1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

রিটা কাৎসরা শুধু বাংলাদেশ নিয়ে ব্যস্ত নয়

বাংলাদেশে দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ড এবং শিয়াদের উপর হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘ইসলামিক স্টেট’ – এ কথা টুইটারে লিখে বেশ আলোচিত রিটা কাৎস৷ নারী বলে তাঁকে নিয়ে হয়ত আগ্রহ কিছুটা বেশি, তবে তিনিই একমাত্র নন যে এই দাবি করেছে৷

বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা বাড়ছে কিনা – তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন দেশে বিদেশে প্রকাশ হচ্ছে নিয়মিত৷ বিশেষ করে গতমাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে এই বলে সতর্ক করেন যে, ব্রিটিশ জিহাদিরা বাংলাদেশে উগ্রবাদকে উসকে দিচ্ছে৷ একই সময়ে তাঁর অন্যতম উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জামায়াতকে ‘টেরোর গ্রুপ' হিসেবে ঘোষণা দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়ে একটি নিবন্ধ লেখেন ওয়াশিংটন টাইমসে৷

বাংলাদেশের সরকার প্রধানের বক্তব্য নিয়ে আলোচনার মধ্যেই বিদেশি হত্যা শুরু হয় দেশটিতে৷ পরপর দু'টি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে ‘ইসলামিক স্টেট', এমন দাবি তোলে ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ'৷ জিহাদিদের অনলাইন কার্যক্রমের দিকে নজর রেখে আলোচিত গ্রুপটির পরিচালক রিটা কাৎস এই নিয়ে বেশ কয়েকটি টুইট করেন৷

বাংলাদেশের পুলিশ ইতোমধ্যে সে'সব দাবি ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন৷ পাশাপাশি রিটা কাৎসের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে৷ প্রশ্নগুলো এমন, তিনি সম্ভবত উদ্দেশ প্রণোদিতভাবে এটা করছেন, বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য৷ তিনি তাঁর দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাননি, এটাও অনেকের দাবি৷

রিটা কাৎসের উদ্দেশ্য বোঝার আগে চলুন দেখে নেই সাইট ইন্টিলিজেন্ট গ্রুপের মতো গ্রুপ বা সংস্থাগুলো কিভাবে কাজ করে৷ এই গ্রুপের মতোই আরেকটি সংস্থা রয়েছে নাম স্টোরিফুল৷ তারা নিজেদের বলে বিশ্বের প্রথম সামাজিক যোগাযোগভিত্তিক সংবাদসংস্থা৷ এই গ্রুপটি কোথাও কোনো বোমা হামলা হলে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে কিংবা অনলাইনে আলোচিত যে কোনো বিষয়ের সত্যতা খোঁজে এবং এ সংক্রান্ত যাকিছু অনলাইনে প্রকাশ হচ্ছে, তা আসল কিনা এবং আসল হলে কারা ‘পোস্ট' করলো তা খুঁজে বের করে৷ পাশাপাশি সেসব প্রকাশের সত্ত্বও তারা সংগ্রহ করে৷ এরপর সিএনএন, বিবিসি বা ডয়চে ভেলের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে যারা ‘স্টোরিফুল'-এর গ্রাহক তারা সেসব কনটেন্ট আইনি অধিকারসহ ব্যবহার করতে পারে৷

বলাইবাহুল্য, এ ধরনের সেবার গ্রাহক হতে ভালো টাকা খরচ করতে হয়৷ স্টোরিফুলের কাজের ধরন আমার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ হয়েছে৷ ফলে বুঝতে পারে, পেছনের কাজটা কতটা জটিল এবং সময়সাপেক্ষ৷ অনেক বেশি মানসিক চাপ সহ্য করার ক্ষমতাও থাকতে হয়৷ আমি নিজে কয়েকবার কনটেন্ট ভেরিফিকেশনের কাজ করেছি৷ এ ধরনের কাজ করার পর তা বিনামূল্যে বিতরণ করলে কোন সংস্থারই পোষাবে না৷

একটা উদাহরণ দেই৷ সিরিয়ায় গোলাগুলির মাঝে এক ছেলে তার বোনকে রক্ষা করছে, উপরের এই ভিডিও গত বছর গোটা বিশ্বে আলোড়ন তোলে৷ আপাত দৃষ্টিতে ভিডিওটি দেখলে যেকারো বিশ্বাস হবে৷ কিন্তু ভিডিওটা ছিল বানানো৷ স্টোরিফুল প্রথম সন্দেহ প্রকাশ করে যে, এটা নকল ভিডিও৷ পরে বাকিরা জানতে পারে৷ এধরনের কন্টেন্ট ভেরিফিকেশনের জন্য বিবিসির একটি পুরো টিম রয়েছে৷ তাদের কাজের ধরন সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে:

স্টোরিফুলের কথা এজন্য লিখলাম যে, সাইট ইন্টিলিজেন্ট গ্রুপের সঙ্গে তাদের কাজের মিল আছে৷ তবে রিটা কাৎসের গ্রুপটি স্টোরিফুলের চেয়েও যে বেশি শক্তিশালী এবং তথ্যসমৃদ্ধ সেটা তাদের কাজের ধরন দেখলে বোঝা যায়৷

DW Bengali Arafatul Islam

আরাফাতুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

গত কয়েকদিনের শুধু বাংলাদেশে ‘ইসলামিক স্টেট'-এর হামলা নিয়েই আলোচনায় নেই তারা৷ ২৬শে অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদে বোমা হামলার সঙ্গে ‘ইসলামিক স্টেট'-এর সম্পৃক্ততার দাবি তাদের মাধ্যমে জেনেছে সংবাদমাধ্যম৷ ১২ই অক্টোবর জিহাদিদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই টিউনেশীয় সেনা নিহতের দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা, সেটা জানিয়েছে তারা৷ ১০ অক্টোবর ফিলিপাইন্সে বিদেশি জিম্মির ভিডিও প্রকাশের খবরও জানিয়েছে সাইট৷ এরকম উদাহরণ অসংখ্য৷ অনেকক্ষেত্রে তারা মার্কিন গোয়েন্দাদেরও পেছনে ফেলেছে৷

শুরুতে লিখেছিলাম, সম্ভবত নারী বলেই রিটা কাৎসকে নিয়ে আলোচনা একটু বেশি হচ্ছে৷ একথা বলার কারণ হচ্ছে, সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ ছাড়াও আরো একটি গ্রুপ, মিডেলইস্ট মিডিয়া রিসার্চ ইন্সটিটিউট, বিদেশি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে ‘ইসলামিক স্টেট', এমন দাবির কথা জানায়৷ কিন্তু সেই গ্রুপ নিয়ে কোথাও আলোচনা দেখছি না৷ বাংলাদেশে সব আলোচনা এখন রিটা কাৎসকে ঘিরে৷ অথচ বাংলাদেশের কেউ তার সাইটে ঠিক কী বিস্তারিত তথ্য আছে তা পরখ করে দেখার প্রয়োজন মনে করছে না, যেটা বিশ্বের অনেক দেশ, গোয়েন্দা সংস্থা করছে৷

এই বিষয়ে আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়