1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

রেড অ্যালার্ট জারির বিষয়টি অপপ্রচার ও মিথ্যা: বিএনপি

বিএনপি নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল৷ তবে দলটির অভিযোগ, ইন্টারপোলকে ব্যবহার করে সরকার রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে৷

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা ও হত্যার অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়৷ ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি (ওয়ান্টেড পারসনস) হিসেবে তারেক রহমানের নাম-পরিচয় ও বিবরণ রয়েছে৷

তবে বুধবার এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট জারির বিষয়টি অপপ্রচার ও মিথ্যা৷ ইন্টারপোল রেড অ্যালার্ট জারি করে না৷ তারা সদস্য দেশের দেওয়া তথ্য প্রকাশ করে৷ তাই এদেশ থেকে যে তথ্য পাঠানো হয়েছে তা প্রকাশ করেছে মাত্র৷ এর আগে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী বলেছেন ইন্টারপোলের মাধ্যমে তারেককে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে৷ এই রেড অ্যালার্ট মন্ত্রীদের বক্তব্যের বহিঃপ্রকাশ৷''

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘‘এটি একটি নাটক৷ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারির অপপ্রচার চালিয়ে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না৷ সরকারের কোনো অপচেষ্টা সফল হবে না৷'' তিনি বলেন, ‘‘তারেক রহমান পলাতক নন, তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন৷ তিনি এমন দেশে রয়েছেন যে দেশ আইনের শাসনে বিশ্বাসী এবং মানুষের অধিকারের প্রতি সচেতন৷ তারেক রহমান ও জয় (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে) সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য ভালো হবে না৷ জয় রাজনীতিতে এসেছেন, তাঁকে সাধুবাদ জানাই৷ তারেক রহমানও নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন৷ সেটা কোনো চাপিয়ে দেওয়া পদ নয়৷ কাউন্সিলেই সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি৷''

এদিকে, তারেক রহমানের আইনজীবী ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ইন্টারপোল কোনো রাষ্ট্র বা সরকারের রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডায় কাজ করে না বলেই আমরা জানি৷ কিন্তু এক্ষেত্রে সরকার রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ইন্টারপোলকে ব্যবহার করেছে৷ সরকারের কোনো অসৎ উদ্দেশ্যই সফল হবে না৷''

যেভাবে রেড অ্যালার্ট জারি করে ইন্টারপোল

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ইন্টারপোল রেড অ্যালার্ট জারি করে৷ কারো বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করার ক্ষমতা ইন্টারপোলের৷ বাংলাদেশের ইন্টারপোল ডেস্ক থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে রেড অ্যালার্ট জারির সুপারিশ করতে পারে৷

Unruhe in Bangladesch

আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা ও হত্যার অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়

সেসব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই ইন্টারপোল থেকে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়৷'' কী ধরনের তথ্য ইন্টারপোলকে দিতে হয়- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আদালত কর্তৃক ফেরারি ঘোষণা হতে হবে৷ আদালতে দাখিল করা পুলিশ রিপোর্টে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশের বাইরেই পালিয়ে আছেন৷ তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটা গুরুত্বপূর্ণ হতে হবে৷ এসব তথ্য নিশ্চিত হলে ইন্টারপোল রেড অ্যালার্ট জারি করে, তাতে অপরাধী যেই হোন না কেন৷''

তারিখ উল্লেখ নেই

ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে তারেক সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য দেয়া হলেও রেড অ্যালার্ট জারির কোনো তারিখে উল্লেখ নেই৷ তবে ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি)-র প্রধান পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রায় ৪ মাস আগে আমরা ইন্টারপোলে এ নোটিশ পাঠিয়েছিলাম৷ এতদিনে তারা নানাভাবে ক্যোয়েরি করার পর মঙ্গলবার সকালে তাদের ওয়েবসাইটে আমরা বিষয়টি দেখতে পাই৷ ইন্টারপোলের চাহিদা অনুযায়ী সব তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে বলেই তারা এটি তাদের সাইটে প্রকাশ করেছে৷''

তারেকই প্রথম রাজনীতিক নন

ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের ৬১ জন তালিকাভুক্ত ব্যক্তির নাম রয়েছে৷ তালিকায় সবার শেষে তারেক রহমানের নাম, ছবি ও বিবরণ রয়েছে৷ তার আগে আছে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ড পাওয়া পলাতক আসামি আবদুল জব্বারের নাম৷

বাংলাদেশের কোনো রাজনীতিকের বিরুদ্ধে এটাই প্রথম ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট নয়৷ এর আগেও বেশ কয়েকজন রাজনীতিকের বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করে ইন্টারপোল৷ এর মধ্যে আওয়ামী লীগের জয়নাল হাজারী, মকবুল হোসেন, শামীম ওসমান এবং বিএনপির হারিস চৌধুরীসহ আরো অনেকের নামেই ওয়ান ইলেভেনের সময় ‘রেড ওয়ারেন্ট' জারি হয়েছিল৷

প্রসঙ্গত, ইন্টারপোলের নোটিশে মামলার কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি৷ তবে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করা হয়৷ এই গ্রেনেড হামলায় ২২ জন নিহত হন৷ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েক শ' লোক আহত হন৷ ২০০৮ সালের ১১ জুন এ মামলায় ২২ জনকে আসামি করে সিআইডি প্রথম অভিযোগপত্র দেয়৷ পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এ মামলার অধিকতর তদন্ত করে ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি৷ মোট ৫২ আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৯ জন পলাতক আছেন৷ আসামিদের তালিকায় আরও আছেন জামায়াত নেতা ও একাত্তরে যুদ্ধপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ৫২ জন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়