1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

রাজনৈতিক দলে নারীর অবস্থান বাড়ানোর নির্দেশ

আর চার বছর বাকি৷ ২০২০ সালের মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সবস্তরের নেতৃত্বে ৩৩ শতাংশ নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে৷

আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বড় দলগুলোর গতবছর সম্মেলন হলেও তাতে নারীর অবস্থানের তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি৷ সর্বশেষ কাউন্সিল শেষে কমিটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত আট বছরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৮ দশমিক ৫১ শতাংশ, বিএনপি ১৩ দশমিক ০৫ ও জাতীয় পার্টি ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ কোটা পূরণ করেছে৷ অন্য দলগুলোর অবস্থাতো আরো খারাপ৷

নিবন্ধন প্রথা চালুর প্রায় ১০ বছর পার করেও আশাপ্রদ অগ্রগতি না হওয়ায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের কাছে চিঠি দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন৷ নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ডয়চে ভেকে বলেন, ‘‘আরপিও'র ৯০-এর খ-এর খ(২) অনুচ্ছেদে কেন্দ্রীয় কমিটিসহ রাজনৈতিক দলের সকল স্তরের কমিটিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ সদস্যপদ নারী সদস্যদের জন্যে সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং এই লক্ষ্যমাত্রা পর্যায়ক্রমে আগামী ২০২০ সাল নাগাদ অর্জন করার কথা বলা হয়েছে৷ ২০০৮ সালে নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর পর ২০২০ সালের মধ্যে পূরণের প্রতিশ্রুতি ইসিকে দিয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলো৷ প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এখনও ১৫ শতাংশও নারী সদস্য পূরণ করতে পারেনি দলগুলো৷ 

অডিও শুনুন 01:30

‘‘দলীয় গঠনতন্ত্র মেনে দলগুলো নিয়মিত কাউন্সিল করে যাচ্ছে’’

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘‘দলীয় গঠনতন্ত্র মেনে দলগুলো নিয়মিত কাউন্সিল করে যাচ্ছে৷ পাশাপাশি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিধানটি অনুসরণের বিষয়টি দলগুলোকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি৷ এজন্যে তাদের রবিবার এ-সংক্রান্ত চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে৷’’ দলগুলোর সাধারণ সম্পাদকের কাছে চিঠি পৌঁছে যাবে বলে জানান তিনি৷

নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একজন গবেষক জানান, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের উল্লেখযোগ্য কমিটিতে বড় তিন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিতে গড়ে এখনও ১১ শতাংশ পদে নারী সদস্য নেই৷ ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় রয়েছে৷ দলগুলোর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কিছু নারী নেতৃত্ব থাকলেও তৃণমূলে এ দৃশ্য খুবই হতাশাজনক৷

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আরপিও মেনে প্রতিটি রাজনৈতিক দলে ৩৩ শতাংশ নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছে৷ সংগঠনটির সাধারন সম্পাদক ড. মালেকা বানু ডয়চে ভেকে বলেন, ‘‘সব রাজনৈতিক দলই নির্বাচন কমিশনে কথা দিয়েছে এটা তারা পূরণ করবে৷ কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা যা দেখছি তা খুবই হতাশাজনক৷ এখন নির্বচন কমিশনকেই এ ব্যাপারে শক্ত ভূমিকা নিতে হবে৷ আমরা দেখি তারা কি সিদ্ধান্ত নেয়৷'' শুধু চিঠি দিয়েই কি নির্বচন কমিশন দায় শেষ করতে পারে? জবাবে তিনি বলেন, ‘‘কোনভাবেই না৷ এটা বাস্তবায়নে নির্বচন কমিশনকেই শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে৷ এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের৷''

কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সব দলের অংশগ্রহণে একাদশ সংসদ নির্বাচন করতে নির্বাচনী রোডম্যাপও তৈরি করছে৷ নির্বাচনী আইন সংস্কারসহ নানা বিষয়ে আগামী জুলাইয়ের শেষ দিকে সংলাপ শুরুর কথাও রয়েছে৷ সংলাপের প্রাক্কালে দলগুলোর কাছে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার এই চিঠি যাচ্ছে৷ নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে দলগুলোর সদিচ্ছা থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা নির্বাচন কমিশনের৷

অডিও শুনুন 01:53

‘‘এখন পর্যন্ত আমরা যা দেখছি তা খুবই হতাশাজনক’’

এই পরিস্থিতি সম্পর্কে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেছেন, ‘‘২০০৮ সালে হওয়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, ৩৩ শতাংশ নারীর কোটা পূরণের ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা আছে৷ যে দল ব্যর্থ হবে, আইন অনুযায়ী তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে৷ সুতরাং এ বিষয়ে দলগুলোকে এখন থেকেই সতর্ক হতে হবে৷''

বড় তিনটি রাজনৈতিক দলের বাইরে গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সিপিবির একাদশ কংগ্রেস শেষে দেখা যায়, ‘‘৪৫ জনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী মাত্র ৬ জন৷ অর্থাৎ ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ পদে নারীরা আছেন৷ সরকারের শরিক দল জাসদের ১০৯ সদস্যের কমিটিতে নারী আছেন মাত্র ১৩ জন, শতাংশের হিসাবে যা ১১ দশমিক ৯২৷''

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে দেশে নারী ভোটার ছিল ৪ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ছিল ৩ কোটি ৯৮ লাখ ২২ হাজার ১৪৯ জন৷ অর্থাৎ ৮ বছর আগে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটার ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৪০০ জন বেশি ছিল৷ ২০০৮ সালের পর থেকে ভোটার হালনাগাদে নারী ভোটার ক্রমশ কমতে কমতে এখন পুরুষের সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে৷ বর্তমান তালিকাতে দেশের ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫৩ জন৷ এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার ৩৬২ জন ও নারী ভোটার ৪ কোটি ৯৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৯১ জন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়