1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

রিগার সৃষ্টিশীল তরুণদের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

২০১৪ সালের ইউরোপের সংস্কৃতির রাজধানী রিগার জনসংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে৷ প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ শহর ছাড়ছে৷ বাড়িঘর, দোকানপাট ও কারখানাগুলি খালি হয়ে যাচ্ছে৷

এই শূন্যতার মধ্যেও সৃজনশীল কিছু তরুণ অসাধারণ এক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন৷ ‘‘এখানে এলে মানুষ দিশাহারা হয়ে যেতে পারে৷'' পরিত্যক্ত এক কারখানা প্রাঙ্গনে এসে বলেন শিল্পী কাসপার লিলগালভিস৷ রিগা শহরের কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে বিশাল এক চত্বরে দাঁড়িয়ে আছে ক্ষয় ধরা কিছু দালান৷ বেশিরভাগই সময়ের স্বাক্ষর বহন করছে৷ অনেক বছর ধরে খালি পড়ে আছে এগুলি৷ এখানে এক সময় শিল্প কারখানা ছিল সেখানে৷ ২০.০০০ মানুষ কাজ করতেন৷ তৈরি করতেন রেডিও ও টেলিফোন৷ কিন্তু সোভিয়েট ইউনিয়েনের পতনের পর লাটভিয়ার উৎপাদন পড়ে যায়৷ ১৯৯৯ সালে বেসরকারিকরণ করা হয়৷ ভেঙে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি৷

খালি বাড়ি থেকে শিল্প চর্চার স্থান

‘‘আমরা ৭/৮ বছর আগে এখানে উঠেছি৷ যেহেতু আমাদের ওয়ার্কশপ ও স্টুডিওর জন্য জায়গার প্রয়োজন ছিল৷'' ১৫ জন শিল্পী ছিলেন তখন৷ বলা যায় বাড়ি দখলকারী৷ এরপর তাঁরা সেখানে প্রদর্শনী, ওপেন ডে, এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে থাকেন৷ বছর দুয়েক পর এক মালিক আমাদের জিজ্ঞেস করেন, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গঠন করার জন্য তাঁর একটি বাড়ি নিয়ম মাফিক ব্যবহার করতে চাই কিনা৷ তিন বছরের জন্য একটি চুক্তিও করা হয়৷ এরপর বাড়িটি ভেঙে দামি ফ্ল্যাট বাড়ি পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর৷ ‘‘কিন্তু ২০০৮ সালের বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা আমাদের জন্য শাপে বর হয়'', হেসে বলেন কাসপার্স৷ বলেন, ‘‘মালিকের পক্ষে আর্থিক কারণে বাড়িতে হাত দেওয়া সম্ভব হয়নি৷ আমরা এখানে আছি বলে তিনি এখন খুশি৷ কেননা শিল্পীদের নানা ধরনের কর্মকাণ্ড গোটা এলাকাকেই আলোকোজ্জ্বল করে তুলেছে৷''

Riga Kulturhauptstadt 2014

সাংস্কৃতিক কেন্দ্র

পুরোনো বাড়িতে প্রাণের স্পন্দন

কাসপার্স বাড়ির দরজাটি খোলেন৷ কয়েকটি সাইকেল দাঁড় করানো৷ সিলিং-এ ঝুলছে ঝাড়বাতি৷ কিছু তরুণ যাতায়াত করছেন৷ চলছে জিজ্ঞাসাবাদ৷ ‘কেমন ছিল প্রদর্শনী'?, ‘তোমরা কী এখনই রিহার্সেল করবে'?, ‘কখন শুরু হবে ওপরে'? কাসপার্স সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠেন৷ এগিয়ে যান আলো আঁধারি এক করিডোর দিয়ে৷ স্টুডিওর দরজাটা খোলেন৷ একটি ব্যান্ডের রিহার্সেলের রুম এটি৷ তারপর আর একটি দরজা খুলে বলেন, ‘‘এখানে আমি থাকি৷'' অস্থায়ী একটি জায়গা৷ ফ্লি মার্কেট থেকে আসবাবপত্র আনা হয়েছে৷ এক কোণায় রয়েছে ঘর গরম করার জন্য একটি কয়লার হিটার (ওভেন)৷

শিল্পীদের টিকে থাকা সহজ নয়

কাসপার্স লিলগালভিসের বয়স ৪০৷ তিনি টেক্সটাইল শিল্প নিয়ে পড়াশোনা করেছেন৷ গ্রাফিক ডিজাইন করেছেন৷ বিভিন্ন পারফর্মেন্স ও ফটোগ্রাফিতে অভিজ্ঞতা আছে তাঁর৷ কাসপার্স নিজেকে একজন সৌভাগ্যবান মানুষ বলে মনে করেন৷ কেননা যা করতে ভালো লাগে, তা থেকেই জীবনধারণ করতে পারছেন৷ একজন উচ্চাকাঙ্খী মানুষ এই শিল্পী৷

লাটভিয়ার বেশিরভাগ শিল্পীকেই জীবন ধারণের জন্য পাশাপাশি কোনো না কোনো কাজ করতে হয়৷ শিল্প ও সংস্কৃতির বাজারটা এখানে নিতান্তই ছোট৷ ভালোভাবে সংগঠিত নয়৷ কয়েকশ শিল্পী থাকলেও গ্যালারি কম এবং কোনো শিল্পমেলা নেই৷ আর সে কারণে কারখানার ভবনটি শিল্পীদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ৷ এই তো সবে শুরু৷ ভাবের আদান প্রদান ও মিলনের স্থান হবে এটি৷ হবে নানা বিভাগের শিল্প-প্রকল্পের এক প্ল্যাটফর্ম৷

বার্লিনের সঙ্গে তুলনা করা যায়

কাসপার্স এই প্রসঙ্গে বার্লিনের কথা বলেন৷ বছর দশেক আগে বহু বাড়ি খালি পড়ে ছিল সেখানে৷ সারা বিশ্ব থেকে সৃজনশীলরা সেখানে জড়ো হওয়ার পর শহরটি স্পন্দিত হচ্ছে৷ রিগার ক্ষেত্রেও এটা হতে পারে৷ প্রতিবছর ২০০০০ পর্যন্ত মানুষ শহর ছাড়ছেন, অধিকাংশই পশ্চিম ইউরোপে৷ অর্থনেতিক সংকট শুরু হওয়ার পর অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন৷ শুধু কারখানা নয় বাড়িঘর ও দোকানপাটও শুনশান হয়ে পড়ছে৷

এর মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে ‘ফ্রি রিগা ২০১৪' আন্দোলনটি৷ নগরের শূন্যতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য ‘ওকুপাই মি' নামে একটি উদ্যোগের আয়োজন করা হয়েছে৷ শিল্পীদের শহরের পড়ে থাকা বাড়িঘরে রিহার্সেলের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে৷ যে কেউ ‘ওকুপাই-স্টিকার' এনে খালি বাড়িগুলি চিহ্নিত করতে পারেন৷ শহরের মানচিত্র দিয়ে ইন্টারনেটেও দিতে পারেন৷ দেখাতে পারেন এই সব বাড়ির অবস্থান৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন