1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

রাহুল গান্ধীর চাপে পিছু হটলেন প্রধানমন্ত্রী

অভিযুক্ত আইন প্রণেতাদের বাঁচানোর জন্য আনা বিতর্কিত অর্ডিন্যান্স প্রত্যাহার করতে রাহুল গান্ধীর চাপের কাছে মাথা নত করে শেষে তা বাতিল করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং৷ ফলে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে রাহুলের কর্তৃত্ব৷

বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে নির্বাচনি সংস্কার এবং রাজনৈতিক শুদ্ধিকরণ আনতে গত জুলাই মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়কে স্বাগত জানিয়েছে সুশীল সমাজ৷ শীর্ষ আদালত মনে করে ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি যেভাবে বাসা বেঁধেছে, তা থেকে দেশকে বাঁচাতে এই রায়ের বিশেষ ভূমিকা থাকবে৷ তবে এই রায় না-পসন্দ রাজনৈতিক দলগুলির কাছে৷

রায়ে বলা হয়, কোনো সাংসদ বা বিধায়ক যদি ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দু'বছর বা তার বেশি বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আইনসভার পদ হারাতে হবে৷ এখানেই শেষ নয়, আগামী ১০ বছর পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না৷ ভোটের মুখে শরিক দলগুলির মুখ চেয়ে তড়িঘড়ি অর্ডিন্যান্স এনে মনমোহন সিং-এর জোট সরকার সেই রায় নাকচ করতে চায়৷ সুশীল সমাজ একযোগে প্রশ্ন তুলেছে, কেন দাগি সাংসদ ও বিধায়কদের বাঁচাতে সরকারের এই তৎপরতা?

আমজনতার ক্ষোভ আঁচ কোরে কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী ঐ অর্ডিন্যান্সকে ছিঁড়ে আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেবার কথা বলেন সংবাদমাধ্যমের সামনে৷ প্রধানমন্ত্রী তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় রাহুলের এই অপ্রত্যাশিত কামান দাগায় কেঁপে ওঠে সরকারের পায়ের তলার মাটি৷ চেষ্টা হয় পরিস্থিতি সামাল দেবার৷ কিন্তু শেষরক্ষা না হওয়ায় কংগ্রেসের ‘কোর কমিটি'-র বৈঠকে আলোচনার পর অর্ডিন্যান্সটি বাতিল করার কথা বলা হয়৷

Rahul Gandhi Indien Kongress Partei

রাহুল গান্ধীর চাপের কাছে মাথা নত করে বিতর্কিত অর্ডিন্যান্স বাতিল করতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং

উল্লেখ্য, এই ‘কোর কমিটি'-র প্রধান সোনিয়া গান্ধী স্বয়ং৷ তাঁরই সামনে তাঁরই সরকারের মুখ পুড়িয়ে রাহুল গান্ধী প্রমাণ করে দিলেন যে, তিনিই এখন দলের এক নম্বর হতে চলেছেন৷ তাঁর কথাই এখন থেকে হবে শেষকথা৷ অথচ বছর তিনেক আগে এই সোনিয়া গান্ধীই বলেছিলেন, যাঁদের ভাবমূর্তি পরিচ্ছন্ন নয়, তাঁরা যাতে ভোটে দাঁড়াতে না পারে, তার জন্য সহমত গড়ে তোলা দরকার৷

ভারতের নির্বাচনে দাগি প্রার্থীদের এত রমরমা কেন? মনে করা হয়, কোনো দলের স্থানীয় বা জাতীয় স্তরের রাজনীতিকদের জেতার সম্ভাবনা বেশি থাকে৷ তাঁদের প্রার্থী না করলে ভোটের অঙ্কে ওলটপালট হবে৷ দিল্লি-ভিত্তিক এডিআর সংস্থার মতে, সংদের নিম্নকক্ষ লোকসভার ৫৪৩ জন সাংসদের মধ্যে ১৫০ জনের বিরুদ্ধে ঝুলছে ফৌজদারি অপরাধের মামলা৷ সারা ভারতে এই সংখ্যাটা ১৪৬০৷ দিল্লি গণধর্ষণ কাণ্ডের পর ভার্মা কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, ধর্ষণ বা অনুরূপ অপরাধের সঙ্গে জড়িত রাজনীতিকরা কোনো পদে বহাল থাকতে পারবেন না৷ দুঃখের বিষয়, ছয়জন রাজনীতিক এখনো নিজেদের পদে বহাল আছেন৷ সামাজিক নৈতিকতার চরম অবক্ষয় ছাড়া আর কী?

নির্বাচিত প্রতিবেদন