1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী ঐক্যের অগ্নিপরীক্ষা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলগুলো সর্বসম্মত প্রার্থী দিতে পারলে, ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে তার প্রতিফলন ঘটতে পারে৷ তাই ঐকমত্যের জন্য কোমর বেঁধেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়৷

বিজেপির অপ্রতিহত গতি আটকাতে বিরোধী দলগুলি রাষ্ট্রপতি পদে পাল্টা প্রার্থী দাঁড় করাতে কতটা সফল হবে তার প্রথম পরীক্ষা সম্ভবত আগামী জুলাই মাসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে৷ আঞ্চলিক বিরোধী দলগুলি যদি রাষ্ট্রপতি পদে ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রার্থী দিতে পারে, তাহলেই বিজেপিস্রোত আটকানো যেতে পারে৷ এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়৷ আজ মঙ্গলবার সোনিয়া গান্ধীর আমন্ত্রণে দিল্লিতে এসে তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন মমতা বন্দোপাধ্যায়৷ বৈঠকের পর মমতা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, সোনিয়াজির সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে৷ তার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে বিরোধী দলগুলির সর্বসম্মত প্রাথী দেওয়া নিয়েও কথা হয়৷ নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর নাম উঠে আসেনি৷ সর্বসম্মতির জন্য অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে কথা বলবেন সোনিয়াজি৷ এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠক হতে পারে৷ রাজনৈতিক ইস্যুর মধ্যে বৈঠকে প্রথমে ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার অভিযোগ৷ যাঁরাই মোদীর বিরোধিতা করছেন, তাঁদেরই সিবিআই দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে – এমনটাই অভিযোগ মমতা বন্দোপাধ্যায়ের৷ বৈঠকে কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধীও ছিলেন৷ 

Sonia Gandhi (AP)

কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী

গত মাসে ভুবনেশ্বরে গিয়েও মমতা কথা বলে আসেন ওড়িষার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের সঙ্গে৷ পট্টনায়ক নিমরাজি হয়েছেন৷ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আমআদমি পার্টির কেজরিওয়ালও দেখা করেন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে৷ বর্তমানে কেজরিওয়াল সরকারের সঙ্গে মোদী সরকারের সম্পর্ক আদায়-কাঁচকলায়৷ পশ্চিমবঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস-তৃণমূল সম্পর্ক যেমন সাপে নেউলে৷ এ অবস্থায় দিল্লিতে দু' দলের হাত মেলানোয় ঘোর আপত্তি জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী৷ বলেছেন, সমঝোতা এমন হওয়া দরকার, যাতে রাজ্য কংগ্রেসে কোনো ভুল বার্তা না যায়৷ রাজ্যে যুযুধান যে দুটি দল, দিল্লিতে তাদের গলাগলি নিয়ে রসিকতা করতে ছাড়েনি বিজেপি৷ তারা বলেছে– রাজ্যে কুস্তি, দিল্লিতে দোস্তি৷

মোটকথা, সব অ-বিজেপি দলগুলি এই উদ্যোগে সামিল হবে কিনা সে বিষয়ে সংশয় রয়েই গেছে৷ সিপিআই-এম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি বিরোধী দলগুলির সর্বসম্মত প্রার্থী দিতে রাজি হলেও মমতার সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলতে নারাজ৷ যদিও সোনিয়ার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে৷

বিহারে সংযুক্ত জনতা দলের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারও তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেননি৷ সম্ভবত দরকষাকষির একটা জায়গা খোলা রেখেছেন, এমনটাই মনে করা হচ্ছে৷তবে আকার-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের স্বার্থে বিজেপির পাশে থাকতে আপত্তি নেই৷তেলেঙ্গানা স্পষ্ট বলেছে, রাজ্যের উন্নয়নে যে জোট সহযোগিতা করবে রাজ্যের শাসক দল তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি তাদেরই সমর্থন করবে৷কোনো ছুঁতমার্গ নেই৷অন্ধ্রপ্রদেশের তেলেগু দেশম পার্টি বিজেপি জোট প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে৷ পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, জাতীয় রাজনীতির বাধ্যবাধকতায় মমতা ছাড়া মোদী বিরোধিতায় এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় সোনিয়া গান্ধীর৷তাই শারীরিক অসুস্থতা সত্বেও মমতাকে ডেকে নিয়েছেন নিজের বাসভবন ১০নং জনপথে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিরোধী দলগুলির সর্বসম্মত প্রার্থীর নাম যদি উঠে না আসে, তাহলে বিকল্প নাম কী হতে পারে ? সেক্ষেত্রে একটাই গ্রহণযোগ্য নাম, তা হলো বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়৷ তাঁকে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতিপদে প্রার্থী করার প্রস্তাবও উঠতে পারে৷ তাতে কোনো দলের লাভ বই ক্ষতি নেই৷ তাতে মমতা বন্দোপাধ্যায়েরও পুরো সায় আছে বলে মনে হচ্ছে৷ মহারাষ্ট্রে বিজেপি জোটের শরিক শিবসেনারও প্রণববাবুর নামে আপত্তি নেই৷ বিরোধী দলগুলির প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে গোপাল কৃষ্ণ গান্ধী এবং নাজমা হেপতুল্লার নাম৷ তামিলনাড়ুর এআইএডিএম এবং ডিএমকে এখনও তাদের মুখ খোলেনি৷

এই প্রসঙ্গে পলিটিক্যাল এডিটর ডক্টর পার্থ চট্টোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‘সবদিক বিবেচনা করে বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ই হবেন সবথেকে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী৷ প্রণববাবুর সঙ্গে বিজেপির সমীকরণ বেশ ভালো৷ মোদীর সঙ্গে বোঝাপড়াও ভালো৷ বিভিন্ন রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন যেন গোলমেলে৷ এই মূহুর্তে সবাই যেন কেমন তটস্থ৷ যে কারণেই হোক, নিজেদের ঘর সামলাতে ব্যস্ত৷ আগামী দিনে কেমন জোট হবে, কী জোট হবে সেটা মাথায় রেখে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে নতুন কোনো বিতর্কে জড়াতে চাইছে না৷ বিজেপি যদি উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে না পায়, তাহলে প্রণববাবুকেই হয়ত মেনে নেবে৷ নির্বিরোধ, নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে৷''

ভারতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল. রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করে এক নির্বাচকমন্ডলী বা ইলেকট্রোরাল কলেজ৷ তাতে থাকেন সংসদের উভয় সভার সাংসদ রাজ্য বিধানসভাগুলির সদস্যরা৷ গোপন ব্যালটে দেওয়া তাঁদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন পাঁচ বছরের জন্য৷ তবে সব নির্বাচিত সদস্যের ভোটের তুল্যমূল্য কিন্তু এক নয়৷ বড়-ছোট রাজ্যগুলির জনসংখ্যার তারতম্য হিসেবে ভোটের মূল্য নির্ধারিত হয়৷ একটা রাজ্যের ভোট সেই রাজ্যের জনসংখ্যাকে এক হাজার দিয়ে ভাগ করা হয়৷ তিনি দেশের সাংবিধানিক প্রধান৷ তবে দ্বিতীয়বার তিনি র্নির্বাচিত হতেই পারেন৷  বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় নির্বাচিত হন ২০১২ সালের জুলাই মাসে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়