1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপের বিকল্প নেই’

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন আবারও বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দুই নেত্রীকে চিঠি দিয়েছেন৷ বিএনপি এই চিঠির কথা স্বীকার করলেও প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া চিঠি নিয়ে সরকারের তরফে কোনো মন্তব্য জানা যায়নি৷

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংলাপের জন্য চিঠি দেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন৷ এর পর থেকে রাজনীতির জল অনেক দূর গড়িয়েছে৷ জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত এবং সহকারি সেক্রেটারি জেনেরেল অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো দু'ফা বাংলাদেশ সফর করেছেন৷ প্রথম দফা ডিসেম্বরে এবং দ্বিতীয় দফা ১০ই মে৷ আর চলতি সপ্তাহেই তিনি তৃতীয় দফায় বাংলাদেশ সফরে আসছেন বলে জানা গেছে৷ তার আগেই অবশ্য জাতিসংঘের মহাসচিব দুই নেত্রীকে আবারো চিঠি দিলেন৷ জানা গেছে, চিঠিতে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপের কথাই বলা হয়েছে৷



চিঠি চালাচালি এবং বিশেষ দূতের দু'দফা ঢাকা সফরের বাইরেও গত ২৩শে আগস্ট দুই নেত্রীর সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে কথা বলে জাতিসংঘের মহাসচিব৷ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চালাকালে দুই দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ‘সাইড লাইন'-এ আলোচনার উদ্যোগ নিলেও, শেষ পর্যন্ত সে আলোচনা হয়নি৷

এই অবস্থায় জাতিসংঘের নতুন উদ্যোগে কোনো ফল আসবে কিনা জানতে চাইলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ফল আসুক বা না আসুক উদ্যোগ নিতে তো বাধা নেই৷ আর যে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগই যে দেশের মানুষকে আশান্বিত করে৷''

শান্তনু মজুমদার অবশ্য এ কথাও বলেন যে, বিদেশি কূটনীতিকদের অত্রিমাত্রায় তত্‍পরতার বিরোধী তিনি৷ তবে জাতিসংঘ ভূমিকা রাখতে পারে৷ এই প্রতিষ্ঠানটির নানা সমালোচনা থাকলেও বাংলাদেশ এর সদস্য৷ সদস্য রাষ্ট্রের নানা বিষয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ, উত্‍কণ্ঠা থাকতেই পারে৷ সেই জায়গা থেকে জাতিসংঘ উদ্যোগ নিতে পারে৷ কিন্তু কী উপায়ে সংকট নিরসন হবে, তা বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের অভ্যন্তরীণ বিষয়৷

তিনি মনে করেন, জাতিসংঘ বা বাইরের চাপে নয়, শেষ পর্যন্ত নিজেদের স্বার্থেই দুই রাজনৈতিক দল সমঝোতায় আসবে৷ কারণ, তারা জানে যে চূড়ান্ত সংঘাতের পরিণতি কী হবে৷ তারা জানে শেষ পর্যন্ত পুরো বিষয়টিই তাদের আয়ত্বের বাইরে চলে যেতে পারে৷ তখন দু'পক্ষই হিসেবের বাইরে চলে যাবে৷

তাহলে এত অনড় অবস্থান কেন, কেন ব্যাপক সহিংসতা? এই প্রশ্নের জবাবে শান্তনু মজুমদার বলেন, দুই পক্ষই চাইছে পরস্পরকে চাপে ফেলে যত দূর সম্ভব সুবিধা আদায় করতে৷ আর স্বাভাবিকভাবেই, তার বলি হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ৷ দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে যখন ‘উইন উইন সিচু্য়েশন' তৈরি হবে, কেবল তখনই এই সংঘাত থামবে৷ হবে রাজনৈতিক সমঝোতা৷ তবে এ ধরণের পরিস্থিতির সৃষ্টি না হলে, শেষ পর্যন্ত দুই দলই ছিটকে পড়তে পারে বলে মনে করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই অধ্যাপক৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়