1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

রোবটকে হাঁটতে শেখানোর চেষ্টা

চলচ্চিত্রের পর্দায় রোবটের কত রকম কাণ্ডকারখানাই তো আমরা দেখতে পাই৷ এমনকি সবসময় তাদের রোবট হিসেবে চেনাও যায় না৷ অথচ বাস্তবে রোবটের পক্ষে ঠিকমতো হাঁটাচলা করা বেশ কঠিন৷ তাই এবার মানুষের মতো হাঁটতে শেখানো হচ্ছে রোবটদের৷

রোবটরা ভালোই উড়তে পারে৷ কিন্তু এগিয়ে চলার অন্য উপায়গুলি তাদের ভালো করে শিখতে হবে৷ এ কাজে তাদের সাহায্য করছেন অধ্যাপক কাটিয়া মমবাউর৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার তো রোবটদের দারুণ সৃষ্টি মনে হয়৷ তাদের সঙ্গে কাজ করে মজা পাই৷''

বর্তমানে এই গণিতজ্ঞ এক বিশেষ প্রকল্পে কাজ করছেন৷ ‘হিউমানয়েড' বা মানুষের মতো দেখতে রোবট-দের তিনি মানুষের মতোই হাঁটতে শেখাচ্ছেন৷ হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি এক ইউরোপীয় গবেষণা প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যাতে অন্যান্য দেশের বিজ্ঞানীরাও জড়িত৷ এর উদ্দেশ্য, রোবট-রা স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে বিভিন্ন রকম সারফেসের উপর হাঁটতে শেখানো৷ তখন তারা বিপর্যয়ের সময়ও সাহায্য করতে পারবে৷

কাটিয়া মমবাউর এ প্রসঙ্গে ফুকুশিমা পরমাণু কেন্দ্রের দুর্ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেন৷

HitchBOT Reisen per Anhalter

রাস্তার ধারে বসে আছে মূর্তিমান এক রোবট!

তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টা হলো, যে সব মানুষ ভিতরে যেতে পারতেন, তারা এই বিপর্যয় এড়াতে পারতেন৷ কিন্তু সেটা অত্যন্ত বিপজ্জনক কাজ হতো৷ তেজস্ক্রিয় বিকরণের মাত্রা ছিল অত্যন্ত বেশি৷ ফলে ভেতরে মানুষ পাঠানো যায়নি৷ কিন্তু মানুষের মতো দেখতে, তার মতো নড়াচড়ার ক্ষমতা ও বুদ্ধি রয়েছে – এমন রোবট সে কাজ করতে পারতো৷''

কম্পিউটারের পর্দায় হাঁটার কাজ দিব্যি চলছে৷ কিন্তু আসল রোবট-রা এখনো এত ভালো করে হাঁটার কাজ রপ্ত করতে পারেনি৷ সে তুলনায় অন্য কিছু নড়াচড়ার কাজ অনেক সহজ৷ কিন্তু রোবট-দের অনেকটা সাপের আদলে তৈরি করা হয়৷ ফলে বিপর্যয়ের সময়ে তাদের কাজে লাগানোর প্রশ্ন ওঠে না৷ হিউম্যানয়েড রোবট অবশ্য মানুষের কিছু মুভমেন্ট নকল করতে শেখে৷ যেমন হাত তোলার ভঙ্গি তারা ভালোই জানে৷

হাঁটার কাজ সেই তুলনায় অনেক জটিল৷ কাটিয়া মমবাউর বলেন, ‘‘মানুষের হাঁটার প্রক্রিয়ায় শুধু পা নয়, গোটা শরীর কাজে লাগাতে হয়৷ মাটি সমান হলে হাত ঝুলিয়ে আমরা মোটামুটি সহজেই হাঁটতে পারি৷

কিন্তু পরিস্থিতি কঠিন হলে হাত কাজে লাগিয়ে ব্যালেন্স করতে হয়৷ প্রয়োজনে হাত দিয়ে কিছু ধরে ফেলতে হয়৷ ফলে তখন গোটা শরীরটাই কাজে লাগে৷''

তাই এই প্রকল্পের আওতায় মানুষের নড়াচড়ার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ কোন ধরনের সার্ফেসের উপর মানুষ কী ভাবে হাঁটছে, তাও দেখা হচ্ছে৷ ভবিষ্যতের রোবট-কে তো সব ধরনের অজানা জায়গায় হাঁটাচলা করতে হবে৷

এই গবেষণার আওতায় সবচেয়ে ভালো মুভমেন্ট খোঁজার কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ – যাকে প্রযুক্তির পরিভাষায় ‘অপটিমাইজেশন ক্রাইটেরিয়া' বলা হয়৷ কাটিয়া মমবাউর বলেন, ‘‘নড়াচড়ার পরিমাপ আমরা হুবহু রোবট-এর উপর চাপিয়ে দেই না৷ সেটা সম্ভবও নয়, কারণ রোবট-এর জ্যামিতি, আকার, আয়তন, ক্ষমতা মানুষের তুলনায় একেবারে আলাদা৷ মানুষের তুলনায় সে অনেক ধীরে এগোতে পারে৷ আমরা ‘অপটিমাইজেশন ক্রাইটেরিয়া'-র মৌলিক নীতি মেনে চলি এবং সেটা রোবট-এর উপর প্রয়োগ করি৷''

পরীক্ষামূলক রোবট-গুলি হাঁটাচলার প্রাথমিক অনুশীলন শুরু করেছে, বাধা এড়িয়ে চলতে শিখছে৷ সিঁড়িভাঙার কাজও শিখছে৷ তবে তাদের আরও পারদর্শী এবং দ্রুত হয়ে উঠতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক