1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

রাতেও উড়ছে সোলার প্লেন

এতদিন উড়েছে দিনে৷ এবার রাতেও ওড়ানোর পরিকল্পনা হচ্ছে৷ বলা হচ্ছে সোলার প্লেনের কথা৷ সূর্যশক্তিচালিত পরীক্ষামূলক এই উড়োজাহাজ আজ বৃহস্পতিবারই উড়তে যাচ্ছে রাতের সূর্যবিহীন আকাশে৷

default

অপার শক্তির আধার সূর্য৷ সৌরজগতের এই নক্ষত্রের শক্তির ব্যবহার দিনকে দিন বাড়িয়ে চলেছে মানুষ৷ আর এর সর্বশেষ প্রয়াস সৌরশক্তিতে বিমান চালানো৷ সুইজারল্যান্ড থেকে যে বিমানটি উড়বে, তা চলবে সূর্যের শক্তিতে৷ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর ধারাবাহিকতায় এই প্রয়াস৷

সৌরশক্তিতে বিমান চালানোর স্বপ্নচারী সুইজারল্যান্ডের বার্টার্ন্ড পিকার্ড বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘‘চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন একুশ শতকে বসে দেখে আর লাভ নেই৷ কারণ গত শতকেই তা সত্যি হয়ে গেছে৷ এখন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর দিকে আমাদের চোখ ফেরাতে হবে৷'' আর সৌরশক্তিতে বিমান চালানো সমাজকে নতুন একটি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ারই চেষ্টা বলে জানালেন তিনি৷

পেয়ার্নে বিমান ঘাঁটি থেকে পরীক্ষামূলক যে সোলার প্লেনটি উড়বে তা ওজনে খুব বেশি ভারী নয়৷ একটি গাড়ির সমান৷ তবে এর ডানাগুলো এয়ারবাসের ডানার মতো৷ সূর্য থেকে শক্তি সঞ্চয়ে এতে আছে চারটি বৈদ্যুতিক মোটর৷ যার প্রতিটি ১০ অশ্বশক্তির৷ সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের আকাশে ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার গতিতে উড়বে এই বিমান৷ এর আগে দিনে কয়েকবার পরীক্ষামূলকভাবে উড়েছে এই বিমান, তবে রাতে এবারই প্রথম৷

Klimaschutztechnologien Solarflugzeug Flash-Galerie

উড্ডয়নটি হবে সকালে৷ আর ইউরোপে এখন গ্রীষ্ম চলছে বলে সূর্যালোকের কোনো অভাব আপাতত হচ্ছে না৷ তবে রাতে যখন সূর্য থাকবে না, তখন কীভাবে চলবে এই উড়োজাহাজ? প্রশ্নের উত্তরে এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত আন্দ্রে বোর্শব্যার্গ বলেন, ‘‘দিনে এটি শক্তি সঞ্চয় করে রাখবে৷'' তবে রাতে যে সমস্যায় পড়তে হতে পারে, তা আগে থেকেই জানিয়ে রাখছেন গবেষকরা৷ এক সময়ের নভোচারী ক্লোদ নিকোলিয়ে বলেন, ‘‘রাতে যদি জ্বালানি ফুরিয়ে আসে, তখন হয়তো অবতরণের সিদ্ধান্তই নিতে হতে পারে৷ আর বিমানটিতে কোনো অটোপাইলট না থাকায় পাইলটকে সব সময় থাকতে হবে অতি সতর্ক৷'' সোলার প্লেনটি নিয়ে উড়ছেন বোর্শব্যার্গ নিজেই৷ তাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন নিকোলিয়ার এবং নাসার অবসরপ্রাপ্ত পাইলট রজার স্মিথ৷

রাতের আকাশে সোলার প্লেনের ওড়া নিয়ে রীতিমতো রোমাঞ্চিত বোর্শব্যার্গ৷ আর তার কাজের যে সঙ্গী সেই বার্টার্ন্ড তো দুঃসাহসী বলেই খ্যাতিমান৷ বেলুনে চড়ে বিশ্বভ্রমণের রেকর্ড রয়েছে তাঁর৷ অবশ্য রোমাঞ্চের নেশা তাঁর রক্তে মিশে আছে৷ বাবা জাক পিকার্ড এবং দাদা আউগুস্ত পিকার্ডেরও ছিলো এমনই নেশা৷ জাক বেলুনে করে সবচেয়ে উঁচুতে উঠে কমিক বইয়ের চরিত্র বনে আছেন৷ আগুস্তও কম যান না, তবে তাঁর অভিযাত্রা ওপরে নয়৷ প্রশান্ত মহাসাগরের ১০ হাজার ৯১৬ মিটার গভীরে নেমেছিলেন তিনি৷

বার্টার্ন্ড জানালেন, এখন তো ছোট্ট বিমান, খুব শিগগিরই বড় সোলার প্লেন তৈরিতে হাত দিচ্ছেন তাঁরা৷ আর বৃহস্পতিবারের উড্ডয়ন যে সফল হবে, সে ব্যাপারে পুরোপুরিই নিশ্চিত তিনি৷ আর এভাবে যদি বার্টার্ন্ডরা এগিয়ে যান, তবে সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যখন সবাই সাত সমুদ্দুর পাড়ি দেবে সোলার প্লেনেই৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়