1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

লন্ডনে এক সেমিনারে আওয়ামী লীগের অংশ না নেয়া নিয়ে বিতর্ক

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অফ লর্ডসে মঙ্গলবার বাংলাদেশ নিয়ে সংলাপে অংশ নেয়নি আওয়ামী লীগ৷ দলটির দাবি, তাদের অসত্য তথ্য দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল৷ আয়োজকরা বলছে, আওয়ামী লীগ নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে৷

বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার বিষয়ে অনুষ্ঠিত ঐ সংলাপে বিএনপি প্যানেল অংশগ্রহণ করলেও আওয়ামী লীগের প্যানেলটি অংশ না নেয়ায় ফলে একতরফা শুনানি অনুষ্ঠিত হয়৷

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘‘আমাদেরকে জানানো হয়েছিল যে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উদ্যোগে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে৷ কিন্তু পরে আমরা জানতে পারি এই সংলাপ একজনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে৷ ফলে আমরা এতে অংশগ্রহণ সমীচীন মনে করেনি৷''

অন্যদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানে যুক্তরাজ্যের আমন্ত্রিত সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে কেউ না যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন লর্ড কার্লি৷ তিনি দাবি করেন, শেষ মুহূর্তে কোনো উপযুক্ত কারণ ছাড়াই আওয়ামী লীগ নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে৷

উল্লেখ্য, সম্মেলনে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে প্রতিনিধিত্ব করার কথা ছিল সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমনি, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী ও অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমানের৷

অডিও শুনুন 01:39

‘শেষ পর্যন্ত তারা ওই সেমিনারে যাননি’

এক বিবৃতিতে লর্ড কার্লি বলেন, ‘‘যুক্তরাজ্যের সংসদে এই সেমিনারটি আয়োজন করা হয়, যেখানে ছিল স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ৷ বিষয়ভেদে পছন্দ-অপছন্দ বা মতবিভেদ থাকতে পারে৷ কিন্তু আমরা আমাদের সংসদীয় সিদ্ধান্তে অটল৷''

তিনি বলেন, ‘‘অংশগ্রহণকারী কেউ যদি অন্য কাউকে বাদ দিতে চায় তবে আমরা সেটা সৌজন্যতার অভাব বলে ধরে নেবো৷ কারণ সবারই কথা বলার সুযোগ আছে, থাকবে৷''

তিনি বলেন, বাংলাদেশি সরকারের প্রতিনিধিদল তাঁদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছিল৷ গত বছরেও লর্ড কার্লি ও এমপি আনা মেইন একইরকম সেমিনার আয়োজন করে, যেখানে আওয়ামী লীগ অংশ নেয়৷

লর্ড কালি বলেন, আওয়ামী লীগের অসত্য বিবৃতিতে তিনি হতাশ৷ লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের নাদিম কাদির এক বিবৃতিতে জানায়, ব্যক্তিগতভাবে আয়োজিত এই সংলাপের ব্যাপারে অবগত ছিল না আওয়ামী লীগ৷

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল, সংখ্যালঘু ও সেকিউলার মতাদর্শীদের নিয়ে যে সংকট চলছে সে সমস্যা সমাধানে এই সংলাপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল৷ এমনটাই দাবি লর্ড কার্লির৷ তিনি বলেন, ‘‘বিষয়গুলো ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে৷ আমরা আশা করেছিলাম বাংলাদেশ সরকার এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সংকট সমাধান করবে৷''

সংলাপে অংশ নিতে যুক্তরাজ্যে গিয়ে বিএনপি প্রতিনিধি দলও অবাক হয়েছে৷ তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তারা এমন আচরণে বিস্মিত৷ বিএনপির প্রতিনিধি দলের প্রধান আমির খশরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘‘আমরা সংলাপ শুরুর কিছুক্ষণ আগে জানতে পারি যে আওয়ামী লীগ অংশ নিচ্ছে না৷ আমাদের জন্য এটা খুবই বিব্রতকর ছিল৷''

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘‘আমরা প্রতারিত বোধ করেছি৷ কারণ এই সংলাপ ছিল ব্যক্তিগত উদ্যোগের, সংসদীয় নয়৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক কমিউনিটির কাছে লজ্জিত৷ তাদের মুখ দেখানোর মতো কোনো অবস্থা নেই৷ কারণ তারা ৫ জানুয়ারি সংবিধানের অজুহাত দেখিয়ে একটি জগণ্য নির্বাচন করার পর বাংলাদেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে স্বল্পসময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেবে৷ কিন্তু তারা ক্ষমতার লোভে আজ পর্যন্ত সেই ওয়াদা রক্ষা করেনি৷ ফলে গণতন্ত্রকামী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ রয়েছে৷''  

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল এখনো লন্ডনে আছে৷ এ নিয়ে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি৷ সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার নাদিম কাদিরকে ফোন করলে তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি৷ যদিও তিনি বলেছেন, বিষয়টা নিয়ে ড. মশিউর রহমান যে কথা বলেছেন সেটাই সর্বশেষ আপডেট৷

এদিকে লন্ডনে কর্মরত বাংলাদেশি সাংবাদিক মুনজের আহমেদ চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল ঐ সেমিনারে অংশ নিতেই লন্ডনে আসেন৷ সেমিনারের কয়েক ঘণ্টা আগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা আরেকটি অনুষ্ঠানেও একসঙ্গে অংশ নেন৷ তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা ঐ সেমিনারে যাননি৷ অথচ সেমিনারে জামায়াত নেতারারও অংশ নিয়েছেন৷''

তাঁর কথায়, ‘‘এটা হাউজ অফ লর্ডস-এর অনুষ্ঠান কোনো শুনানি বা সেমিনার নয়৷ সেখানে একটি হল ভাড়া করে ২০১০ সাল থেকে এই সেমিনার হয়ে আসছে৷ এটা সাধারণত ব্যক্তিগত উদ্যোগেই হয়ে থাকে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়