1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

রামনাথ কোবিন্দ প্রেসিডেন্ট, বিদায় নেবে অস্পৃশ্যতা?‌

২৫ জুলাই দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব নেবেন রামনাথ কোবিন্দ৷ তবে সমস্ত পরিচয়কে পেছনে ফেলে দিয়েছে তাঁর দলিত সত্তা৷ দুই দলিতের লড়াই যেন প্রমাণ করল একবিংশ শতাব্দীতেও ভারতের অন্ধকারের যাত্রা শেষ হয়নি৷

ইদানীং নতুন এক শব্দকে ঘিরে উত্তাল হয়েছে গোটা ভারত৷ শব্দটি ‘‌গো-‌রক্ষক'‌৷ গরু তাদের ‘‌মা'‌, তাই কেউ নেহাৎ খাদ্যাভ্যাসের কারণে গরুর মাংস খেতে চাইলে তাকে মেরে ফেলো৷ তা-‌ও আবার জনসমক্ষে পিটিয়ে খুন করো৷ কেউ বংশানুক্রমিক জীবিকা নির্বাহের উপায় হিসেবে মৃত গবাদি পশুর চামড়া ও অন্যান্য জিনিসের ব্যবসা করতে গিয়ে ‌‘‌গো-‌হত্যা'‌র অভিযোগে ধৃত৷ প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমের পাতা জুড়ে হত্যার খবর প্রকাশিত হচ্ছে৷

গত কয়েক বছরে গরু-সহ ‘‌ধরা পড়ে'‌ নির্মম মৃত্যু বরণ করতে হয়েছে বেশ কিছু মানুষকে৷ তাঁদের অনেকেই সমাজের অনগ্রসর শ্রেণির, ভারতে যাঁদের  রাজনৈতিক নাম ‘দলিত'৷ হিন্দু-‌মুলসমান বিভেদের মতো এদেশের হিন্দু সমাজে আবার উচ্চবর্ণ ও নিম্নবর্ণের বিভেদও বেশ স্পষ্ট৷ দলিত, মুসলমান এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের শুধুমাত্র ভোটব্যাংক হিসেবেই দেখতে অভ্যস্ত ভারতের রাজনীতিকরা৷

অডিও শুনুন 03:14

‘রামনাথ কোবিন্দ এখন ভারতের রাষ্ট্রপতি, তাঁর দলিত পরিচয় মোটেই আর বড় নয়’

দলিত শ্রেণি থেকে উঠে আসা ভারতের নতুন প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হক বললেন, ‘‌‘‌রামনাথ কোবিন্দের পরিচয় এখন উনি ভারতের রাষ্ট্রপতি৷ দলিত পরিচয় মোটেই আর বড় নয়৷ আমরা আশা করব, অস্পৃশ্যতা ঘুচে যাবে৷ কিন্তু তা কতটা হবে সেটা দেখতে হবে৷ তবে আমার মনে হয়, গো-রক্ষার নামে যা ঘটছে সেটা একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনা৷ একদল বলছেন এমনটা হওয়া উচিত নয়, হতে দেওয়া হবে না৷ তা-‌ও প্রতিদিনই দলিতদের গণহত্যা করা হচ্ছে৷ এর পেছনে রয়েছে রাজনীতি৷ একটা দাঙ্গা বাঁধিয়ে যদি ১০-‌১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা যায়, সহজ পথ হিসেবে সেটাই বেছে নেবে ওরা৷ আসলে সমাজকে বিভাজিত করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা৷''

‌সংসদে দলিত ইস্যুতে কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলে রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী তথা দলিত নেত্রী মায়াবতী৷ বৃহস্পতিবারই তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহিত হয়েছে৷

শাসক দলের নেতারা মনে করেছেন, দলিত মুখ হিসেবে কোবিন্দকে রাষ্ট্রপতি করা হলে জোড়া লাভ হবে৷ এক, বার্তা দেওয়া যাবে যে, বিজেপি গোটা হিন্দু সমাজকে এক সুতোয় বাঁধতে চাইছে৷ দুই, লোকসভা ভোটের আগে দলিত ও উচ্চবর্ণের ভোটকে এক ছাতায় আনা যাবে৷

লোকসভার সাংসদ তাপস মন্ডল জানাচ্ছেন, ‘‌‘‌দলিত রাষ্ট্রপতি হওয়াতে ভারতে দলিতদের অবস্থার খুব একটা যে উন্নতি হবে তা হলফ করে বলা যায় না৷ কারণ, এর আগেও কে আর নারায়নাণ ছিলেন৷ কোবিন্দকে বিভিন্ন সমাজের মানুষ নির্বাচিত করলেন৷ এটা একটা বার্তা দেওয়া যে, দলিতরা কোনও অংশেই ছোট নয়৷ কিন্তু, হাজার হাজার বছর ধরে দলিতদের যে চোখে দেখে আসা হয়েছে তা বদলাতে হলে আরও বেশি উদ্যোগের প্রয়োজন৷ একজন দলিতকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে হাত ধুয়ে ফেললে হবে না৷ তার জন্য অনেক বেশি পরিকল্পনা ও সদিচ্ছার প্রয়োজন৷ রোহিত ভেমুলার মতো ঘটনার পরেও দলিত নির্যাতন থেমে নেই৷ সমাজ থেকে এই অন্ধকারাচ্ছন্ন দিকটি মুছে ফেলা সত্যিই ভীষণ কষ্টকর৷ তাছাড়া আমাদের দেশে রাষ্ট্রপতির কাজের পরিসর অত্যন্ত ছোট৷'‌'

অডিও শুনুন 02:08

‘কজন দলিতকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে হাত ধুয়ে ফেললে হবে না’

‌উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে দলিত নির্যাতন সবচেয়ে বেশি৷ বাদ নেই দক্ষিণের কয়েকটি রাজ্যও৷ দলিতকে অস্পৃশ্য করে রাখার ঘটনা রোজই সামনে আসছে৷ স্কুল, কলেজ, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়েও দলিত নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে৷ দলিত ছেলের সঙ্গে প্রেম করায় নিজের মেয়েকে পিটিয়ে খুন করার ঘটনা প্রায়ই ঘটে চলেছে৷ রাজনীতিগতভাবে উচ্চবর্ণের ভোট বিজেপি-‌র দখলে৷ গত তিন বছর ধরে বিজেপি কেন্দ্রের শাসক দল৷ ফলে, দলিত নির্যাতনের যাবতীয় দায় এসে পড়ে বিজেপি‌র ঘাড়েই৷ বিরোধীরা অন্তত তেমনটাই বলছেন৷ গুজরাটের উনায় গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন কয়েকজন দলিত৷ গো-‌রক্ষকরা তাঁদের পিটিয়ে মেরে ফেলেছে৷ হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবি ছাত্র রোহিত ভেমুলা দিনের পর দিন অপমানিত হতে হতে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন৷ সুইসাইড নোটে লিখে গেছেন সেকথা৷

ছত্তিশগঢ়ের রামনামী সমাজের কাছে তাঁদের শরীরের ট্যাটু মন্দিরে ঢোকার ছাড়পত্র৷

মধ্যপ্রদেশের একটি ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা ভারতকে৷ দলিত পরিবার, বিবাহ বা আনন্দ অনুষ্ঠানে ব্যান্ড বাজানো কীসের?‌ এমনই নিদান ছিল সেখানকার তথাকথিত উচ্চবর্ণের৷ মৌখিক নিদান অগ্রাহ্য করে বিয়ের আসরে ব্যান্ড বাজানোর আয়োজন করেছিল একটি পরিবার৷ তারপর ব্যবহার্য পানীয় জলের কুয়ো কেরোসিনের গন্ধে ভরে উঠল!

‌গত মার্চের প্রথম সপ্তাহে মহারাষ্ট্রে খুন হয়েছেন খ্যাতনামা দলিত নেতা ও লেখক কৃষ্ণ কিরওয়ালে৷ কোলহাপুরের রাজেন্দ্রনগরে নিজের বাড়িতেই তাঁর রক্তাক্ত দেহ পাওয়া যায়৷ তদন্তে উঠে আসে, দলিত পরিচয়ই তাঁর মৃত্যুর অন্যতম কারণ৷ রোজ রোজ হামলা হয়, মানুষ বলে গণ্যই করে না সমাজের উচ্চবর্ণের লোকেরা৷ এই অবস্থা থেকে বাঁচতে ধর্ম বদলে নিল ১৮০টি দলিত পরিবার৷ উত্তরপ্রদেশের রুপদি, এগরি এবং কাপুরপুর গ্রামের ওই ১৮০টি দলিত পরিবার বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

রোহিত ভোমুলার পরেও থামেনি কলেজের হস্টেলে দলিত বলে র‌্যাগিংয়ের ঘটনা৷ সরকারি কলেজের হস্টেলে র‌্যাগিংয়ের শিকার হতে হয়েছে একদল ছাত্রকে৷ কেরলের কোট্টায়াম শহরের পলিটেকনিক কলেজের এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন৷ জানা গেছে, দলিত সমাজ থেকে আসার কারণেই ওই ছাত্রদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে৷

এমন পরিস্থিতেই রাষ্ট্রপতি হলেন রামনাথ কোবিন্দ৷ দলিত নেতা হিসেবেই তিনি পরিচিত৷ রাষ্ট্রপতি পদে রামনাথ কোবিন্দকে কেন প্রার্থী করল বিজেপি এবং এনডিএ?‌ সূত্র জানাচ্ছে, ধর্মীয় মেরুকরণের পাশাপাশি এবার দলিত এবং ওবিসি ভোটব্যাঙ্ককে একজোট করার জন্য দেশজুড়ে বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিজেপি৷ উত্তর প্রদেশে দলের বিপুল জয়ের পরেও দলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ ব্রাহ্মণ, তথা উচ্চবর্ণের হাতে থেকে যাওয়ার অভিযোগ খণ্ডন করতে পারছে না দল৷ সেই কারণে শুধুবিজেপিই নয়, সংঘ পরিবারের একটি অংশ দলিত কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার পক্ষে রায় দিয়েছে৷ কিন্তু, বিজেপি‌র ভাগ্যে যা-‌ই জুটুক না কেন, শেষমেষ প্রশ্নটা থেকেই গেল – ঠিক কবে দেশ থেকে বিদায় নেবে অস্পৃশ্যতা?‌

বন্ধু, আপনার কী মনে হয়? ভারত থেকে কি অস্পৃশ্যতা সত্যিই বিদায় নেবে কোনোদিন? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়