1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

রোমিং ফি কমানোর লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশিরভাগ দেশে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্থানভেদে ভোক্তাদের ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দিতে পারে৷ কিন্তু ওপেন ইন্টারনেট হিসেবে ব্রাসেলসের সংস্কার ঘোষণার পর এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে চলেছে৷

আপনি কি দেশের বাইরে বেড়ানোর পর ফিরে এসে আপনার মোবাইলে অর্থের বিরাট একটা অঙ্ক দেখে ভয় পেয়েছেন? যদি আপনি ইউরোপের কোনো দেশে থাকেন, তবে রোমিং-এর কারণে স্থানীয় মোবাইল কোম্পানিগুলো আপনার কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেবে, কেবল আউটগোয়িং কলের জন্য নয়, ইনকামিং-এর জন্যও৷ এমনকি ইন্টারনেটে ‘থ্রটল' বা ডেটা প্যাকেজের নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা পেরিয়ে গেলে নেটের গতি কমে যায়৷

স্থান পরিবর্তনের ফলে অনলাইনে হঠাৎ করেই কোনো কোনো অ্যাপ্লিকেশন ব্লক করে দেয়া হয়৷ ইউরোপে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার সময় এমন ঝামেলা আপনাকে পোহাতে হতে পারে৷

ইউরোপীয় কমিশনের এক পরিসংখ্যান বলছে, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স বা আইএসপিএস এখন চেষ্টা করছে এই সমস্যা থেকে ভোক্তাদের রক্ষা করতে৷

ইউরোপীয় কমিশন প্রধান জোসে মানুয়েল বারোসো বুধবার স্ট্রাসবুর্গে স্টেট অফ দ্য ইউনিয়নে দেয়া বক্তব্যে ইউরোপের টেলিযোগাযোগ শিল্পে সংস্কারের ঘোষণা দেন৷ সেখানে ইউরোপের ভোক্তাদের কীভাবে নতুন নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে সহায়তা করা যায়, সে বিষয়ে কথা বলেন তিনি৷

তবে, যেখানে ২৮টি দেশের টেলিযোগাযোগ মার্কেট, সেখানে বিষয়টটি আসলেই জটিল৷

নিরপেক্ষ করার পক্ষে

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর ৭ কোটি ৬০ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হন৷ ৪ কোটি ৪০ লাখ ব্যবহারকারীর স্কাইপ ব্যবহারেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে৷ এমনকি মেসেঞ্জার সফটওয়্যার – যেমন হোয়াটস-অ্যাপের ক্ষেত্রেও সমস্যার মুখোমুখি হন তারা৷

আইএসপিএস চেষ্টা করছে, মোবাইল চার্জ কমানোর এবং অ্যাপ্লিকেশনগুলো যাতে সহজলভ্য হয় তার ব্যবস্থা করা৷

ইউরোপীয় কমিশন চাইছে, ইউরোপের প্রতিটি দেশের টেলিকমিনিকেশন কোম্পানি এবং আইএসপিএস নিরপেক্ষ নেটের দিকে মনোযোগ দিবে৷ কেননা এর ফলে সব প্রযুক্তি কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়া প্রতিযোগিতা করতে পারবে৷

কমিশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ডয়চে ভেলেকে জানান, বেশিরভাগ কোম্পানি কমিশনের এই পরিকল্পনার বিপক্ষে৷

ইউরোপের দেশগুলো এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট যদি রাজি হয়, তাহলে ইন্টারনেটের সীমাবদ্ধতা নিষিদ্ধ করে দিতে পারে৷ এর ফলে ভোক্তারা সবধরনের বৈধ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারবে, তবে বাণিজ্যিক এবং প্রযুক্তিগত ব্যবহার ছাড়া৷

যদি রোমিং চাও

ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাব হলো, ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি টেলিকম মার্কেট থাকবে, সেইসাথে রোমিং ব্যবস্থা তুলে দেয়া হবে৷ তাদের এ প্রস্তাবটি ভেবে দেখছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বা রেগুলেটর৷

২০১৪ এর জুলাইয়ে নতুন পরিকল্পনা কার্যকর হতে পারে বলে জানালেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনার নিলি রয়েস৷ এর ফলে মুঠোফোন ব্যবহারকারীদের ইউরোপের এক দেশ থেকে অন্যদেশ ভ্রমণের সময় একটি মোবাইল ফোন প্ল্যান কিনতে হবে৷ এর ফলে অপ্রত্যাশিত রোমিং চার্জের ভয় থাকবে না৷

ইউরোপের টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলো সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর অংশীদারিত্ব থাকায় তারা ভোক্তাদের রোমিং চার্জ বাতিল করতে চাইছে না৷ কেননা ইউরোপীয় জনগণের ৮৫ ভাগ টেলিফোন ব্যবহার করে৷ ফ্রান্স টেলিকম বলছে, রোমিং ফি বাতিল করলে ৭ বিলিয়ন ইউরোর লোকসানের মুখে পড়বে তারা৷

কমিশনের সংস্কার বাধার মুখে

কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবের বিপক্ষে দাঁড়াতে পারে কয়েকটি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ৷ তারা তথ্য উপাত্ত আদান প্রদান ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে৷ বেশিরভাগ দেশের সরকার বলেছে, জাতীয় আগ্রহের কথা বলে কমিশন নতুন পরিকল্পনা তাদের উপর চাপিয়ে দিতে চাইছে৷ তবে, কমিশন সিদ্ধান্ত নিলে এসব দেশের সরকারের ভেটো কোন কাজে আসবে না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন