1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

লন্ডনের স্টক এক্সচেঞ্জে কোকো

শুধু সোনা আর তেল নয় ইদানিং লন্ডনের স্টকচেঞ্জে কোকো শোভা পাচ্ছে৷ লন্ডনের একটি কোম্পানি কোকো আমদানি করে এরকম বেশ কিছু মার্কেট কিনে ফেলে এবং সেই কোকোর দাম বাড়িয়ে তুলে দেয়া হয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জে৷

default

কোকো বাগানে এক কৃষক

গত ৩০ বছরে কোকোর দাম বাড়েনি৷ এই প্রথম৷ পশ্চিম আফ্রিকার আইভরি কোস্টে কোকোর উৎপাদন সবচেয়ে বেশি৷ অন্য কোনো দেশে এত কোকো উৎপাদিত হয় না৷ কোকোর দাম বেড়েছে সেই আনন্দেই কোকো চাষীরা মাতোয়ারা৷

এদি এনবুরু সারাজীবন শুধু কোকো চাষ করে এসেছেন৷ কোকোই তাঁর জীবন৷ শুধু কোকো ক্ষেতেই তিনি কাজ করেছেন, অন্য কোথাও নয়৷ এদির বয়স এখন ৫০ -এর কাছাকাছি৷ ১০ সন্তানের জনক তিনি৷ নিজের কয়েক হেক্টর জমির ওপর কোকো চাষ করেন এদি৷ এখন ফসল তোলার সময়৷ ধারালো একটি ছুরি এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে তিনি ফসল তোলায় ব্যস্ত৷ কোকো ফলটি দেখতে অ্যামেরিকান ফুটবল খেলায় যে ধরণের বল ব্যবহার করা হয় – অনেকটা সেরকম৷ গাছের বোঁটায় ঝুলে থাকে কোকো৷ এদি ম্বুরু বলল, ‘‘আমরা শুধু পাকা কোকোগুলোই তুলি৷ এক সপ্তাহ পর অন্যগুলো৷ সেই সময়ের মধ্যে বাকিগুলো পেকে যায়৷ যেগুলো তারপরও কাঁচা থাকে সেগুলো দিয়ে তিতকুটে চকলেট তৈরি করা হয়৷''

Cacaonica Biokakao Frucht geöffnet Ritter Sport

কোকোর দাম আগের চেয়ে বেড়েছে

জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে কিন্তু কিছুই করার নেই

কোকোর দাম আগের চেয়ে বেড়েছে অনেক বেশি৷ এক টন কোকোর দাম তিন হাজার ইউরো৷ আগে এর অর্ধেকও ছিল না৷ একথাগুলো এদি শুনেছে৷ সত্যি কিনা জানে না৷ যখন দাম কম ছিল, তখন এদিকে অনেক বেশি করে কোকো উৎপাদন করতে হত শুধু পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য৷ কোনো বিরতি পায়নি জমি৷ বছরের পর বছর ধরে একই জমিতে একই ফসল ফলানো হচ্ছে৷ জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, কিন্তু সেদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই৷ এর ফলে যা হওয়ার তা-ই হয়েছে৷ ফসলের মান ভাল না৷ পর পর চার বছর একই ঘটনা ঘটলো৷ এদি একা নয়, অন্য কোকো চাষীদের বেলায়ও একই অবস্থা৷ এর সঙ্গে রয়েছে ছত্রাকের সমস্যা৷

এদি বললেন, ‘‘আমার খুব বেশি টাকা নেই৷ যদি টাকা থাকতো, তাহলে আমি আরো ভালভাবে জমিতে চাষ করতে পারতাম, গাছগুলোর যত্ন নিতে পারতাম৷ আমরা দিন আনি দিন খাই৷ এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা৷''

কোকো উৎপাদনে আইভোরি কোস্ট শীর্ষে

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যেমন তেলসমৃদ্ধ, আইভরি কোস্ট হল তেমনি কোকো সমৃদ্ধ৷ পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এত কোকো উৎপাদিত হয় না, যতটা হয় আইভরি কোস্টে৷ সারা বিশ্বে যত কোকো প্রয়োজন, তার প্রায় অর্ধেকেই আসে এই দেশটি থেকে৷

লঁসিন বাকায়োকো সবচেয়ে বড় শহর আবিদজানে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন৷ তিনি সরকারের সমালোচনা করে বললেন, ‘‘প্রায় ৬ হাজার কোকো চাষী রয়েছে৷ তারা সবাই নিজেদের জমিতেই চাষ করে৷ একটি জমিও সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই, সরকারের হাত নেই, নেই কোনো সাহায্য৷''

কথা সত্যি৷ আইভরি কোস্টের কোকো চাষ পুরোটাই ব্যক্তিমালিকানাধীন৷ কোকোর দাম বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু চাষীরা সেই লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে৷ অনেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্য কিছু চাষ করার৷ হারিয়ে যাচ্ছে কোকো, লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে উঠে আসার পরেও৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: মনিরুল ইসলাম