1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

রায়ের আগেই হরতাল, থেকে গেল রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম

সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে অন্তর্ভুক্তির বিধান নিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিলো হাইকোর্ট৷ ফলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বৈধ ও বহাল থাকলো বাংলাদেশে৷ সোমবার রায়ের আগেই অবশ্য দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে জামাত৷

তবে জামায়াতে ইসলামির হরতাল ডাকার আগে, এমনকি শুনানি শুরুর আগেই উচ্চ আদালতে গিয়ে প্রধান বিচারপতিকে স্মারকলিপি দিয়েছিল ধর্মভিত্তিক উগ্র দল হেফাজতে ইসলাম৷ তাই রিট খারিজের পর হেফাজতে ইসলামের দাবি যে, তাদের দাবির প্রেক্ষিতেই রিটটি খারিজ হয়ে গেছে৷

বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেতৃত্বে এবং বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ সোমবার রিট খারিজ করার রায় দেয়৷ ২৮ বছর আগে ১৫ জন বিশিষ্ট মানুষের করা একটি রিট আবেদনের ২৩ বছর পর, রুলটি জারি করা হয়৷ সেই রুল জারির প্রায় ৫ বছর পরে গত ২৯শে ফেব্রুয়ারি রুল শুনানির দিন ধার্য হয় ২৭শে মার্চ৷ পরে রুল শুনানির জন্য ২৮শে মার্চের কার্যতালিকায় আসে রিট আবেদনটি৷

অডিও শুনুন 01:42

‘আমরা পূর্ণাঙ্গ রায় দেখে আপিল করবো’

সোমবার শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘এটা অনেক আগের মামলা৷ এতে দু'টি রুল হয়েছে৷ ১৯৮৮ সালের রিট এবং পরে দু'টি সম্পূরক আবেদনের রুল৷....আদালত বলে, আগে আবেদনকারীর আইনজীবীকে শুনবো৷ এরপর সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী বিচারপতি টিএইচ খান, এবিএম নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম ধর্ম বহাল রাখার পক্ষে পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন নিয়ে দাঁড়ান৷ কিন্তু আদালত বলে, আপনারা এখন বসেন৷ এখনো শুনানি শুরু হয়নি৷''

এ সময় আদালত আবেদনকারীদের আইনজীবী সুব্রত চৌধুরীকে বলেন, ‘‘আপনাকে আমরা দেখে আসতে বলেছিলাম ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির' পক্ষে এ রিটটি দায়েরের লোকাস স্ট্যান্ডি (রিট করার এখতিয়ার) ছিল কি?'' জবাবে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘‘সংগঠন ছাড়াও রিটটি আলাদা, আলাদাভাবে প্রত্যেকে আবেদনকারী করেছেন৷'' আদালত বলে, ‘‘আমারা দেখছি, ওই সংগঠনটির পক্ষে রিট আবেদন করা হয়েছে৷'' তখন সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘‘শুনানির সময় আমরা বিস্তারিত বলবো৷ সন্তোষজনক জবাব দেবো৷ আমাদের শুনানি করার সুযোগ দিন৷'' তখন আদালত বলেন, ‘‘ওই সংগঠনের লোকাস স্ট্যান্ডি নাই৷ তাই রিট খারিজ, রুল ডিসচার্জ৷''

অডিও শুনুন 01:53

‘ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করলে শাস্তির ব্যবস্থাও রাখতে হবে’

রিট খারিজের পর আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা পূর্ণাঙ্গ রায়ে দেখবো যে, কেন এটি খারিজ হয়েছে৷ তারপর আপিল করবো৷ আমাদের দুঃখ, আদালত আমাদের কথা শুনলোই না৷ আমরা পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম৷ এখন দেখতে হবে কী কারণে আমাদের রিটটি খারিজ করা হলো৷ এরপর বাকি সিদ্ধান্ত নেবো৷''

রিটটি খারিজ হওয়ার আগে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহালের দাবিতে প্রধান বিচারপতি কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছিল হেফাজতে ইসলাম৷ বেলা পৌনে ১১টার দিকে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব মাওলানা ফজলুল করিম কাশেমীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টারের একান্ত সচিব আতিকুস সামাদের কাছে এই স্মারকলিপি দেন৷ এ সময় হেফাজত নেতা মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুফতি ফখরুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন৷

হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরীর সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল-হাবিব ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের দাবির প্রেক্ষিতেই আদালত রিটটি খারিজ করে দিয়েছে৷ তবে ভবিষ্যতে যাতে কেউ এই ধরনের মামলা করতে না পারে, সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে৷ ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করলে শাস্তির ব্যবস্থাও রাখতে হবে৷ এমন কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে কেউ ইসলাম ধর্ম নিয়ে কোনো ধরনের কটুক্তি করার সাহস না করে৷ জামায়াতের এই হরতাল যৌক্তিক নয় বলেও দাবি করেন হেফাজতের এই নেতা৷ এদিকে রিট খারিজের পর বিকেল ৩টার দিকে জামায়াতে ইসলামী এক বিবৃতি দিয়ে হরতাল প্রত্যাহার করে নেয়৷

প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ সালের ৫ই জুন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে জাতীয় সংসদে অষ্টম সংশোধনী অনুমোদন হয়৷ একই বছরের ৯ই জুন এতে অনুমোদন দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদ৷ এর মাধ্যমে সংবিধানে অনুচ্ছেদ ২-এর পর ২(ক) যুক্ত করা হয়৷ তাতে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে'৷ এ বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৮৮ সালে ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটি'-র পক্ষে রিটটি দায়ের করেন বরেণ্য ১৫ জন ব্যক্তি৷ দীর্ঘ ২৩ বছর পর ২০১১ সালের ৮ই জুন একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়৷ আর সেই দিনই হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলটি জারি করেন৷

রাষ্ট্রধর্মের কি সত্যিই প্রয়োজন আছে বাংলাদেশে? জানান নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়