1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

রাতারাতি পরিবেশ বান্ধব? সেটা কি সম্ভব?

অবশেষে সবাই এক নৌকায়, বিশ্বের সব দেশ৷ এছাড়া দরিদ্র দেশগুলির জন্য বিশেষ অর্থসাহায্যের ব্যবস্থা থাকবে: এই হলো নতুন আবহাওয়া চুক্তির ভিত্তি, যা নিয়ে লিমায় আলোচনা৷ কিন্তু খুঁটিনাটি এখনও স্পষ্ট নয়, বলছেন ইয়েন্স থুরাও৷

রাজনীতিক, কর্মকর্তা, পর্যবেক্ষক, পরিবেশ আন্দোলনকারী, এমনকি সাংবাদিক, সকলেই এ বিষয়ে একমত যে, লিমায় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের পরিবেশ অন্যান্য বারের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা৷ ‘‘বুনিয়াদি ইতিবাচক মনোভাবটি সর্বত্র অনুভব করা যায়, সব ধরনের কথাবার্তা, আলাপ-আলোচনায়'', বলেছেন ‘জার্মান ওয়াচ' পরিবেশ গোষ্ঠীর ক্রিস্টফ বাল্স৷

প্রতিনিধিদের মন ভালো হওয়ার কারণ, একটি নতুন জলবায়ু চুক্তির আশা, যা জাতিসংঘের যাবতীয় ১৯৫টি সদস্য দেশের সমর্থন পাবে এবং আগামী বছর প্যারিসে স্বাক্ষরিত হবে৷ ‘‘এই চুক্তি নীতিগতভাবে কামনা করে না, এমন কোনো দেশ আমার জানা নেই'', বলেছেন জার্মান পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রমন্ত্রী ইওখেন ফ্লাসবার্থ৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের যৌথ প্রেরণা

যে দু'টি দেশ সবচেয়ে বেশি পরিবেশদূষণকারী গ্যাস নির্গমন করে থাকে, অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন, তারাই এই নতুন আশাবাদিতার উৎস৷ মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বেইজিংয়ে যৌথভাবে জলবায়ু সুরক্ষা সংক্রান্ত লক্ষ্য পেশ করেছেন – যদিও উভয় দেশের লক্ষ্যের মধ্যে ব্যাপক ফারাক রয়েছে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০০৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের কার্বন নির্গমন মোট ২৭ শতাংশ কমাতে চায়; চীন ২০৩০ সাল থেকে তার কার্বন নির্গমনের পরিমাণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে৷ বিশেষ করে চীনের এই লক্ষ্যে উচ্চাশার কমতি আছে, বলে মনে হতে পারে, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে দু'টি দেশ এতোদিন ধরে জাতিসংঘের জলবায়ু সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা আটকে রেখেছিল, তারা যে এখন যোগ দিতে চায়, সেটাই তো বড় কথা৷

এছাড়া তারা নতুন জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে চায় – যে চুক্তি ২০২০ সাল থেকে সাবেক কিয়োটো চুক্তির স্থান নেবে৷ কিয়োটো চুক্তিতে বিশ্বের ৩৮টি ধনি দেশ তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন মোট পাঁচ শতাংশ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল: বিশ্বের অধিকাংশ দেশ সেই লক্ষ্য পূরণের ধারে-কাছে আসতে পারেনি৷ যে ক'টি দেশ লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছে, তাদের মধ্যে জার্মানিও আছে৷

নতুন চুক্তিতে ১৯৯০ সাল যাবৎ বিশ্বের পরিবর্তিত জিও-পলিটিক্যাল বা ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখা হবে৷ ভারত, ব্রাজিল কিবা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো উত্থানশীল দেশ, কিয়োটো চুক্তিতে যাদের উপর কার্বন নির্গমন হ্রাস সংক্রান্ত কোনো দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়নি, তাদেরও এবার জলবায়ু সুরক্ষায় অবদান রাখতে হবে৷ এবং তাদের সঙ্গে অবশ্যই চীন, যে দেশ বিশ বছর আগে যখন কিয়োটো চুক্তি সৃষ্টি হয়, তখন একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গণ্য হয়েছিল৷

Symbolbild Fracking Anlage

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘ফ্র্যাকিং’ পদ্ধতিতে গ্যাস উৎপাদন

তবে কি চীন এখন সত্যিই সহযোগিতা করতে চলেছে? চীন যে আজ নিজেই সক্রিয় হবার অভিপ্রায় ঘোষণা করেছে, তার ফলেই চীনের উপর আরো বেশি করার চাপ আসছে৷ ‘‘চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরো বেশি উদ্যমী হতে হবে,'' লিমা পরিত্যাগ করার আগে বলেছেন জার্মান পরিবেশমন্ত্রী গ্যার্ড ম্যুলার: ‘‘এটা পর্যাপ্ত নয়৷ বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আমাদের ইউরোপীয় পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে৷''

সেই ‘ইউরোপীয় পর্যায়' অবশ্য ইইউ-তে সম্প্রতি ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে, কেননা ইইউ-এর জলবায়ু সুরক্ষার লক্ষ্যগুলিতে বহু বছর যাবৎ কোনো পরিবর্তন হয়নি৷ কিন্তু আন্তর্জাতিক, অর্থাৎ লিমার দৃষ্টিকোণ থেকে পরিলক্ষণ করলে দেখা যাবে, জলবায়ু সুরক্ষায় ইউরোপীয়রা পূর্বাপর পথিকৃৎ৷ ইউরোপীয়দের লক্ষ্য হলো, ১৯৯০ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন ৪০ শতাংশ হ্রাস করা: মার্কিনিদের পক্ষে যে লক্ষ্যে পৌঁছানো অসম্ভব – যদিও তারা ফ্র্যাকিং-এর কল্যাণে কার্বন নির্গমন কিছুটা কমাতে পেরেছে৷

DW-Mitarbeiter Jens Thurau

ইয়েন্স থুরাও

জলবায়ু তহবিল

বেইজিং কিন্তু ২০৩০ সালের পর কার্বন নির্গমন আর না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছু দিতে রাজি নয়৷ এখন প্রশ্ন হলো, দরিদ্র দেশগুলি এই প্রতিশ্রুতিতে সন্তুষ্ট কিনা, কেননা তারাই শেষমেষ নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে৷ দরিদ্র দেশগুলি এখনও আরো বেশি অর্থসাহায্যের প্রত্যাশায় রয়েছে – এবং সেক্ষেত্রেও আশাবাদিতার কারণ আছে৷ অস্ট্রেলিয়া এবং বেলজিয়ামের সদ্য প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির পর নতুন ‘সবুজ' জলবায়ু তহবিলের পুঁজি এখন এক হাজার কোটি ডলারের কিছু বেশি৷ উন্নয়নশীল দেশগুলি জলবায়ু সুরক্ষা সংক্রান্ত প্রকল্পের জন্য এই তহবিল থেকে সাহায্য পাবে৷ জার্মানি এই তহবিলে একশো কোটি ডলার প্রদান করেছে এবং কয়েক সপ্তাহ আগে বার্লিনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাতা সম্মেলনের আয়োজন করেছিল, যার জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন বিশেষ করে জার্মানির প্রশংসা করেন৷

আগামী বছর বিশেষজ্ঞরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের জলবায়ু সুরক্ষাগত পরিকল্পনা আর একবার খুঁটিয়ে দেখবেন, অতঃপর তা প্যারিস চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হবে৷ ওয়াশিংটন কিংবা বেইজিং এ বিষয়ে বিশেষ সুখি নয়, কিন্তু ইউরোপীয়দের কাছে এই পরীক্ষার গুরুত্ব অসীম৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন সম্বন্ধে কিছুটা দ্বিধা থেকেই যায়: বহুকালের পরিবেশ দূষণকারীরা কি রাতারাতি পরিবেশ বান্ধব হয়ে উঠতে পারে?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়