1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের শিবির - ধূসর এক জীবন

উন্নয়নশীল দেশ থেকে অনেকে ভাগ্যান্বেষণে পাড়ি দেন জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে৷ কেউ অর্থের টানে কেউ বা নিজ দেশে রাজনৈতিক হয়রানি এড়াতে চান নিরাপদ আশ্রয়৷ তবে সে জীবনও যে খুব সুখের তা বলা যায়না৷

default

এভাবে আর কতদিন?

নিজ দেশে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে যারা নির্যাতিত, কিংবা জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার যে সব মানুষ, তাঁরাই রাজনৈতিক আশ্রয় খোঁজেন জার্মানিতে৷ অনেক সময় গৃহযুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতেও দলে দলে শরণার্থী ইউরোপের দিকে যাত্রা করেন৷ অনেকে দালালের মাধ্যমে শেষ সম্বলটুকু ব্যয় করে বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে এসে পৌঁছান৷ কেউ কেউ প্রাণ হারান পথিমধ্যেই৷ পানিতে ডুবে, অনাহারে, অর্ধাহারে৷ এখন জার্মানিতে বেশির ভাগ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী আসছেন ইরাক, তুরস্ক, সার্বিয়া ও কসোভো থেকে৷ সব মিলিয়ে ৩০ হাজারের মত হবে সংখ্যাটা৷ তবে শরণার্থীদের জন্য ইউরোপের দরোজা এখন শক্ত করা হয়েছে৷ আরব বিশ্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের যে ঝড় উঠেছে, তার হাওয়া এসে পড়ছে এখন ইউরোপেও৷ স্বৈরশাহীর রোষানল এড়াতে দলে দলে শরণার্থী পাশের দেশগুলিতে আশ্রয় নিচ্ছেন৷ কেউ কেউ ইউরোপেও পাড়ি দিতে চান৷ কিন্তু জার্মানি সহ ইউরোপের দেশগুলি তাদের দ্বার খুলতে নারাজ৷ জার্মানিতে এলেই যে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য স্বর্গসুখ অপেক্ষা করে তা নয়৷ বরং বেশ কষ্টে সৃষ্টেই জীবন কাটাতে হয় তাদের৷ চলাফেরায় কোনো স্বাধীনতা থাকে না৷ নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যাওয়া নিষেধ৷ আশ্রয় শিবিরের ছোট ঘরে গাদাগাদি করে থাকতে হয় নানা দেশ থেকে আসা মানুষজনদের৷ প্রথম বছর কাজের অনুমতিও দেওয়া হয়না৷ হাত খরচের জন্য সামান্য অর্থ পান তাঁরা৷ এই ধরনের হতাশাগ্রস্ত জীবনে স্বাভাবিকভাবেই সহিংসতা ও অপরাধ প্রবণতা দেখা দেয়৷

Österreich Kosovo Asyl Familie Arigona Zogaj soll ausgewiesen werden

কসোভো থেকে আসা পরিবারগুলো সব দেশেই আশ্রয় চাচ্ছে

কসোভোর শরণার্থী এনিস – স্বপ্ন ভঙ্গ

হামবুর্গ শহরে শরণার্থীদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করে কসোভো থেকে আসা ১৩ বছরের এনিস৷ চার বছর ধরে আছে সে হামবুর্গের শিল্পাঞ্চল বিলস্টিগে৷ ৪৫০ জন শরণার্থী বাস করছেন সেখানে৷ অর্ধেকই অল্পবয়সি৷ বেশির ভাগই এসেছে সাবেক ইউগোস্লাভিয়া ও আফগানিস্তান থেকে৷ এনিস জানায়, ‘‘বাড়িগুলি এখানে ভাল নয়৷ গ্রাফিটি এঁকে নোংরা করে রাখা হয়েছে৷''

নিজস্ব একটি বাড়ির স্বপ্ন দেখে এনিস, যেখানে কোনো গোলমাল থাকবেনা৷৷ শুক্রবারের বিকেলটা অবশ্য কিছুটা শান্ত৷ বাইরে অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে৷ একঘেয়ে জীবনে মোবাইলটা সবসময় তার কানে৷ বাস আসে ঘন্টায় একবার৷ কাছের শপিং মলের দিকে রওনা হয় সে৷ প্রায় প্রতিদিনই সেখানে যায় এনিস৷ শরণার্থী শিবিরের অন্যান্য ছেলেমেয়েরাও ঘোরাফেরা করে সেখানে৷ এনিস জানায়, ‘‘আগে আমি তাদের সঙ্গে প্রায়ই ঘোরাঘুরি করতাম৷ অনেক অপকর্মও করেছি৷ গত দু এক বছর ধরে ওদের সঙ্গে আর ঘোরাঘুরি করছিনা৷''

Christen Asyl Deutschland Nassem Sohn einer ermordeten irakischen Christi

ইরাক থেকে এসেছে অনেক পরিবার– এরা কতদিন থাকতে পারবে জার্মানিতে?

মাদক আর নেশার কবলে শরণার্থী

চাইনিজ ফাস্ট ফুড রেস্তোঁরায় বিরাট এক প্লেট নুডলস খেয়ে এক পোশাকের দোকানের সিঁড়িতে বসে বোনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে এনিস৷ পরিবারের মধ্যে ১৭ বছরের বোন ভায়োলেটাই শুধু কাজ করার অনুমতি পেয়েছে৷ এনিস তাকে নিতে আসে৷ সে বলে, ‘‘আমাদের এলাকায় বা বাস স্টপে কেউ যদি তাকে অপমান করে৷ আমি থাকলে সেটা হয় না৷'' বাসটিতে অভিবাসী যাত্রীদেরই দেখা যাচ্ছে বেশি৷ সবাই যাচ্ছেন শরণার্থী আশ্রয় শিবিরের দিকে৷ অন্ধকার হয়ে আসছে, ভায়োলেটার চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ৷ বাড়ির দরজায় মাদকের গন্ধ৷ অল্পবয়সিরাও মাদক সেবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে৷ আগুন লাগিয়ে এটা সেটা পুড়িয়ে মজাও পায় তারা৷ তাই পুলিশের আনাগোনা লেগেই থাকে সেখানে৷ এনিস তার নিজের ঘরটা দেখায়, যেখানে সে বড় ভাইয়ের সঙ্গে থাকে৷ সে মনের কথা জানায়, ‘‘আমার নিজস্ব একটা টেবিল পেতে খুব ইচ্ছে হয়৷''

বাসায় কোনো চেয়ার নেই৷ এনিস স্কুলের হোমটাস্ক করে বিছানায় বা সোফায় বসে৷ অবশ্য পড়াশোনায় খুব একটা মনোযোগ নেই তার৷ বাবা প্রায়ই থাকেন না৷ থাকলেও নিজের ঘরে বসে সিগারেট টানেন৷ মা হতাশাগ্রস্ত ভেঙে পড়া এক নারী৷ ১৬ বছর জার্মানিতে থাকার পরও কাজের অনুমতি পাননি৷ এই ভাবে সকাল থেকে সন্ধ্যা গড়ায়৷ তবে বোনের সঙ্গে মাঝে মাঝে গান ধরে এনিস, যা গভীর আঁধারে একটুখানি আলোর ঝলক৷

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল ফারূক