1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

রোমানিয়ায় ভাল্লুক শিকারও একটা ব্যবসা

রোমানিয়ার ট্রান্সিলভানিয়া অঞ্চলে যে শুধু কাউন্ট ড্র্যাকুলার বাস, এমন নয়; সেখানে বাস করে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী শিকারি জীব: বাদামি ভাল্লুক৷ সেই বাদামি ভাল্লুক শিকার করতে দেওয়া উচিত কিংবা অনুচিত, তাই নিয়েই বিতর্ক৷

রোমানিয়ার ট্রান্সিলভানিয়া অঞ্চলের জঙ্গলে থাকে ইউরোপের সবচেয়ে বড় শিকারী প্রাণী: ব্রাউন বেয়ার বা বাদামি ভাল্লুক৷ গেমকিপার অ্যাটিলা চিকি ও তাঁর সতীর্থরা গাড়িতে করে একটি হান্টিং স্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছেন৷ আগে তারা এই জঙ্গলে বড়লোক মক্কেলদের নিয়ে দিনের পর দিন শিকারের প্রতীক্ষায় কাটিয়েছেন – কেননা সৌখীন শিকারিরা ট্রফি হিসেবে একটি ভাল্লুকের চামড়া সঙ্গে নিয়ে যেতে চান৷

হঠাৎ একটা ভাল্লুক দেখা দিল...

শিকারী অ্যাটিলা চিকি বললেন, ‘‘আট বা ন'বছর বয়স৷ বেশ বড় একটা মদ্দা ভাল্লুক৷''ভাল্লুকটা এসেছে বাগানের ময়লা ফেলার ঢিবির খোঁজে – শিকারীরা যা টোপ হিসেবে ব্যবহার করেন৷ এই আকারের একটি ভাল্লুক মারার জন্য মক্কেলরা ৭,০০০ ইউরো পর্যন্ত দিতে রাজি৷

অ্যাটিলা বললেন, ‘‘এই হিংস্র প্রাণীগুলিকে যে আর শিকার করা চলে না, তা আমাদের পক্ষে একটা বড় লোকসান৷ অথচ আমাদের দেশে ঐ অর্থের বিশেষ প্রয়োজন৷ আমাদের অনেকেরই দেউলিয়া হয়ে যাবার ভয় রয়েছে৷''

কোটি কোটি ইউরোর ব্যবসা

ইউরোপীয় ইউনিয়নে বহু প্রজাতির প্রাণী সংরক্ষিত, তাদের মধ্যে ভাল্লুকও পড়ে৷ কিন্তু আইনের ফাঁক থাকার ফলে রোমানিয়ায় শিকার একটা কোটি কোটি ইউরোর ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছিল৷ ২০১৬ সালের শেষের দিকে রোমানিয়া সরকার সখের শিকার নিষিদ্ধ করে – যা শিকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের একেবারেই পছন্দ হয়নি৷ শিকারিদের দাবি হলো যে, ভাল্লুকদের সংখ্যা বাড়ছে: জঙ্গলে নাকি ক্রমেই আরো বেশি ভাল্লুকের পায়ের ছাপ দেখা যাচ্ছে৷

শিকারী সান্দর ফেরেঞ্চে বললেন, ‘‘ভাল্লুকদের সংখ্যা বড় বেশি – জঙ্গলে বড় বেশি ভাল্লুক রয়েছে৷ কাজেই তারা ছড়িয়ে পড়ছে, এমনকি গ্রামেও ঢুকছে৷''

রোমানিয়ার বড় শহরগুলোর বাসিন্দারা শিকার নিষিদ্ধ করার সপক্ষে৷ কিন্তু গ্রামাঞ্চলে ভাল্লুকরা মানুষ ও গৃহপালিত পশুর পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে৷ খিদে পেলে ভাল্লুকরা সব কিছু করতে রাজি৷ সপ্তাহ কয়েক আগে একটা ভাল্লুক এই খামারমালিকের গরু মারে৷ পশুপালক ফেরেঞ্চ বিরো শোনালেন তাঁর কাহিনি: ‘‘প্রথমে ভাল্লুকটা জানলা দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করে: এখানে তার নখের আঁচড় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে৷ তাতে কাজ না হওয়ায় সে দরজা ভেঙে আমার গরুগুলোকে আক্রমণ করে৷''

দোষ কার?

মানুষেরও যে দোষ নেই, এমন নয়৷ অনেক গ্রাম জঙ্গলের গা ঘেঁষে আর বাসিন্দারা বাইরেই তাদের ময়লা ফেলেন – সর্বভূক ভাল্লুকদের কাছে যা ভুরিভোজের আমন্ত্রণ৷ অনেক জায়গায় ময়লা ফেলার বাক্সগুলোকে আজকাল খাঁচার মধ্যে রাখা হয় – তাতেও অনেক সময় কাজ হয় না৷ এখানে একটি ভাল্লুক খাঁচার তলার কংক্রিটের চাতাল ভেঙে ফেলে তার খাবার হাতিয়েছে৷ রোমানিয়ার শিকারীরা বলছেন যে, সরকার ভাল্লুক শিকার নিষিদ্ধ করার পর এ বিপদ বাড়তেই থাকবে৷

রোমানিয়ার শিকার সমিতি ইওসেফ বেনকে বললেন, ‘‘তার ফল হয়েছে এই যে, ভাল্লুকরা মানুষের ভয় হারিয়ে ফেলেছে, কেননা তাদের আর শিকার করা হয় না৷ এর ফল খুব খারাপ হতে পারে৷''

শিকারিদের অনেকের রাগ এই মানুষটির উপর৷ লিওনার্দো ব্রিচস্কি পশু অধিকার আন্দোলনকারী ও ভাল্লুক বিশেষজ্ঞ: তিনি ভাল্লুক শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা পাশ করতে সাহায্য করেছেন৷ তিনি বলেন যে, বিপজ্জনক ভাল্লুকদের কথা বলে শুধু আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে৷

ভাল্লুক ত্রাণ

হার্ঘিতা ভাল্লুক ত্রাণ কেন্দ্রের প্রধান লিওনার্দো ব্রিচস্কির মতে, ‘‘নানা দিক থেকে বিচার করলে, ভাল্লুকরা খুব শান্ত, ঠান্ডা মাথার প্রাণী৷ বহু ক্ষেত্রে তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে৷ রোমানিয়ার বহু অঞ্চলে ভাল্লুকরা শহরে ঢুকে ময়লা ফেলার জায়গায় আসে৷ কিন্তু ভাল্লুকরা মানুষকে আক্রমণ করেছে, এমন ঘটনা সত্যিই বিরল৷ মোটরগাড়ি তার চেয়ে অনেক বড় বিপদ বলে আমার ধারণা; আমাদের এক মিটার দূর দিয়ে প্রতিদিন কতো গাড়ি যায়...৷''

লিওনার্দো একটি ভাল্লুক ত্রাণ কেন্দ্র চালাচ্ছেন৷ তিনি নিশ্চিত যে, শিকারিদের একমাত্র চিন্তা হলো তাদের কোটি কোটি ইউরোর ব্যবসা৷ সারা পৃথিবীর সৌখীন শিকারিরা ভাল্লুক শিকার করতে আকুল, আর রোমানিয়ার শিকারী সমিতি একটি ভাল্লুক শিকারের জন্য তিন থেকে আট হাজার ইউরো দাম নেয়৷

শিকারিদের বক্তব্য হলো যে, ভাল্লুকদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে৷ তাঁরা চান যে, এই সংখ্যা আয়ত্তের মধ্যে রাখার জন্য বছরে ১০০টি অবধি ভাল্লুক শিকারের অনুমতি দেওয়া হোক৷ নিষেধাজ্ঞার ফলে শুধু বেআইনি শিকারকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে বলে হান্টিং অ্যাসোসিয়েশনের যুক্তি৷ কিন্তু আপাতত তাদের ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী শিকারি জীবটির সঙ্গে সহাবস্থান শেখা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই৷

ফাইস্ট/হার্টলেপ/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়