1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

রাজশাহীতে নিহত অধ্যাপক ছিলেন মুক্তমনা, রাজনীতি থেকে দূরে

দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী ছিলেন রাজনীতি থেকে দূরে থাকা একজন ছাত্রবান্ধব শিক্ষক৷ ছোট কাগজ বের করতেন৷ চালাতেন সাংস্কৃতিক সংগঠন৷

অডিও শুনুন 04:10

‘সংস্কৃতিমনা ও ছাত্রবান্ধব একজন শিক্ষকের শত্রু থাকতে পারে, চিন্তাও করা যায় না৷''

শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে রাজশাহী মহানগরের শালবাগান এলাকায় নিজের বাসার কাছে অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে হত্যা কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা৷ পুলিশ বলছে তাঁকে জঙ্গি স্টাইলেই হত্যা করা হয়েছে৷ আর আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী ‘ইসলামিক স্টেট’ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সাইট ইন্টেল গ্রুপ৷

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. রকিবুল আলম সোহান গত চার বছর ধরে অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী'র সাংস্কৃতিক এবং সমাজ সংস্কারমূলক কাজের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে জানান, অধ্যাপক সিদ্দিকী ‘কোমলগান্ধার' নামে একটি ছোট কাগজ বের করে আসছিলেন প্রায় ১০/১২ বছর ধরে৷

তিনি বলেন, ‘‘অনিয়মিত এই কাগজে ছাত্রদের লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ছাপা হত৷ স্যার নিজেও লিখতেন৷ এছাড়া বিশ্ববাংলা নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন চালাতেন তিনি৷ আর এ সবের খরচ তিনি নিজেই যোগাতেন৷''

বিশ্ববাংলা নামে সাংস্কৃতিক সংগঠনে কবিতা আবৃত্তিসহ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র যেমন: ঢোল, তবলা, বাঁশি এ সবের চর্চা হতো৷ ইংরেজি বিভাগেই এই সংগঠনটির কার্যক্রম চালাতেন তিনি৷

অধ্যাপক বিভিন্ন জনপদে ঘুরে লোকসাহিত্য সংগ্রহ করতেন৷ এ সবের ভিডিওচিত্রও ধারণ করতেন৷ লোকসাহিত্যেও ওপর একটি ভিডিওচিত্র নির্মাণের ইচ্ছাও ছিল তাঁর, জানান সোহান৷

তিনি বলেন, ‘‘খেলাধুলার প্রতি তাঁর ব্যাপক আগ্রহ ছিল৷ বিভাগের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তিনিই ছাত্রদের সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিতেন৷ আর গ্রামীণ খেলার প্রতি আর ছিল টান৷ তিনি তাঁর নিজ গ্রামে প্রতিবছর ঘোড়দৌড়ের আয়োজন করতেন৷ আর পুরস্কারও দিতেন নিজের অর্থে৷''

নিহত অধ্যাপক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের প্রতি তেমন আগ্রহী ছিলেন না৷ ব্লগও লিখতেন না৷ তিনি বলেন, ‘‘রাজনীতি থেকে দূরে থাকা, সংস্কৃতিমনা এবং ছাত্রবান্ধব একজন শিক্ষকের কোনো শত্রু থাকতে পারে আমরা তা চিন্তাও করতে পারছি না৷''

এদিকে, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুদ্দিন জানিয়েছেন, ‘‘অতীতে যেভাবে ব্লগারদের কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, একই কায়দায় অধ্যাপক রেজাউল করিমরকে হত্যা করা হয়েছে৷ এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডে কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী জড়িত৷''

এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা শাহদাত হোসেন জানান, একই মোটর সাইকেলে আসা দুই যুবক অধ্যাপককে কুপিয়ে পালিয়ে যায়৷

প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও একাধিক অধ্যাপক খুন হয়েছেন৷ ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর খুন হন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলাম৷ ২০০৬ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এস তাহের৷ দু'দিন পর ক্যাম্পাসের বাসার পাশের ম্যানহোলের ভেতরে তাঁর লাশ পাওয়া যায়৷ আর ২০০৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ভোরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন বিনোদপুর এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুসকে৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়