1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম: সংবিধানে তার থাকা না থাকা

সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম৷ অথচ শুরুতে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের কোনো বিধান ছিল না৷ বরং সংবিধানের চার মূলনীতির অন্যতম ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা৷ কিন্তু ১৯৮৮ সালে এরশাদের শানমালে সংবিধানের চরিত্র পাল্টে দেয়া হয়৷

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়, যা কার্যকর হয় ঐ বছরেরই ১৬ ডিসেম্বর থেকে৷ সেই সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি ছিল – ১. জাতীয়তাবাদ, ২. গণতন্ত্র, ৩. সমাজতন্ত্র এবং ৪. ধর্মনিরপেক্ষতা৷ অর্থাৎ সংবিধানের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়৷ এরপর ক্ষমতায় আসেন জিয়াউর রহমান৷ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের শুরুতে প্রস্তাবনার আগেই ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম'(দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করলাম) – এই কথাটি সংযোজন করা হয়৷

তারপর ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশের সংবিধানের মূল চরিত্রটিই পরিবর্তন করে দেন তখনকার স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদ৷ তাঁর শাসনামলে সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়৷ সংবিধানের ঐ অষ্টম সংশোধনীতে বলা হয়, ‘‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাবে৷''

পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হলেও, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এখনো বহাল আছে৷ তাই সেই রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের জন্যই এখন উচ্চ আদালতে একটি মামলা চলছে, যা দায়ের করা হয়েছিল ১৯৮৮ সালে৷ অর্থাৎ যখন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধানে সংযোজন করা হয়, সে বছরই৷

অডিও শুনুন 05:44

‘সংবিধানের মূল নীতি পরিবর্তন করা যায় না, যা করা হয়েছে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে স্থান দিয়ে'

২৭ বছর আগে হাইকোর্টে প্রথম এ বিষয়ে রিট আবেদন করার পর, পাঁচবছর আগে আরো একটি সম্পূরক রিট হয়৷ সেই দু'টি রিটের শুনানি একসঙ্গে করা হচ্ছে বলে রিটের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক ডয়চে ভেলেকে জানান৷

রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধে তখন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক৷ তাঁদের মধ্যে ছিলেন কবি সুফিয়া কামাল, ড. কামাল উদ্দিন হোসেন, কে এম সোবহান, বিচারপতি দেবেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য, কলিম শরাফী, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, সিআর দত্ত প্রমূখ৷ তখনই আদালত রুল ইস্যু করে৷ এরপর ২০১১ সালে সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলে আরেকটি সম্পূরক রিট হয় হাইকোর্টে এবং তাতেও রুল ইস্যু হয়৷

আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘গত ২৯ ফেব্রুয়ারি দু'টি রিট এক করে শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টের তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে৷ বিচারপতি নাইমা হায়দার এই বেঞ্চের নেতৃত্ব দিচ্ছেন৷ চলতি মাসের ২৭ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে৷ মতামতের জন্য আদালত ‘এমিকাস কিউরি' নিয়োগ দিয়েছে৷''

জগলুল হায়দার বলেন, ‘‘আমাদের আবেদনের মূল কথা হলো, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করার মাধ্যমে সংবিধানের অসাম্প্রদয়িক চরিত্রকে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে৷ এর মাধ্যমে একটি ধর্মকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘সংবিধানের মূল নীতি পরিবর্তন করা যায় না, যা করা হয়েছে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধানে স্থান দিয়ে৷''

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, নির্যাতন এবং জঙ্গিবাদের মূল কারণ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা৷ আমরা এর অবসান চাই৷''

জানা গেছে, এই রিট আবেদনটি অনেক সময় পর হলেও শুনানির কার্যতালিকায় আসায় জীবিত রিটকারীরা আবার আশান্বিত হয়েছেন৷ তাঁরা মনে করছেন, এই রিটের নিষ্পত্তির মাধ্যমে সংবিধানের সাম্প্রদয়িক চরিত্রের অবসান ঘটবে৷

অ্যাডভোকেট এ কে এম জগলুল হায়দারের কথায়, ‘‘সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৭২-এর সংবিধানে এখনো আমরা পুরোপুরি ফিরে যেতে পারিনি৷ ফিরে যেতে হলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করতে হবে৷ আমরা আশা করি আদালত থেকে সেই রায় পাবো৷''

আপনি কি অ্যাডভোকেট এ কে এম জগলুল হায়দারের সঙ্গে একমত? জানান নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়