1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

রানা প্লাজা: গুরুতর আতঙ্কে আক্রান্ত আহতরা

রানা প্লাজা ধসের পর সেই ভবনের যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁদের মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগই গুরুতর ‘ট্রমায়’ আক্রান্ত৷ তাঁদের চিকিত্‍সার কোনো সমন্বিত ব্যবস্থা এখনও করা হয়নি৷ কিছু প্রতিষ্ঠান কাউন্সেলিং-এর ব্যবস্থা করলেও, তা পর্যাপ্ত নয়৷

আনিসুল ইসলাম (৩০) রানা প্লাজার ‘নিউ ওয়েভ বটম' নামের পোশাক কারখানার অপারেটরের কাজ করতেন৷ ভবস ধসের পরদিনই তাঁকে উদ্ধার করা হয়৷ তাঁর শারীরিক ক্ষতি তেমন না হলেও, তিনি এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত৷ আনিসুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘রানা প্লাজা ধসের কয়েক মাস পর আমি একটি পোশাক কারখানায় কাজ নিই৷ কিন্তু তিন দিন পর কাজ ছেড়ে দেই আমি৷ মেশিন ধরতে গেলেই আমার হাত-পা কাঁপে৷ বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রচণ্ড ভয় লাগে আমার৷'' এই একইরকম অবস্থা রহিমা এবং সালেহা বেগমসহ আরো অনেকের৷

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট রানা প্লাজা ধসের পর বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের ওপর একটি জরিপ চালায়৷ সেই জরিপে দেখা যায়, ৯০ ভাগ শ্রমিকই ‘প্রাথমিক ‘ট্রমা' বা প্রাথমিক আতঙ্কে আক্রান্ত৷ তিন মাস পর আরেকটি জরিপে দেখা যায় যে, কমপক্ষে ৪০ ভাগ শ্রমিক ‘গুরুতর ট্রমা' বা গুরুতর আতঙ্কে আক্রান্ত৷ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘তাঁদের মধ্যে নানা উপসর্গ দেখা দিচ্ছে৷ ভয় পাওয়া, দুঃস্বপ্ন দেখা, অপরাধ বোধসহ নানা ধরণের দুঃসহ স্মৃতি তাঁদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে৷ এছাড়া ঘটনার পর থেকে তাঁরা বিষন্নতা এবং মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন৷'' তিনি বলেন, ‘‘এর সঠিক চিকিত্‍সা না হলে তাঁরা মাদকাসক্ত হয়ে উঠতে পারেন৷ তাঁদের মধ্যে বাড়তে পারে আত্মহত্যার প্রবণতা৷''

রানা প্লাজায় আহতদের মধ্যে যাঁরা আতঙ্কগ্রস্ত, তাঁদের চিকিত্‍সা সহায়তা দিচ্ছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংগঠন৷ ‘কেয়ার'-এর চিকিত্‍সা কেন্দ্র ‘মনোসামাজিক সহায়তা কেন্দ্র' এরকম ৫০০ জনকে চিকিত্‍সার আওতায় এনেছে৷ তাঁদের নিয়ে কাউন্সেলিং করা হচ্ছে৷ কেন্দ্রের পরিচালক ও মনোসামাজিক চিকিত্‍সক দেওয়ান সাফায়েত আহমেদ ডয়চে ভেলেকে জানান, তাদের পর্যবেক্ষণে রানা প্লাজার ঘটনায় আহতদের প্রতি ১০ জনের পাঁচজন ট্রমায় আক্রান্ত৷ তার মানে, আহত ২,৪৩৮ জনের মধ্যে অর্ধেকই এখন গুরুতর আতঙ্কে ভুগছেন৷ দেওয়ান সাফায়েত আহমেদও বলেন, সঠিক চিকিত্‍সা না হলে এর শেষ পরিণতি আত্মহত্যা৷

অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলামের কথায়, আতঙ্কগ্রস্তদের জন্য এখন সরকারের উদ্যোগে ব্যাপক ভিত্তিক চিকিত্‍সা কার্যক্রম শুরু করা উচিত৷ নয়ত তাঁরা আর কর্মক্ষম হবেন না৷ ঠিকমতো চিকিত্‍সা না হলে তাঁরা আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না৷ করতে পারবেন না কোনো কাজ৷ তখন তাঁদের ও তাঁদের পরিবারে নেমে আসবে চরম বিপর্যয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন