1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

রানা প্লাজা: বিপর্যস্ত শিক্ষা জীবন

রানা প্লাজা ধসে শুধু হতাহতের ঘটনাই ঘটেনি, তাঁদের সন্তানদের শিক্ষা জীবনেও নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়৷ রানা প্লাজা ধসের পর নিহত এবং আহতদের পরিবারের অধিকাংশ শিশু-কিশোরই স্কুল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে৷

রানা প্লাজার পাঁচটি পোশাক কারখানায় যাঁরা কাজ করতেন, তাঁদের সন্তানরা সাভার এলাকারই প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করত৷ সাভার সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, মানিক চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সাভার বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রানা প্লাজায় কর্মরতদের সন্তান অথবা নির্ভরশীল ১৫০ শিশু বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়ত৷ তবে তাদের দুই তৃতীয়াংশই রানা প্লাজা ধসের পর স্কুল ছেড়ে চলে গেছে৷ কোথায় গেছে তাও কেউ বলতে পারছেন না৷

এ সব স্কুলের শিক্ষকরা জানান, রানা প্লাজা ধসের পর থেকেই তাদের আর স্কুলে দেখা যায়নি৷ এমনকি গত এক বছরে তাদের একটি বড় অংশ আর স্কুলে ফিরে আসেনি৷

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গণস্বাক্ষরতা অভিযানের প্রধান এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে জানান, রানা প্লাজা ধসের কয়েক মাস পর তাঁরা স্থানীয়ভাবে স্কুল পড়ুয়াদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন৷ যোগাযোগ করেছেন বিজিএমইএ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরেষ রানা প্লাজা ধসে নিহত এবং আহতদের সন্তানদের পড়াশুনার ব্যাপারে কারুর কাছেই তেমন কোনো তথ্য নেই৷ তবে তাঁরা ধারণা করছেন, প্রায় ১,০০০ শিশুর শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে বা তারা স্থান পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছে৷

বিজিএমইএ-র সহ সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম ডয়চে ভেলেকে জানান যে, রানা প্লাজার ঘটনায় তাঁরা এ পর্যন্ত ৩০টি এতিম শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন৷ তাদের মধ্যে ১৬টি মেয়ে শিশুকে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম পরিচালিত আজিজুর রহমান বালিকা হোমসে দেয়া হয়েছে৷

সেখানেই তাদের পড়াশোনা এবং থাকা- থাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ তাদের জন্য বিজিএমইএ বছরে ১১ লাখ টাকা দিচ্ছে৷ এছাড়া চট্টগ্রামে অরকা হোমস নামে আরেকটি এতিম খানায় ১৪টি ছেলে শিশুর পড়াশোনা এবং থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে বিজিএমইএ৷

বিজিএমইএ-র সভাপতি আতিকুল ইসলাম জানান, ‘‘রানা প্লাজার ঘটনায় এতিম শিশুদের সংখ্যা যদি ১০০-রও বেশি হয়, তাহলেও তাদের দায়িত্ব নেবে বিজিএমইএ৷'' তবে এরকম শিশুর সংখ্যা কত তা জানা নেই বিজিএমইএ-র৷ তারা এ নিয়ে কোনো জরিপও করেনি গত এক বছরে৷

সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, ‘‘রানা প্লাজার ঘটনায় যেসব শিশুর শিক্ষাজীবন ব্যহত হয়েছে তাদের শিক্ষা সচল রাখতে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷ যখন যেভাবে খবর পাচ্ছেন সেভাবেই তাঁরা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন৷'' তিনি জানান, এ রকম এক ছেলেকে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিয়ে তার পড়াশোনার খরচও যোগাচ্ছেন তাঁরা৷

শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, অনেক কিছুর ডামাঢোলে এই শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি৷ তাই তাঁর কথায়, ‘‘এই প্রক্রিয়ায় আসলে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের অনেকেই সহায়তার বাইরে থেকে যাবে৷ তাই এখন প্রয়োজন সরকার এবং বিজিএমইএ-র যৌথ উদ্যোগে একটি জরিপ করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সংখ্যা ও তাদের অস্থান চিহ্নিত করা৷ এরপর তাদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য বাস্তব ভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়া৷ তা না হলে এই শিশুরা হয়ত শিক্ষা থেকে স্থায়ীভাবে বঞ্চিত হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়