1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ইংল্যান্ড

লন্ডন অগ্নিকাণ্ডে ৩০ জন নিহত, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ অনেকে

লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে ২৪ তলা আবাসিক ভবনে আগুন লেগে ৩০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ৷ বুধবার মধ্যরাতে পশ্চিম লন্ডনে গ্রেনফেল টাওয়ারে আগুন লাগে৷ আহত ৭৪ জনের মধ্যে ১৮ জনের অবস্থা আশংকাজনক৷

লন্ডনে বহুতল যে ভবনে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, সেখানে বসবাসরত একটি বাঙালি পরিবারের খোঁজ মেলেনি ২৪ ঘণ্টা পরও৷ অগ্নিকাণ্ডস্থল গ্রেনফেল টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে কমরু মিয়া, তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে থাকতেন৷ তাদের কারও মোবাইল ফোনেই রাত আড়াইটার পর থেকে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না৷ কমরু মিয়ার মেয়ে হোসনার বিয়ে আগামী ২৯ শে জুলাই৷

লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের কমিশনার ড্যানি কটন জানিয়েছেন, তাঁর ২৯ বছরের চাকরিজীবনে এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড আর দেখেননি৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে এই ঘটনায় অনেক প্রাণহানি ঘটেছে৷ কতজন নিহত হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়৷''

ড্যানি আরও জানিয়েছেন, ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত৷ তবে কীভাবে আগুন লেগেছে তা জানাতে পারেনি দমকলবাহিনী৷ ফায়ারব্রিগেডের কর্মীরা ভীষণ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি৷ 

ভবনটি থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে৷ ভবনটি যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে এই আশংকায় পুরো এলাকা ঘিরে রেখে সেখানে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ৷ লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এই দুর্ঘটনাকে ‘ভয়াবহ' বলে উল্লেখ করেছেন৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভবনের ভেতর থেকে তাঁরা মানুষের আর্তচিৎকার শুনতে পেয়েছেন৷ জানালায় অনেক মানুষকে দাঁড়িয়ে থেকে সাহায্যের আবেদন করতে দেখা গেছে৷

ঘটনাস্থল থেকে একজন টেলিভিশন প্রতিবেদক বিবিসি রেডিওকে জানান, ভবনের একেবারে উপরের তলায় অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন এবং টর্চ জ্বালিয়ে সাহায্যের আবেদন করছিলেন, কিন্তু বেরিয়ে আসার কোনো পথ ছিল না৷

আগুন দোতলা থেকে ২৪ তলা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে৷ ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তারা ২০০ দমকলকর্মী এবং ৪০টি ফায়ার ইঞ্জিন কাজে লাগিয়েছেন৷ লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড একসাথে কাজ করছে৷ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালে দ্রুত আহতদের পৌঁছে দেয়াকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে৷ অনেক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফায়ার এক্সিটেও আগুন ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধার কাজ প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

গত বছরই ভবনটির বাসিন্দারা কর্তৃপক্ষকে ভবনটির অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন৷ ভবনটিতে ১২০টি অ্যাপার্টমেন্টে অন্তত ৫০০ মানুষ অবস্থান করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে৷

এপিবি/এসিবি (এপি, এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন