1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

‌রাজনৈতিক ফাঁদ পাতলেন মোদী?‌

রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষেত্রে ব্যাংকে পুরনো ৫০০, ১০০০ টাকার নোট জমা দেওয়ার কোনো ঊর্ধসীমা নেই৷ কিন্তু এই ঘোষণার পরও ভরসা পাচ্ছে না কোনো দল৷ তাহলে কি বিরোধী দলগুলোর জন্যে আসলে একটা ফাঁদ পেতেছেন প্রধানমন্ত্রী?

ভারতে পুরনো ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাজারে এখন একেবারেই অচল৷ সরকারি ওষুধের দোকান, জাতীয় সড়কের টোল প্লাজা, পেট্রল পাম্প, ট্রেন ও সরকারি বাসের টিকিট, সম্পত্তি এবং জলকর মেটানোর ক্ষেত্রে পুরনো নোট নেওয়ার যে ছাড় দেওয়া ছিল, তা পর্যায়ক্রমে তুলে দেওয়া হয়েছে৷ এখন একমাত্র উপায়, ব্যাংকে, নিজের অ্যাকাউন্টে পুরনো টাকা জমা করা৷ তবে তারও ঊর্ধসীমা আছে৷ এবং এই পুরনো টাকা জমা দেওয়ার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ ডিসেম্বর৷ এইরকম একটা পরিস্থিতিতে হঠাৎই সরকারের তরফ থেকে অযাচিতভাবে ঘোষণা করা হলো – রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষেত্রে টাকা জমা দেওয়ার কোনো ঊর্ধসীমা নেই৷ শুধু তাই নয়, ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি যে আয়করের আওতায় পড়ে না, তাদের চাঁদা নেওয়ার ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা বা তার কম অঙ্কের ক্ষেত্রে দাতার নাম জানানোটাও যে জরুরি নয়, সেটাও মনে করিয়ে দেওয়া হলো৷ নেহাত অকারণেই৷

আবার সম্ভবত অকারণে নয়৷ সেটা বোঝা যাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলির সতর্ক প্রতিক্রিয়ায়৷ এমন নয় যে এই বিশেষ ছাড়ের ব্যাপারটা কোনো দলের মনে ছিল না৷ কিন্তু মনে করিয়ে দেওয়ার পরও কোনো দলকেই দেখা যাচ্ছে না ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দিতে৷ কেউ বলছেন, সরকার আসলে কালো টাকার মজুতদারদের মনে করাল যে তাদের বাতিল হয়ে যাওয়া টাকা অন্তত রাজনৈতিক দলগুলোকে চাঁদা হিসেবে দিয়ে ভারমুক্ত হওয়া যেতে পারে৷ কিন্তু সেই ধারণা একেবারেই ঠিক নয় কারণ, প্রথমত দলগুলো যে কারণে চাঁদা তোলে, মূলত ভোটের প্রচারের খরচ তুলতে, সেই খরচের ওপর নির্বাচন কমিশন কড়া নজর রাখছে বেশ কিছু বছর ধরে৷ খরচের ঊর্ধসীমাও বেঁধে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে৷ আর দ্বিতীয়ত, বিশেষত শিল্প সংস্থাগুলির টাকায় রাজনৈতিক দলগুলির ভোটের খরচ মেটানোর চিরাচরিত পদ্ধতিতে রাশ টানার চেষ্টা হচ্ছে৷ কারণ এই খরচ জোগানোর বিনিময়ে শিল্প সংস্থাগুলি নির্বাচিত সরকারের কাছে নানা ধরনের অন্যায় সুযোগ-সুবিধে নেওয়ার চেষ্টা করে ভবিষ্যতে৷ ভারতে বহু দুর্নীতির উৎসই এই বিনিময় ব্যবস্থা৷ যে কারণে সরকারি খরচে ভোট করার প্রস্তাব নিয়ে ইদানীং চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়েছে৷ ঠিক যেভাবে খরচ বাঁচাতে লোকসভা এবং বিধানসভার ভোট একসঙ্গে করার কথা ভাবছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার৷

প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কেন রাজনৈতিক দলগুলির প্রাপ্য বিশেষ সুবিধের কথা মনে করিয়ে দিল সরকার?‌ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি একটা আপত্তি তুলেছেন যে, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষকে কেন আলাদা করে দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে!‌ যে সুবিধে রাজনৈতিক দলগুলির প্রাপ্য, সেই একই সুবিধে দেশের নাগরিকদেরও পাওয়া উচিত৷ এবং উল্টোটা৷ কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয়৷ মমতার ক্ষোভ, মোদী সরকার আসলে চেষ্টা করছে দেশের মানুষ আর রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে৷ মোদী সরকার তাদের নিজেদের দল বিজেপি-কে উদ্দেশ্য করেই এই বিশেষ সুবিধের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলেও তৃণমূল নেত্রীর সন্দেহ৷ যদিও নিজের দলকে এরকম কোনো বার্তা দিতে হলে, সেটা গোপনে দেওয়াই স্বাভাবিক, প্রকাশ্যে ঘোষণা করে নয়৷

তাই এক বড় অংশের সন্দেহ, আসলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির জন্যে একটা ফাঁদ পাতলেন নরেন্দ্র মোদী৷ কারণ বড় অঙ্কের নোট বাতিলের পর থেকেই ব্যাংকে ব্যাংকে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ পর্যন্ত সংরক্ষিত রাখতে বলা হয়েছে৷ নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে দেশের সব ব্যাংকে বড় অঙ্কের লেনদেনের ওপর৷ নোট বাতিলের পর থেকে আয়কর দপ্তর অন্তত ৬০০টি অভিযান চালিয়েছে দেশজুড়ে৷ সোনার দোকান, জমি-বাড়ি, কোনো বড় অঙ্কের লেনদেন আয়কর নজরের বাইরে থাকছে না৷ এমনকি অবৈধ উপার্জনের স্বেচ্ছা ঘোষণা প্রকল্পে যাঁরা নিজেদের বেআইনি টাকার মজুত স্বীকার করে নিয়েছিলেন, দ্বিতীয়, কিংবা তৃতীয় আয়কর হানার থেকে তাঁরাও রেহাই পাচ্ছেন না৷ আচরণেই পরিষ্কার, সরকার কাউকেই বিশ্বাস করছে না৷ ফলে সরকারের ওপরেও আর কারও বিশ্বাস নেই, যারা এখনও ঘরে কালো টাকা মজুত রেখেছে৷ রাজনৈতিক দলগুলির ভরসা করার তো প্রশ্নই নেই, বরং সবাই অপেক্ষায়, মোদী সরকারের পরের পদক্ষেপ কী হতে চলেছে!‌

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়