1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

রোমা উপজাতির মানুষরা দলে দলে জার্মানিতে

এরা আসছেন রোমানিয়া আর বুলগেরিয়া থেকে, সে দু’টি দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদান করার পর৷ কিন্তু জার্মানিতে ডুইসবুর্গের মতো শহরের বাসিন্দারা তাদের নতুন প্রতিবেশীদের সম্পর্কে বিশেষ উৎসাহিত নন৷

ডুইসবুর্গের রাইনহাউজেন এলাকার আদিবাসিন্দাদেরও ঠিক দোষ দেওয়া যায় না৷ রোমাদের যে কলোনিটিতে আবাস, সেখানে রাস্তায় রাস্তায় আবর্জনা, প্লাস্টিকের বাক্সো, কাঁচের বোতল ইত্যাদি গড়াগড়ি যাচ্ছে৷ বাতাসে প্রস্রাবের গন্ধ৷ গর্তে জল জমে রয়েছে৷ তারই মধ্যে ফুটবল খেলছে ছেলের দল৷ মাথায় স্কার্ফ বাঁধা মহিলারা আর মেয়েরা দোতলা-তিনতলার বারান্দা থেকে ঝুঁকে সেই খেলা দেখছেন৷ বারান্দাগুলোতেও জামাকাপড় শুকোচ্ছেন, পুরনো কার্পেট, ডিশ অ্যানটেনা, ময়লা, সব কিছু লাগানো কিংবা ফেলা আছে৷ সাধে কি পাড়ার লোকেরা এই বাড়িটির নাম রেখেছে ‘‘প্রোবলেম হাউজ'', মানে ‘সমস্যার বাড়ি'!

Deutschland Roma in Duisburg Rheinhausen

এই সেই ‘‘প্রোবলেম হাউজ''

বাড়ির নীচ দিয়ে যাবার উপায় নেই: মাথায় ভাঙা কাপ-প্লেট কিংবা বাচ্চাদের প্যাম্পার্স এসে পড়তে পারে৷ কেননা ‘সমস্যার বাড়ির' বাসিন্দাদের ময়লা ফেলার সহজ পথ ও পন্থা হলো: জানলা গলিয়ে বাইরে ফেলে দেওয়া, তা সেটা যার মাথায় গিয়েই পড়ুক না কেন৷ ইন ডেন পেশেন নামধারী রাস্তার তিন থেকে পাঁচ নম্বর বাড়িগুলোর কোনো একটাতে ঢুকতে গেলে স্থানীয় মাতব্বরদের নজর আর সেই সঙ্গে কচিকাঁচাদের গালিগালাজ, অশালীন ভঙ্গি সহ্য করতে হবে৷ এই তিনটি বাড়ির অধিকাংশ বাসিন্দা রোমা৷

উগ্র বামপন্থিদের দরদ

‘সমস্যার বাড়ি' নিয়েও রাজনীতির ঘোঁট৷ স্থানীয় বাসিন্দারা ডুইসবুর্গের রাইনহাউজেন এলাকায় রোমাদের বাসের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে একট মিটিং করছিলেন৷ সেই সময় একদল মুখোশধারী এসে তাদের মারধোর করে, পেপার স্প্রে ছিটায়৷ আহত হন বেশ কয়েকজন, একজনের আঘাত গুরুতর৷ আসলে ‘‘নাগরিকদের জন্য নাগরিক'' নাম দিয়ে একটি স্থানীয় কমিটি মিটিংটা ডেকেছিল পাড়ার পুরনো বাসিন্দা ও রোমাদের মধ্যে সমঝোতার আশায়৷

Deutschland Roma in Duisburg Rheinhausen

রোমাদের একটি ঘর

কিন্তু রোমাদের কেউই আসেননি – কেননা তাদের কেউই জার্মান জানেন না কিংবা বলতে পারেন না৷

‘‘নাগরিকদের জন্য নাগরিক'' কমিটি তাদের সমঝোতা মিটিংয়ে উগ্র দক্ষিণপন্থিরা এসে হল্লা করতে পারে, এমন আশঙ্কা করছিল, কিন্তু যারা আসে এবং হামলা করে তারা ছিল ‘লিংকস রাডিকালে', অর্থাৎ উগ্র বামপন্থি৷ এদের ‘লিংকস আউটোনোমে', অর্থাৎ নির্দলীয় বামপন্থিও বলা হয়৷ এদের যে আধা-সংগঠিত গোষ্ঠী আছে প্রায় সব শহরে, তারা নিজেদের ‘অ্যান্টিফা' বা অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট বলে৷ এই অ্যান্টিফারাই এসেছিল রাইনহাউজেনে রোমাদের প্রতি তাদের সমর্থন জানাতে৷

অনাকাঙ্খিত অতিথি

ডুইসবুর্গের কাছেই ক্রুপ সংস্থার ইস্পাতের কারখানা বন্ধ হওয়া যাবৎ বহু বাড়িঘর খালি পড়ে আছে, ভাড়াও সস্তা৷ তাই পূর্ব ইউরোপের মানুষজন এখানে বাসা পেয়েছেন৷ প্রায় সাত-আট হাজার রোমার বাস এই শহরে৷ তবে ‘সমস্যার বাড়িতে' কতজন রোমার বাস, সেটা বোধহয় বাড়ির মালিক নিজেও জানেন না৷

রোমারা ভবঘুরে উপজাতি৷ ইউরোপেরই মানুষ৷ বিভিন্ন দেশে বাস এবং এককালে সারা ইউরোপ গানবাজনা করে বেরিয়েছেন তারা৷ নাৎসি আমলে তাদের প্রায় ইহুদিদের মতোই নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছিল৷ নব্যনাৎসিরা আজও তাদের ওপর চড়াও হতে পারে, এটাই ছিল রাইনহাউজেনবাসীদের আরেক শঙ্কা৷

Deutschland Roma in Duisburg Rheinhausen

‘‘প্রোবলেম হাউজ'' এর ঠিক উল্টোদিকে বাস এ দুজনের

যে কারণে ‘‘নাগরিকদের জন্য নাগরিক'' কমিটি মালিকের উপর চাপ দিয়ে ‘সমস্যার বাড়িতে' ফায়ারপ্রুফ দরজা বসানোর ব্যবস্থা করেছে৷ কমিটির তরফ থেকে রাতেও এখানে টহল দেওয়া হয়, পরে উগ্র বামপন্থিরাও যে প্রহরায় যোগ দিয়েছে৷

কিন্তু তা বলে রাইনহাউজেনের বাসিন্দারা যে রোমাদের বসবাসের ধরণ মেনে নিয়েছেন, এমন নয়৷ চিৎকার-চেঁচামেচি, নোংরা, অশান্তি – এসব সহ্য করতে হয় তাদের৷ ‘‘ওরা বাগানটাকে বাথরুম হিসেবে ব্যবহার করে৷ রাতে এখানে ধেড়ে ইঁদুর ঘুরে বেড়ায়৷'' অনেকেই এ পাড়ার বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার কথা ভাবছেন৷ উত্তর রাইন পশ্চিম ফালিয়া রাজ্যের সরকার ভাবছেন ভাড়াবাড়ির ব্যবস্থাপনা সম্বন্ধে নতুন আইন করার কথা৷

শিক্ষা, না শিশু ভাতা?

কিন্তু ডুইসবুর্গের বাসিন্দাদের এক-তৃতীয়াংশই আজ অভিবাসী কিংবা অভিবাসী বংশোদ্ভূত৷ কাজেই পৌর প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা এই সহাবস্থানের সমস্যার সমাধানের জন্য শিক্ষার উপর নির্ভর করবেন৷ বিদেশ থেকে যে রোমারা এসেছেন, তারা সম্পূর্ণ অন্য পরিবেশে জীবন কাটিয়েছেন৷ কিন্তু তাদের সন্তানদের শিক্ষার মাধ্যমে এ দেশের, অর্থাৎ জার্মানির মানুষ করে তোলা সম্ভব, বলে বিশ্বাস করেন এলিজাবেথ পাটের, যিনি ডুইসবুর্গ পৌর প্রশাসনের হয়ে অভিবাসী পরিবারবর্গের শিশুদের উৎসাহপ্রদানের দায়িত্বে আছেন৷

সমালোচকরা বলেন: রোমারা জানেন, জার্মানিতে শিশু ভাতা পাওয়া যায়৷ প্রথম দুই সন্তানের জন্য সন্তান প্রতি মাসে ১৮৪ ইউরো৷ চতুর্থ সন্তান থেকে মাসে ২১৫ ইউরো৷ তারা যেখান থেকে আসছেন, সেখানে যে ধরণের সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে কিংবা পাননি – তার সঙ্গে জার্মানির এই আকাশ-পাতাল তফাৎটাই তাদের এই সমাজের অংশ হয়ে ওঠার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়