এতে জাতীয় পতাকা, গানের বাণী ও প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা লেখা কার্ড, পানির বোতল, স্যালাইনসহ হালকা নাস্তাও ছিল৷

জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মিলিয়ে ইতিহাস গড়ার এই আয়োজনে তেজগাঁও জাতীয় প্যারেড ময়দানের জনসমুদ্রে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ সকাল সাড়ে ১০টায় গাড়ি থেকে নেমে পতাকা হাতে ৯ নম্বর সেক্টরের ব্লকের উত্তর দিকে নির্মিত মঞ্চে উপস্থিত হন৷ সেখান থেকেই জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মেলান তিনি৷ জাতীয় সংগীত শুরুর আগে আট মিনিটের ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী৷ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী৷ একই সঙ্গে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার এই আয়োজনে অংশ নেয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা৷ তিনি বলেন, ‘‘বাঙালি সবসময় ইতিহাস সৃষ্টি করে৷ বাঙালি আবার নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে৷ আমাদের জাতীয় সংগীত, যে সঙ্গীতের মধ্যে দিয়ে আমরা আমাদের ভালোবাসা জানাই দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি৷ যে জাতীয় সংগীত আমাকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বেলিত করে, আমাদের চেতনার অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত করে, সেই জাতীয় সংগীত লাখো কণ্ঠে আমরা গাইব, যা বিশ্বে ইতিহাস হয়ে থাকবে৷''

এর আগে সকাল সাড়ে ৬টায় প্যারেড মাঠের ফটক খুলে দেয়ার আগেই নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে পায়ে হেঁটে এসে বাইরে জড়ো হতে থাকে নানা বয়সী নারী, পুরুষ ও কিশোর৷ প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রতি ৫০ জন লোককে নিয়ে তৈরি করা হয় একটি করে ব্লক৷ মোট ব্লকের সংখ্যা ছিল ছয় হাজার৷

মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ছাত্র রাজীব রুদ্র ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা ক্লাসের বন্ধুরা একসঙ্গে এখানে এসেছি৷ খুব ভাল লাগছে, আমরাও সবার সঙ্গে জাতীয় সংগীত গেয়েছি৷ বিশ্ব রেকর্ডের অংশ হতে পেরে খুবই ভালো লাগছে৷'' কাদের উত্সাহে এখানে এসেছেন জানতে চাইলে রাজীব বলেন, ‘‘কেউ আমাদের এখানে আসতে ওভাবে উত্সাহিত করেনি৷ নিজেদের ইচ্ছায়, ভালোলাগা থেকে এখানে এসেছি৷'' আরেক ছাত্র রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘‘বিশ্বরেকর্ডের অংশ পেরে খুব ভালো লাগছে৷ আর এত মানুষের সঙ্গে একসাথে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মজাই আলাদা৷ সত্যি নিজের মধ্যে অন্যরকম শিহরণ কাজ করছে৷''

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সারা দেশে ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা' কর্মসূচি নিয়ে তত্পরতা শুরু হয়৷ শুদ্ধ করে জাতীয় সংগীত গাওয়ার জন্য, সঠিক সুরে গাওয়া জাতীয় সংগীতের অডিও রেকর্ড শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়৷ সেই অডিও থেকে সঠিক সুরে জাতীয় সংগীত গাওয়ার প্রশিক্ষণ ও মহড়া হয়েছে সারা দেশে৷ সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের এই আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন