1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

রোবটকে ‘মানুষ’ করে তোলার প্রচেষ্টা

রোবটকে দিয়ে আজকাল কলকারখানায় অনেক কাজ করানো হচ্ছে৷ কিন্তু তার মগজে অনুভূতি বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ঢোকানো সম্ভব কি? বার্লিনে একদল বৈজ্ঞানিক ও শিল্পী একটি রোবটকে সেভাবে তালিম দেওয়ার চেষ্টা করছেন৷

ভিডিও দেখুন 03:27

রোবটকে ‘মানুষ’ করে তোলার প্রচেষ্টা

মিয়ন নামের রোবট ও তার স্রষ্টারা আরেকবার ল্যাব ছেড়ে বেরিয়েছেন৷ এবার মঞ্চে উঠে মিয়ন তার অনুভূতির ক্ষমতা দেখাচ্ছে৷ হুমবল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরো-রোবটিক বিভাগের মানফ্রেড হিল্ড বলেন, ‘‘আমাদের কাছে যা কিছু স্বাভাবিক, মিয়নের কাছে সেগুলিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ৷ যেমন কারও মুখ চিনতে পারা৷ এই টেবিলের রং প্রায় মানুষের ত্বকের মতো, ফলে মিয়ন মাঝে মাঝে গুলিয়ে ফেলে৷ শুনলে অবাক লাগে বটে, কিন্তু রোবটের কাছে সেটা ক্যামেরায় তোলা ছবি, যা বিশ্লেষণ করতে হয়৷ শব্দ কোথা থেকে আসছে, তা আমরা সহজেই বুঝে ফেলি৷ কিন্তু ঘরের মধ্যে এত প্রতিফলন ঘটলে মিয়নের পক্ষে তার উৎস বোঝা বড়ই কঠিন৷''

মিয়নের স্রষ্টা মানফ্রেড হিল্ড ছয় বছর ধরে রোবট নিয়ে গবেষণা করেছেন৷ এখন তিনি মিয়নকে মঞ্চে পেশ করার কাজে ব্যস্ত৷ সঙ্গে রয়েছে পারফরমেন্স আর্টিস্ট ও গায়কদের এক দল – যার নাম ‘গব স্কোয়াড'৷ তার সদস্য সাইমন উইল বলেন, ‘‘কৃত্রিম মেধা নিয়ে বার্লিনে বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলছে৷ তাই আমরা একটা শর্ট লিস্ট করেছি৷ প্রথম প্রার্থী ছিলেন মানফ্রেড৷ তিনি খুব স্পষ্ট করে কথা বলেন এবং শিল্পের প্রতিও তাঁর টান রয়েছে৷ তিনি খোলা মনে আমাদের আইডিয়া গ্রহণ করেছেন৷ কী ভাবে তা তাঁর গবেষণায় কাজে লাগতে পারে, সে বিষয়েও স্পষ্ট ধারণা ছিল৷ ফলে এটা যাকে বলে ‘প্রথম দর্শনেই প্রেম'৷''

গব স্কোয়াড গ্রুপের অন্যতম শিল্পী শন প্যাটেন ছোটবেলা থেকেই স্বাধীন রোবট সম্পর্কে আগ্রহী৷ স্টার ওয়ার্স ছবির রোবটগুলি ঠিক মিয়নের মতো নয়৷ তবে শেষ পর্যন্ত মিয়নকেই তো মঞ্চে বসে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে হবে৷

এবং এই রোবট নিজের আবেগও নাকি দেখাতে পারবে৷ যদিও আবেগ শব্দটাই তার জানা নেই৷ গব স্কোয়াডের সাইমন উইল, ‘‘আমরা এমন এক বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট কাজ করতে হয়৷ এবং এটা কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার পরিবেশের মতো৷ সবাই রোবটকে দিয়ে আসল কিছু করাতে চায় এবং দেখতে চায়, সে সেটা পারে কিনা৷ পুরোটাই ‘লাইভ' অবস্থায় হচ্ছে৷ অর্থাৎ সে সত্যি বিফল হতে পারে৷ তা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের বার অন্য চেষ্টা করবো৷''

শিল্পী এবং বিজ্ঞানী – দুই দলের জন্যই এই দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প এখনই বেশ ফল এনে দিচ্ছে৷ মানফ্রেড হিল্ড বলেন, ‘‘এখানে রিহার্সালের সময় এমন সব পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা ল্যাবে কখনোই সম্ভব হতো না৷ চারিদিকে গান হচ্ছে, বিশাল হলঘর – রোবটের কাছে এমন পরিবেশ সহজ নয়৷ কোনটা দূরে, কোনটা কাছে, সব গুলিয়ে যায়৷ যেমন তার পেছনে প্রায় ২০ জন বসে শব্দ সৃষ্টি করছে, নড়াচড়া করছে৷ ফলে সে মিনিটের পর মিনিট মাথা ঘুরিয়ে পেছনে তাকায়, যদিও আসল ঘটনা তার সামনে ঘটছে৷ এমন পরিস্থিতিতে তার মনোযোগ ভালো করে পর্যবেক্ষণ করা যায়৷ তারপর প্রয়োজন মতো রদবদল করতে হয়৷''

এবার ল্যাবে ফিরে কাজের পালা৷ আজ যা কিছু ঘটেছে, তা আবার খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করতে হবে৷

বিশেষ ঘোষণা: এই সপ্তাহের অন্বেষণ কুইজে অংশ নিতে ক্লিক করুন এখানে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও