1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

লন্ডন যাবে যৌনকর্মী আর চাওয়ালার গর্বিত সন্তান

একজনের মা যৌনকর্মী৷ অন্যজন মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে দিনমান খেটে মরে কলকাতার রাস্তায়৷ বাঙালি ঘরের এই দুটি ছেলের অর্থের অভাব আছে বটে, কিন্তু ফুটবলপ্রতিভায় তাঁরা ধনী৷ সেই সুবাদে লন্ডন যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা!

রাজিব রায় আর অর্ক দে লন্ডনে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর৷ স্বপ্নপূরণ এখন শুধু সময়ের ব্যাপার৷ ভারত জুড়ে ক'দিন আগেই হয়ে গেল ফুটবলপ্রতিভার অন্বেষণ৷ সোনাগাছির যৌনকর্মীর ছেলে রাজিব আর রাস্তার ধারের ছোট্ট চা-দোকানের কর্মী অর্কও গিয়েছিলেন ভারতের গোয়া রাজ্যে অনুষ্ঠিত সেই কর্মসূচিতে নিজেদের যোগ্যতার পরীক্ষা দিতে৷ ১২০ কোটিরও বেশি মানুষের দেশ থেকে মাত্র ১১ জন খুদে ফুটবলার বেছে নেয়ার সেই পরীক্ষায় সবাইকে চমকে দিয়েছে রাজিব আর অর্ক৷ কঠিন পরীক্ষায় দু'জনই পাশ৷ দু'জনই পেয়েছেন ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাবের ‘সকার স্কুল'-এ প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়ার সুযোগ!

এমন সুযোগ যে কোনো কিশোর ফুটবলারের জন্যই আজন্ম লালিত স্বপ্নপূরণের মতো৷ রাজিব আর অর্ক-র আনন্দটা একটু বেশি, কেননা, দু'জনই খুব গরিবঘরের সন্তান৷ দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত দু'জনের ছোট্ট জীবনেই জমা হয়েছে অনেক বঞ্চনা আর অবহেলার তিক্ত অভিজ্ঞতা৷ রাজিব তো মা যৌনকর্মী বলে এতদিন শুধু ঘৃণাই পেয়ে এসেছেন৷ অর্ক পিতৃহীন৷ রাস্তার পাশে চা বিক্রি করে কোনোরকমে সংসার চালান তাঁর মা৷ গরিবের সন্তান বলে তিনি-ও কারো কাছ থেকে খুব একটা স্নেহ-ভালোবাসা পাননি৷ তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাবের ‘সকার স্কুল'-এর ডাক পাওয়ার পর দু'জনেরই ভাগ্য ফিরেছে৷ এলাকাবাসী এখন গর্ব করে তাঁদের নিয়ে৷

সুযোগটা পেয়ে রাজিব খুব গর্বিত৷ কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজ মা-কে বাঁকা চোখে দেখলেও তাঁর কাছে মা পৃথিবীর আর সব শিশুর মায়ের মতোই প্রিয়৷ বার্তা সংস্থা এএফপিকে রাজিব বলেছে, ‘‘যৌনকর্মীর সন্তান বলে আমি মোটেই লজ্জিত নই৷ আমার জীবনে মা-ই সবচেয়ে বড় প্রেরণা৷ আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মা-কে যৌনপল্লী থেকে দূরে নিয়ে যেতে চাই৷''

রাজিবের মা-ও তা-ই চান৷ অভাবের তাড়নায় ‘নিষিদ্ধপল্লী'-র বাসিন্দা হয়েছেন তিনি৷ অন্যরা তো বটেই, এমনকি দেহের ক্ষুধা মেটাতে যাঁরা তাঁর কাছে আসেন, প্রকাশ্যে তাঁরাও অশ্রদ্ধার চোখেই দেখেন তাঁকে৷ রাজিব সংসারের দারিদ্র্য দূর করার সুযোগ পেয়েছে জেনে তাঁর মা-ও তাই খুশি৷ ছেলে যাতে লন্ডন গিয়ে ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ আরো সুগম করে আসতে পারে– সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে এই বর পাওয়ার আশায় প্রতিদিন মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করেন তিনি৷

রাজিবের প্রিয় ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো৷ অর্ক ভালোবাসে ব্রাজিলের সাম্বা ফুটবল৷ তিন বছর আগে ক্যানসারে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত বাবা নিজে তাঁকে ফুটবল প্রশিক্ষন দিতেন৷ বাবা ছিলেন ব্রাজিল আর ব্রাজিলের জীবন্ত কিংবদন্তি পেলের ভক্ত৷ পেলের মতো অর্কও স্ট্রাইকার৷ পাড়ার খেলায় সুযোগ পেলেই গোল করেন৷ কোনো ম্যাচে গোল করা মানেই অন্য কোনো দলের হয়ে টাকার বিনিময়ে খেলার সুযোগ পাওয়া৷ এমন সুযোগ প্রায়ই পান অর্ক৷ ফুটবল খেলে যা আয় হয় তার পুরোটাই তুলে দেন তিনি মা সুচন্দার হাতে৷

আজকাল সুচন্দাও শুধু চায়ের দোকান নিয়ে বসে নেই৷ প্রতিদিন সময় করে তিন মাইল দূরের মন্দিরে হেঁটে হেঁটে যেতে হয় তাঁকে৷ রাজিবের মায়ের মতো ঈশ্বরের কাছে তাঁরও একটাই প্রার্থনা – ছেলে বড় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথ খুঁজে পেয়েছে, ঈশ্বর যেন মুখ না ফেরান!

এসিবি/ডিজি (এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন