1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

রেলে সম্ভব, বিমানে নয় কেন?‌

ভারতের সমস্ত রেল-কামরায় ‘‌বায়ো টয়লেট’ বা জৈব শৌচালয় বসানো হয়ে যাবে ২০১৯ সালের মধ্যে৷ কিন্তু বিমানসংস্থাগুলি এখনও এ ব্যাপারে উদ্যোগী নয় কেন?‌

Indien New Delhi - Air India Flugzeug im Landeanflug Indira Gandhi International Airport (picture-alliance/AP Photo)

ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে একটি বিমান নামছে

বিমান উড়ে যায় আকাশপথে৷ বিমানে শৌচালয় থাকে৷ যাত্রীরা প্রয়োজনমত সেই শৌচালয় ব্যবহার করেন৷ কিন্তু তার দরুণ যে বর্জ্য তৈরি হয়, সেটা শেষপর্যন্ত কোথায় যায়?‌ সম্প্রতি তার আন্দাজ পাওয়া গেল৷ দিল্লি বিমানবন্দর এলাকার বাসিন্দা সৎবন্ত সিং দাহিয়া গত অক্টোবরে ভারতের পরিবেশ আদালতে অভিযোগ জানান যে, প্রতিদিন উড়ন্ত বিমান থেকে তাদের এলাকায় মানব-বর্জ্য নিক্ষিপ্ত হয়, যা ঘরেদোরে, এমনকি লোকের গায়েও এসে পড়ে৷ গত বছর ডিসেম্বরেই দিল্লির আরেক বাসিন্দা, ৬০ বছরের এক মহিলা জখম হয়েছিলেন অত উঁচু থেকে গায়ে এসে পড়া বর্জ্যের আঘাতে৷ সৎবন্ত সিং দাহিয়ার অভিযোগের পরই বিষয়টি জাতীয় নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নজরে আনা হয় এবং পরিবেশ আদালত শেষ পর্যন্ত উড়ান সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেয়, বিমানে সঞ্চিত মানব-বর্জ্য ঠিকভাবে যাতে জমা করা হয়, সেই ব্যবস্থা নিতে৷ কারণ কোনো জনপদ এই বর্জ্যের কারণে সমস্যায় পড়বে, এটা হতে পারে না৷

ভারতীয় বিমানসংস্থাগুলির জন্যে কিন্তু বর্জ্য নিষ্কাশনের নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দেওয়া আছে৷ সেখানে পরিষ্কার বলা আছে, উড়ন্ত বিমান থেকে কোনো অবস্থাতেই সেপটিক ট্যাংক খালি করা যাবে না৷ সেটা খালি করতে হবে বিমানবন্দরে, বিমান মাটিতে নামার পর৷ তার জন্য নির্দিষ্ট সাফাইকর্মীরা থাকেন বিমানবন্দরে, যাঁরা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিমানের সেপটিক ট্যাংক সাফ করেন৷ এবং এক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম হলো, বিমান অবতরণের পর যদি দেখা যায় তার সেপটিক ট্যাংক খালি, তা হলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হবে

একটি কারণেই বিমানের বর্জ্য মাঝ আকাশে, উড়ন্ত অবস্থায় খালি করার দরকার হতে পারে৷ যদি সেপটিক ট্যাংক কোনো কারণে ‘লিক’ করে বা বিমানের বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়, তবে সেক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম আছে৷ বিমান যখন অতি উচ্চতায় থাকবে, সেই বর্জ্য হিমায়িত করে বরফ কুচির আকারে পরিবেশে ছেড়ে দিতে হয়৷ কিন্তু পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, বিমান সংস্থাগুলি বরং ভারতীয় রেলের থেকে শিক্ষা নিতে পারে৷ রেলকামরার শৌচালয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যবহার বিধি আছে৷ ট্রেন স্টেশনে থাকা অবস্থায় বা রেলপথে অন্য কোথাও দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কামরার শৌচালয় ব্যবহার নিষিদ্ধ৷ কিন্তু তাতেও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা যায় না, যেহেতু মানব-বর্জ্য কোথাও না কোথাও ঠিকই পড়ে, নোংরা হয়৷ যে কারণে রেল মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের প্রত্যেকটি রেলের কামরায় জৈব শৌচালয়, অর্থাৎ বায়ো টয়লেট বসানোর৷

কীভাবে কাজ করে এই শৌচালয়?‌ সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে সঞ্চিত বর্জ্যকে প্রথমে যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিচ্ছিন্ন করে নেওয়া হয়৷ তারপর অতি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাক্টেরিয়ার সাহায্যে সেটিকে মিথেন গ্যাস এবং জলে রূপান্তরিত করা হয়৷ ফলে দূষণের কোনো সম্ভাবনাই থাকে না৷ ভারতীয় রেল মন্ত্রক ২০১৬ সালে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, পরের পাঁচ বছরের মধ্যে সমস্ত রেল কামরায় এই জৈব শৌচালয় বসিয়ে ফেলবে৷ সেই মতো কাজও শুরু হয়ে যায় এবং এখন সেই কাজের যা অগ্রগতি, নির্দিষ্ট সময়সীমার দু'‌বছর আগেই, অর্থাৎ ২০১৯ সালের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে৷

পরিবেশকর্মীদের প্রশ্ন, ভারতীয় রেল যদি পারে, তা হলে বিমান সংস্থাগুলি কেন পারবে না এমন কোনো সমাধান খুঁজে নিতে, যাতে মানব-বর্জ্য সমাজ জীবনে দূষণ না ঘটায়!‌

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে নীচে মন্তব্যের ঘরে লিখুন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন