1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

রাস্তার কুকুররা যখন ফিল্মস্টার হয়

কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হাঙ্গেরিয়ান ছবিটির নাম ‘‘হোয়াইট গড’’৷ ছবির একটি দৃশ্যে বুদাপেস্টের খোলা রাস্তায় শ’দুয়েক বেওয়ারিশ কুকুর মানুষজনকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে৷ এরা কিন্তু রক্তমাংসের জীব, কোনো কম্পিউটার অ্যানিমেশন নয়৷

ছবি শুরুই হচ্ছে দৃশ্যটি দিয়ে: একটি কিশোরী তার পিঠের ঝোলাটিতে ট্রাম্পেট ভরে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের রাস্তা দিয়ে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে৷ দিনের বেলা, কিন্তু রাস্তায় কোনো লোকজন নেই৷ হঠাৎ শ'দুয়েক হিংস্র নেড়ি ভৌ-ভৌ করে ডাকতে ডাকতে অন্য একটা রাস্তা থেকে বেরিয়ে মেয়েটির দিকে ধেয়ে এলো৷

পটভূমিতে দেখা যাচ্ছে দুর্ঘটনায় পতিত একটি বাস এবং ড্রাইভারদের ফেলে যাওয়া একাধিক প্রাইভেট গাড়ি, কেননা গোটা শহরটাই নেড়িদের সন্ত্রাস থেকে পালিয়ে বাঁচতে ব্যস্ত৷ ছবির কাহিনিতে মেয়েটি তার হারানো কুকুর হাগেনকে খুঁজতে বেরিয়েছে৷ মেয়েটির বাবা তাকে তার প্রিয় কুকুরটিকে মোটরওয়ে-তে ছেড়ে দিতে বাধ্য করেছিলেন৷

অবশ্যই সেই পরিত্যক্ত হাগেন বুদাপেস্টের ‘রাস্তার কুকুরদের' সর্দার হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এই কুকুরদের আবার কর্পোরেশনের মাইনে-করা কুকুর-ধরাদের হাত থেকে বেঁচে বেড়াতে হয়; মানুষজনের অবজ্ঞা, অবহেলা, অত্যাচারের শিকার তারা৷ ছবির আসল ‘থিম' তাই এক হিসেবে ‘আন্ডারডগ' বলা চলে, অর্থাৎ কুকুরদের জটলায় সবচেয়ে দীন-হীন, মান-প্রতিপত্তিবিহীন সেই কুকুরটি, যার কোনো অধিকারই নেই, যাকে সবাই অপমান করে, অবজ্ঞা করে, শোষণ করে৷

এই ‘আন্ডারডগ'-রা হলো হাঙ্গেরির তথা ইউরোপের দরিদ্র মানুষদের প্রতিভূ, বলেছেন ছবির হাঙ্গেরিয়ান পরিচালক কর্নেল মুন্ড্রুৎসো৷ ঐ যে ছোট্ট মেয়েটি তার হারানো কুকুরকে ফিরে পাবার চেষ্টা করছে, সে হলো ‘‘সব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য, সব দরিদ্র মানুষের'' প্রতীক, বলেছেন মুন্ড্রুৎসো৷

এই সব ‘‘দরিদ্র মানুষের প্রতীকদের'' ফিল্মের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়াটা সহজ কাজ নয়৷ সেজন্য হলিউড থেকে আনতে হয়েছে ডগ ট্রেনার টেরেসা অ্যান উইলিয়াম্সকে৷ তাঁর সঙ্গে ছিলেন হাঙ্গেরিয়ান ডগ ট্রেনার আরপাদ হালাজ৷ এক সঙ্গে দু'শো, আড়াই'শো নেড়ি কুকুরকে ট্রেনিং দেবার কথা তারা কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি – তার ওপর আবার দৃশ্যটা যদি এই হয় যে, সেই সারমেয় বাহিনী বুদাপেস্টের পথ ধরে দৌড়াচ্ছে!

আশ্চর্য, পরে ঠিক এই জলজ্যান্ত, রক্তমাংসের দন্তী-নখী সারমেয় বাহিনীই দর্শক ও সমালোচকদের মন জয় করেছে৷ মুন্ড্রুৎসো নিজেই বলেছেন, ‘‘লাইফ অফ পাই''-এর বাঘটির মতো কম্পিউটারে সৃষ্ট জীবজন্তু তাঁর অন্যদের মতোই ভালো লাগে, কিন্তু তাঁর ছবিতে ওটা কাজ করত না৷ আর পুচ্ছযুক্ত, সজীব, জলজ্যান্ত ফিল্মস্টারদের জন্যও ইতিমধ্যে দত্তক নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ অমুক নেড়ির মুখ কিংবা ‘অভিনয়' ভালো লেগেছে? চিন্তা কি, অ্যাডপ্ট করে নেন!

এসি/ডিজি (রয়টার্স, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন