1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

রোহিঙ্গারা ভারতে নিরাপদ বোধ করে

রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত সম্প্রদায়ের একটি৷ কেউ তাদের চায় না৷ তাই নিজের ভিটে মিয়ানমার বা বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে এদের অনেকেই বাস করছে ভারতে, শরণার্থী বা আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে৷ চিনা কাপুর তুলে ধরছেন তাদেরই কথা৷

দিল্লির কালিন্দি কুঞ্জে সেতুর উপর দিয়ে হাঁটতে গেলেই নীচে চোখে পড়বে কিছু তাঁবু৷ কোনোটি প্লাস্টিক, কোনোটি প্লাই উড, টায়ার বা কাপড় দিয়ে বানানো৷ একটু ভালো করে লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে এরা মিয়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গা গোষ্ঠী৷ তারা একটি নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন, যেখানে তাদের মারধোর করা হবে না, ধর্ষণ বা হত্যা করা হবে না৷

কালিন্দি কুঞ্জে মোট ৩০৭ জন রোহিঙ্গার বাস৷ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা জাকাত ফাউন্ডেশন তাদের জন্য এই আশ্রয় স্থলটি নির্মাণ করেছে৷ ১১ হাজার স্কয়ার ফিট এলাকায় তাদের তাঁবুগুলো গড়ে উঠেছে৷ তবে মাত্র এক বছরের জন্য তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা হয়েছে এখানে৷ ঈদ উল-আজহার পর, ১০ দিনের মধ্যেই তাদের সরে যেতে বলা হয়েছে এখান থেকে৷ তবে এটাই প্রথমবার নয়৷ এর আগেও এক জায়গা ছেড়ে অন্য জায়গায় যেতে হয়েছে তাদের৷ আসলে প্রায়ই এভাবে বিভিন্ন স্থানে চলে যেতে হয় রোহিঙ্গাদের৷

মিয়ানমার সরকারের দৃষ্টিতে সে দেশে দশ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম রয়েছে, যারা অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে সেখানে গেছে৷ এ কারণে তাদের অনেকেরই কোনো জাতীয়তা নেই, নেই কোনো পরিচয়-পত্র বা কাগজ-পত্র৷ এ সব দেশে তারা প্রায়ই দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়ে এবং এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়৷ ফলাফল উদ্বাস্তু৷ বেশ কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গারা জাতীয়তাহীনভাবে মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে৷ এদের বেশিরভাগই মানবপাচার, নিগ্রহ ও ধর্ষণের শিকার হয় এবং অমানবিক জীবনযাপনে বাধ্য করা হয় তাদের৷

২০১২ সাল থেকে ১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম নৌকায় করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে৷ বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভারতে আশ্রয় নিয়েছে বেশিরভাগ রোহিঙ্গা৷ প্রশ্ন হলো, তাদের কি এতটুকু আন্তরিকতার সঙ্গে স্বাগত জানানো হয়েছে এ সব দেশে? সে যাই হোক, এই দেশগুলোর মধ্যে ভারতকেই শরণার্থীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ দেশ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে৷

৩৩ বছরের মোহাম্মদ ওসমানও মিয়ানমার থেকে ভারতে এসেছেন৷ দিল্লিতে আসার পথে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে জঙ্গলে তিন দিন খাবার ও পানি ছাড়া কাটাতে হয়েছিল তাঁকে৷ সেসব দিনের কথা বলতে গিয়ে ওসমানে চোখে আজও ভেসে ওঠে ভয়ংকর কিছু স্মৃতি৷ মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ নাকি চোখ কালো কাপড়ে বেঁধে রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষদের বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যেত৷ এদের কেউই আর ফিরে আসেনি৷

আফগান বা ইরাকি শরণার্থীদের মতো সুযোগ-সুবিধা রোহিঙ্গাদের দিতে পারছে না ভারত৷ কারণ ভারত চাইছে, মিয়ানমার সরকার এদের জন্য কিছু করুক৷ ভারতে বর্তমানে ৩৫,০০০ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে৷ জাকাত ফাউন্ডেশন কালিন্দি কুঞ্জের ৪৭টি শিশুকে বিনা মূল্যে শিক্ষা দান করছে৷

অন্যদিকে ইসমাইল নামে এক তরুণ দিল্লিতে একটি বাসা খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে তিনি তাঁর ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতে পারে৷ প্রাণ হারানোর আর কোনো ভয় নেই৷ তাই তিনি খুশি৷ তিনি আর মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান না৷

তবে বার বার জায়গা বদলের কারণে বহু রোহিঙ্গারই স্বাস্থ্য খারাপ হয়েছে, হতে চলেছে ক্রমশ৷ অধিকাংশক্ষেত্রেই ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারা, বিশেষ করে বর্ষাকালে৷ কালিন্দি কুঞ্জেও অন্তত ৪০ জন এ সব কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছে, যাদের ওষুধ কেনার বা ডাক্তার দেখানোর মতো সামর্থ্য নেই৷ তার ওপর এদের চাকরিও অনিশ্চিত৷ এই যেমন ওসমান শ্রমিকের কাজ করে মাসে ১০ থেকে ১৫ দিন৷ এতে দিনে তিনশ' টাকা আয় হয় তাঁর৷

রোহিঙ্গারা বরাবরই গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এসেছে৷ কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, তারা কি কোনোদিন থিতু হতে পারবে? কোথায় তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য? এই প্রশ্নের উত্তর কি কেউ জানে? বৈধ পরিচয়-পত্র না থাকায়, সারাজীবনই হয়ত তাদের এমন যাযাবরের মতোই জীবনযাপন করতে হবে, হতে হবে দেশান্তর৷

রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত সম্প্রদায়ের একটি৷ এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন