1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘রাসেল আল-কায়েদার এজেন্ট'

রাসেল বিন সাত্তার৷ ২১ বছরের যুবক৷ উগ্রপন্থী অনেকগুলো ওয়েবসাইট আর ব্লগের ‘অ্যাডমিন' তিনি৷ বাংলাদেশে আলোচিত ধর্মীয় উগ্রপন্থি পাতা ‘বাঁশেরকেল্লা'-র অ্যাডমিনও নাকি তিনি৷ তাহলে কি এই যুবকের সঙ্গেই যোগাযোগ আল-কায়েদার?

বাংলাদেশে জিহাদের আহবান জানিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া আয়মান আল-জাওয়াহিরির অডিও বার্তাটি নিয়ে সারা দেশে এখন তোলপাড় চলছে৷ আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতারা এই নিয়ে করছেন কাদা ছোড়াছুড়ি৷ গোয়েন্দারাও বার্তাটির মূল হোতাদের খুঁজতে হিমশিম৷ অবশেষে ব়্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন রাসেল বিন সাত্তার৷ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অডিও বার্তাটি আপলোড করার কথা স্বীকার করেছেন তিনি৷

ব়্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান ডয়চে ভেলেকে বলেন, গত ৩০শে নভেম্বর অডিও বার্তাটি রাসেলের হাতে এসে পৌঁছায়৷ ১৪ই ডিসেম্বর তিনি ‘বাঁশেরকেল্লা'-র ফেসবুক পাতায় সেটা আপলোড করেন৷ এরপর থেকে রাসেল নিরুদ্দেশ ছিলেন৷ আগে থেকেই নানা কারণে গোয়েন্দাদের সন্দেহে ছিলেন রাসেল৷ তাই এবার তিনি টাঙ্গাইলের মাঝিপাড়ার একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে অবস্থান করছিলেন৷ অনেক চেষ্টার পর মঙ্গলবার ব়্যাব তাঁকে খুঁজে পায়৷ কর্নেল জিয়াউল বলেন, জঙ্গি গোষ্ঠী আল-কায়েদার সঙ্গে রাসেলের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে৷ তবে এ ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কিনা – তাদের সনাক্ত করতে রাসেলকে নিরবচ্ছিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে৷

মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইলের মাঝিপাড়া থেকে রাসেলকে আটক করে ব়্যাব৷ তারপরই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ব়্যাব সদর দপ্তরে৷ কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, গ্রেপ্তারের সময় রাসেলের সঙ্গে তিনটি মোবাইল ফোন, দু'টি ল্যাপটপ ও বেশ কিছু জিহাদি বই পাওয়া গেছে৷ তিনি বলেন, রাসেল জামায়াতের হয়ে অনেকদিন ধরেই কাজ করছেন৷ জামায়াতপন্থি ওয়েবসাইট ও ব্লগগুলোর অধিকাংশই তাঁর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত৷ এই অডিও বার্তার সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা – এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেই সব বেরিয়ে আসবে৷

ওদিকে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ‘বাঁশেরকেল্লা’-র প্রধান অ্যাডমিন জানিয়েছেন, আল-কায়েদার অডিও বার্তা প্রকাশের অভিযোগে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া রাসেল বিন সাত্তারের সঙ্গে ‘বাঁশেরকেল্লা’ পেজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং এই নামে ‘বাঁশেরকেল্লা’-র অ্যাডমিন প্যানেলেও কারুর নাম নেই৷ শুধু তাই নয়, আল-কায়েদা নেতা জাওয়াহিরির অডিও বার্তাটি কখনোই ঐ পাতায় প্রকাশ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি৷ প্রধান অ্যাডমিন জানান, ফেসবুকে ‘বাঁশেরকেল্লা’ নামে শতাধিক পেজের অস্তিত্ব আছে, যেগুলোর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই৷ তাই তাদের প্রকাশিত কোনো পোস্টের দায়ভার ‘বাঁশেরকেল্লা’ পরিবার গ্রহণ করবে না৷

উল্লেখ্য, ইন্টারনেটে সম্প্রতি প্রচারিত ‘বাংলাদেশ: ম্যাসাকার বিহাইন্ড এ ওয়াল অফ সাইলেন্স' শীর্ষক ২৯ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা নজরে আসে৷ ভিডিও বার্তাটি জিহাদোলজি ডটনেট নামের একটি ওয়েবসাইটে রয়েছে৷ ভিডিও বার্তায় দেখা যায়, আরবিতে আল-কায়েদার প্রধান জাওয়াহিরি বক্তব্য দিচ্ছেন৷ নেপথ্যে তাঁর স্থিরচিত্র৷ পর্দার নীচে ভেসে উঠছে বক্তব্যের ইংরেজি অনুবাদ৷ এতে বাংলাদেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্রের' বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানানো হয়৷ গত বছরের হেফাজত কাণ্ডের সূত্র ধরে আল-কায়েদার ওই বার্তায় রাজপথে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করার অভিযোগ আনা হয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে৷ একইসঙ্গে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামী নেতাদের বিচার নিয়েও সংগঠনটির ক্ষোভ স্পষ্ট হয়েছে৷ তখন থেকেই গোয়েন্দারা এর উত্‍সের সন্ধানে মাঠে নামে৷ সোমবার ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন৷

গত শনিবার গণমাধ্যমে এই অডিও বার্তার খবর প্রকাশের পরদিন, অর্থাৎ রবিবার, জাতীয় সংসদে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান একাধিক এমপি৷ সন্ত্রাসবাদী এই সংগঠনের বার্তার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো গোষ্ঠী সম্পৃক্ত কিনা – তা খুঁজে বের করে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা৷ এরপর সোমবার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, আল-কায়েদার অডিও বার্তাটি কোথা থেকে প্রচার করা হয়েছে – সরকার তা জানতে পেরেছে৷ তবে তদন্তের স্বার্থে ঐ দিন খোলসা করে কিছু বলেননি তিনি৷

মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলতে সরকার আল-কায়েদার অডিও বার্তার সঙ্গে বিএনপিকে জড়িয়ে বিভিন্ন রকম বক্তব্য দিচ্ছে৷ প্রসঙ্গত এর আগের দিন তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অনুগ্রহ পেতে সরকার এই অডিও বার্তা প্রচার করছে৷ তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ মঙ্গলবার বলেছেন, সন্ত্রাসের সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে সরকার অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন