1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধী আন্দোলন চলছে, কাজও চলছে

রামপালে মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ করতে সরকারের কার্যক্রমও চলছে, আবার এটি বাতিল করতেও আন্দোলন চলছে৷ শনিবার রাজধানীতে এক সমাবেশ হয়েছে৷ ওই সমাবেশ থেকে বলা হয়েছে, ২৬ জানুয়ারি ঢাকায় অর্ধদিবস হরতাল পালন করা হবে৷

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে আরো কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে৷ অন্যদিকে গত ১২ জুলাই ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী বিদ্যুৎ কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল) এবং ঠিকাদার কোম্পানি ভারত হেভি ইলেক্ট্রিক্যালস লিমিটেডের (ভেল) মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে৷ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বিআইএফসিএল'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য এবং ভেল'র প্রতিনিধি প্রেম পাল যাদব৷

রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ এগিয়ে নেয়ার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করতে বর্তমানে নতুনদিল্লি অবস্থান করছেন উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য৷ সেখান থেকেই টেলিফোনে শনিবার বিকেলে ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই মুহূর্তে আমি বৈঠক করছি৷ আমাদের কাজ এগিয়ে চলছে৷ নির্দিষ্ট সময়ে আমরা কাজ শেষ করতে পারব৷''

মূল কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এখন আর্থিক ‘কোজারে' যাচ্ছি৷ এটার অনুমোদন হলেই মূল কাজ শুরু হবে৷ আমরা পরিবেশবান্ধব সব প্রযুক্তি ব্যবহার করেই এটা করব৷ আমরা সরকারি কোম্পানি যা বলবে সেটাই করব৷ আমাদের পক্ষে কোনো কিছু এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই৷ আবারও বলছি, সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না৷''

অডিও শুনুন 00:47

‘‘শুধু বাংলাদেশপন্থি কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না’’

দুই প্রতিষ্ঠানের ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা (১৪৯ কোটি মার্কিন ডলার)৷ এর ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ করবে উদ্যোক্তা কোম্পানি৷ অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ ঋণ নেওয়া হবে৷ দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, ঠিকাদার এই ঋণ সংগ্রহ করবে৷ এক্ষেত্রে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট (এক্সিম) ব্যাংক থেকে ভেল ঋণের অর্থ পাবে৷ ২০১৯ সালের জুলাই মাসের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে৷

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, ‘‘এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমাদের একটি বড় স্বপ্নের বাস্তবায়ন শুরু হলো৷ তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থামিয়ে রাখা যাবে না৷ সন্ত্রাস আমাদের অগ্রযাত্রা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না৷ তরুণদেরকে ধর্মান্ধতা ও অন্ধকারের পথ ছেড়ে সঠিক পথে ও দেশ গড়ার কাজে অংশীদার হওয়ার আহবান জানান তিনি৷'' 

এদিকে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছেই৷ শনিবারও রাজধানীর শহীদ মিনারের কাছে সমাবেশ হয়েছে৷ এই প্রকল্প বাতিল এবং সাত দফা বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে আগামী ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎবন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি৷ এ সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়িত না হলে ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগরে অর্ধদিবস হরতাল পালন করা হবে৷ একই দাবিতে ৭ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ দিবস পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়৷ এ ঘোষণা দেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ৷

অডিও শুনুন 00:47

‘‘আবারও বলছি, সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না’’

সমাবেশের আগে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ টেলিফোনে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদেরতো চেষ্টা করতেই হবে৷ সুন্দরবনতো সবার জন্য৷ বাংলাদেশকে রা করার জন্য সুন্দরবন এত বেশী গুরুত্বপূর্ণ যে এটা রক্ষা করার জন্য সবাইকেই চেষ্টা করতে হবে৷ যারা বিষয়টা বুঝছেন তারা সবাই এর সঙ্গে এখন সম্পৃক্ত হচ্ছেন৷ আমরা এখনও বিশ্বাস করি সরকার তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি আস্থা রাখবে, মানুষের দাবির প্রতি আস্থা রেখে এই প্রকল্প বাতিল করবে৷ পাশাপাশি বিশ্বের যে জনমত তৈরি হয়েছে ইউনেস্কোসহ তাদের দাবির প্রতিও আস্থা রাখবে এবং সহসাই এই প্রকল্প বাতিল করবে৷''

শনিবারের সমাবেশে ঘোষিত অন্য কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, আগামী ৭ জানুয়ারি দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিবাদ দিবস, ১৪ জানুয়ারি দেশবাসীর সামনে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য সুলভ, টেকসই, পরিবেশ ও জনবান্ধব বিকল্প মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন, ২৬ জানুয়ারির আগে সারাদেশে জেলা ও বিভাগীয় শহরে সমাবেশ৷ মহাসমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘‘রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষতির নানা দিক আমরা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও যুক্তি দিয়ে সরকারকে বুঝানোর চেষ্টা করেছি৷ কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা তা শুনছেন না৷ জনবিরোধী প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তারা অটল রয়েছে৷ আমরাও যেকোনো মূল্যে এটিকে প্রতিহত করব৷''

তিনি বলেন, ‘‘এ সরকার শুধু নামেই বাংলাদেশ সরকার৷ এর মধ্যে ভারতপন্থি রয়েছে; চীনপন্থি, রুশপন্থি, আমেরিকাপন্থি রয়েছে; শুধু বাংলাদেশপন্থি কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না৷’’ অবিলম্বে এই প্রকল্প বাতিলের দাবি করেন তিনি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়