রূপগঞ্জের বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা মিনারা বেগম ঝুনু | মুক্তিযুদ্ধ | DW | 12.09.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মুক্তিযুদ্ধ

রূপগঞ্জের বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা মিনারা বেগম ঝুনু

কলেজ জীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত মিনারা বেগম৷ যুদ্ধের সময় দেশের অভ্যন্তরে পাক সেনাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন মিনারা এবং তাঁর সঙ্গীরা৷

ভুল করে শান্তিবাহিনীর এক নেতার বাড়িতে উঠেও তাঁর ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে পাঠানোর জন্য রাজি করান তাঁরা৷

বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার দাউদপুর গ্রামে ১৯৫২ সালের ১লা নভেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন মিনারা বেগম ঝুনু৷ পিতা শামসুল ইসলাম ভুইয়া এবং মা জুবাইদা বেগম৷ ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সময় থেকেই ছাত্রলীগের কার্যক্রমের সাথে জড়িয়ে পড়েন এই সমাজ সচেতন নারী৷

প্রথমে ঢাকার গভর্নমেন্ট ইন্টারমেডিয়েট গার্লস কলেজ এবং পরে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রী ছিলেন মিনারা বেগম৷ কলেজ ছাত্রী হয়েও দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীর চর্চাকেন্দ্র এবং কলা ভবনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন মিনারা বেগম৷ তবে সেটিই তাঁর একমাত্র প্রশিক্ষণ নয়, বরং সেটি ছিল যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির কেবল শুরু৷ এরপর দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ চালনার জন্য আরো বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্র চালনা, গেরিলা এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন মিনারা এবং তাঁর সঙ্গীরা৷

২৫শে মার্চের কালো রাতে পাক বাহিনীর নৃশংসতা ও গণহত্যার কথা স্মরণ করে তিনি ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘২৫শে মার্চ রাতে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায় ছিলাম৷ সেখানে কালোরাত্রির হত্যাযজ্ঞের ঘটনা আমার নিজের চোখে দেখা৷ রাত বারোটায় চারিদিকে মুহুর্মুহু গুলিতে প্রকম্পিত অবস্থা৷ আমি এবং আমার বোনের ছেলে একটু সাহসী ছিলাম৷ আমরা ক্রলিং করে করে বাসার মধ্যে চলাফেরা করতাম এবং জানালা দিয়ে বাইরের ঘটনা উঁকি দিয়ে দেখছিলাম৷ ঘরের মধ্যে গুলি এসে মাথায় লাগার, শরীরে লাগার ভয় ছিল৷

Titel 2: Freiheitskämpferin Minara Begum Jhunu spricht mit Bengali Commander General MAG Osmani in Agortola in 1971 Bildunterschrift: Freiheitskämpferin Minara Begum Jhunu spricht mit Bengali Commander General MAG Osmani in Agortola in 1971 Text: Freiheitskämpferin Minara Begum Jhunu spricht mit Bengali Commander General MAG Osmani in Agortola in 1971 Datum: September 1971 Eigentumsrecht: Minara Begum, Dhaka, Bangladesch Stichwort: Freiheitskämpf, Bangladesch, Bangladesh, Women, Freedom, Fighter, Minara, Begum, Jhunu, Narayanganj, Osmani, Commander

১৯৭১ সালে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর পাশে মিনারা বেগম

মধ্যরাতে গোলাগুলি কিছুটা কমে আসার পর জানালা দিয়ে দেখলাম, সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের, যেটা তখন ইকবাল হল ছিল, পেছনে খেলার মাঠে লাশের স্তূপ৷ খড়ের পালা যেমন হয়, তেমনভাবে লাশ এনে এনে জমা করা হয়েছে৷ ২৭শে মার্চ সান্ধ্যআইন শিথিল করা হলে আমরা রূপগঞ্জ গ্রামে চলে যায়৷ সেখানে আমি এবং ফোরকান বেগম মুক্তিযুদ্ধের জন্য কাজ শুরু করি৷ সেসময় ঢাকা নগরীকে আক্রমণ করতে হলে রূপগঞ্জ দিয়েই মুক্তিযোদ্ধাদের আসতে হতো৷ আমরা দু'জন তখন মুক্তিযোদ্ধাদের আসা-যাওয়া, যাত্রার পরিকল্পনা, থাকা-খাওয়া সবকিছুর ব্যবস্থা করতে থাকি৷ এছাড়া সেখানে মেয়েদের এবং ছোট বাচ্চাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্য সরবরাহের কাজ করাতাম৷ বিশেষ করে মেয়েদের উপর যেহেতু অত্যাচার করা হতো তাই শিশুদের এই কাজে লাগানো হয়৷''

অডিও শুনুন 04:00

মিনারা বেগমের সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব এখানে

তবে কিছুদিন পর বাহকের হাতে পাঠানো চিঠি মারফত নেতৃবৃন্দের নির্দেশ পেলেন ঐ এলাকা ছেড়ে ভারতের উদ্দেশ্য রওয়ানা দেওয়ার৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘ওখানে আমরা যখন কাজ করছি তখন মণি ভাই আমাদের চিঠি পাঠান যে, সেখানে আর থাকা নিরাপদ নয়৷ তোমাদের কাজের কথা জানাজানি হয়ে গেছে৷ তাই পত্রবাহকের সাথেই চলে আসবে৷ নাসির মামার হাতে চিঠি পেয়ে তাঁর সাথেই আমি এবং ফোরকান বেগম আগরতলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করি৷ আমরা নরসিংদীর কাছে পাক সেনাদের সামনে পড়ে যাই৷ কিছুক্ষণ পরেই সেখানে গ্রাম পুড়ানোর জন্য যাচ্ছিল পাক সেনারা৷ এর মধ্যেই সেখানে অনেক কৌশল করে রক্ষা পেয়ে যাই৷ সেসময়ও আমাদের ব্যাগে ছোট আকারের গ্রেনেড ছিল৷ আমরা তো আগেই অস্ত্র চালনা শিখেছিলাম৷''

করিমপুর হয়ে কসবা ভিটগড়ে যান মিনারা বেগম এবং তাঁর সঙ্গীরা৷ ভিটগড়ে ভুল করে শান্তিবাহিনীর প্রধানের বাড়িতে গিয়ে ওঠার ঘটনা সম্পর্কে মিনারা বেগম জানান, ‘‘আমরা সেখানে আওয়ামী লীগের এক লোকের বাড়িতে আমাদের আশ্রয় নেওয়ার কথা৷ কিন্তু অন্ধকার রাতে আমরা গিয়ে উঠি শান্তিবাহিনীর প্রধান কালু সর্দারের বাড়িতে৷ আমরা ঘটনা বোঝার পর নিজেদের রক্ষার জন্য বুদ্ধি খাটালাম৷ কালু সর্দারের নাতনি রোজী এবং পরিবারের অন্যান্য সবার সাথে মিশে গেলাম৷ এমনকি আশেপাশের বাড়িগুলোর ঝি-বউদের সাথেও খাতির জমালাম৷ এক পর্যায়ে উনাকে বুঝালাম যে, আপনি যে আমাদের মা-বোনদের পাক সেনাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন, এটা কি ঠিক হচ্ছে? তিনি আমাদের বললেন যে, ‘না, মা আমি শুধুমাত্র গ্রাম বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করছি৷' এমনকি তিনি তাঁর ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে পাঠানোর কথা দিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি রেখেছিলেন৷ পরে তাঁর দুই ছেলে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে৷ তারা আমাদের সাথে আগরতলায় গিয়ে দেখা করেছিল৷''

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা: জাহিদুল হক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও