1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম যে প্রোটিন

শুধু ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াই যে সংক্রমণের জন্য দায়ী – তা কিন্তু নয়৷ কখনও-সখনও প্রোটিনও প্রাণীর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে৷ এগুলি অবশ্য একরকম নিষ্প্রাণ মলিকিউল, যাদের জেনেটিক কোনো তথ্য নেই৷

প্রত্যেকের দেহেই রয়েছে এই প্রোটিন৷ এই প্রোটিন থেকে গরুর বিএসই এবং মানুষের ক্রয়েৎসফেল্ড ইয়াকব ডিজিজ বা সিজেডি অসুখ হতে পারে৷ আসলে এগুলি নিরীহ৷ কিন্তু আকার পরিবর্তন করে জীবাণু হয়ে যেতে পারে তারা এবং সৃষ্টি করতে পারে রোগও৷

মারাত্মক হলো এক ধরনের প্রোটিন

মারাত্মক ব্যাপার হলো, প্রায়োন নামের এইসব প্রোটিন, এক কোষ থেকে আরেক কোষে যেতে পারে এবং অন্য প্রোটিনকে প্রভাবিত করতে পারে৷ ফলে সেগুলিও রোগ সৃষ্টিকারীর আকার নিতে পারে৷ এইভাবে বিস্তৃত হয় তারা৷ এরা মস্তিষ্কের এমন ক্ষতি করতে পারে যে, মারণঘাতী রোগকে আর প্রতিরোধ করা সম্ভব হয় না৷

বিজ্ঞানীরা প্রায়োন সম্পর্কে জানতে পারেন ১৯৮০-এর দশকে গরুর বিএসই রোগ দেখা দেওয়ার পর৷ চলতি ভাষায় যাকে ‘ম্যাডকাউ' রোগ বলা হয়৷ নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী স্ট্যানলি প্রুসিনার জানান, এক ধরনের প্রোটিন এই রোগের জন্য দায়ী৷

Deutschland Lebensmittel Lebensmittelskandale BSE

চলতি ভাষায় যাকে ‘ম্যাডকাউ' রোগ বলা হয়

পরে ফ্লোরিডার স্ক্রিপস রিসার্চ ইন্সটিটিউটে কর্মরত সুইস গবেষক চার্লস ভাইসম্যান প্রমাণ করেন যে, এই ধারণা সঠিক৷ ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এই বিজ্ঞানী বলেন, ‘‘আমরা এটাও প্রমাণ করতে পেরেছি যে, এই প্রোটিন আমাদের মস্তিষ্কেই থাকে৷ অর্থাৎ এই জীবাণু আশ্রয়স্থল থেকেই সৃষ্টি হয়৷ বিষয়টি একেবার নতুন৷''

আক্রান্ত হতে পারে যে কেউ

ক্রয়েৎসফেল্ড ইয়াকব বা সিজেডি রোগটিতে আক্রান্ত হতে পারে যে কেউ৷ কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রেই প্রোটিনগুলি রোগ সৃষ্টিকারীর রূপ নেয়৷ সাধারণত বাইরে থেকে জীবাণু এসে সংক্রমণকে উজ্জীবিত করে৷ যেমন বিএসই রোগে আক্রান্ত গরুর মাংস খেলে৷ জুরিখ ইউনিভার্সিটির আদ্রিয়ানো আগুৎসি জানান, এই মাংস থেকে ভুল আকার নেওয়া প্রোটিনগুলি মানুষের পাকস্থলী দিয়ে স্নায়ুতন্ত্রে প্রবেশ করে৷ তখন দেখা দেয় অসুখ৷ এর ফলে ডিপ্রেশন, ডিমেনশিয়া বা চলাফেরা অনিয়ন্ত্রিত হতে পারে৷

চার্লস ভাইসম্যান ও আদ্রিয়ানো আগুৎসি তাঁদের গবেষণার জন্য সম্প্রতি হার্টভিশ পিপেনব্রোক পুরস্কারে ভূষিত হন৷ ‘জার্মান সেন্টার ফর নিউরো ডিজেনারেটিভ ডিজিজ' ১০০,০০০ ইউরো অর্থমূল্যের এই পুরস্কারটি প্রতি দুই বছর পর পর দিয়ে থাকে৷ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পিপেনব্রোক এই পুরস্কারের ব্যয়ভার বহন করে থাকে৷ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা হার্টভিগ পিপেনব্রোক ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হন ও এই বছরের জুলাই মাসে মারা যান৷

প্রায়োনদের দূর করা সহজ নয়

প্রায়োনরা অত্যন্ত নাছোরবান্দা৷ অপারেশনের সরঞ্জাম ও চিকিৎসার যন্ত্রপাতিতে তারা শক্ত হয়ে আঁটকে থাকে৷ ফরমালিনের মতো খুব শক্তিশালী জীবাণু নিরোধক দিয়েও দূর করা যায় না তাদের৷

Beschreibung: Charles Weissmann und Adriano Aguzzi bekommen den Hartwig Piepenbrock-DZNE-Preis 2013 Quellen: Privat (Weissmann) bzw. Uni Zürich (Aguzzi)Prionen, DZNE, Piepenbrock

চার্লস ভাইসম্যান ও আদ্রিয়ানো আগুৎসি

‘‘অপারেশনের সময় প্রায়োনের সংক্রমণ ঘটেছে, এই রকম প্রায় ১০০টি ঘটনার কথা জানা গেছে৷ আগে মানুষ জানতো না কী ভাবে এই জীবাণুগুলিকে দমন করা যায়'', বলেন ভাইসমান৷ তিনি এক সিজেডি রোগে আক্রান্ত রোগীর ঘটনা জানান, যার মাথায় একটি ইলেকট্রোড ঢোকানো হয়েছিল৷ পরে আরেক রোগীর চিকিত্সাতেও একই ইলেকট্রোড ব্যবহার করা হয়৷ ফলে সেই রোগীও ক্রয়েৎসফেল্ড ইয়াকব অসুখে আক্রান্ত হয়ে মারা যান৷

চার্লস ভাইসম্যান তাঁর গবেষণা থেকে জানতে পেরেছেন, শুধু ফরমালিনের মতো কড়া জীবাণুনাশক ব্যবহার করে এই জীবাণুকে দূর করা যায় না৷ এগুলিকে কাবু করতে হলে ডাক্তারি সরঞ্জামগুলি ১৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ২০ মিনিট ধরে উত্তপ্ত করতে হবে৷ ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসদের কিন্তু তুলনামূলক সহজেই দূর করা যায়৷

‘‘এখন প্রয়োজন হলো এমন একটি ওষুধ আবিষ্কার করা, যা দিয়ে ক্রয়েৎসফেল্ড ইয়াকব বা সিজেডি অসুখটিকে দমন করা যায়'', বলেন চার্লস ভাইসম্যান৷ এখন পর্যন্ত এই অসুখ ভালো করা যায় না৷ মৃত্যুই যার পরিণতি৷ এক্ষেত্রে চিকিত্সকরা অসহায়৷

২০০০ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রোগটি হ্রাস পাচ্ছে৷ এর কারণ ২০ বছর আগের তুলনায় বিজ্ঞানীরা এই রোগের জীবাণু সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছেন৷ এক্ষেত্রে চার্লস ভাইসম্যান ও আদ্রিয়ানো আগুৎসির অবদান অনস্বীকার্য৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়