1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পাঠক ভাবনা

‘‘রাজনীতি থেকে দুই নেত্রীকে বিদায় দিতে হবে''

ফেসবুকে পাঠক বন্ধুরা, বাংলাদেশে আগুন, গুলি আর মৃত্যুর মিছিল থামাতে নিরপেক্ষ নির্বাচন, দুই নেত্রীকে বিদায় নিতে হবে, সংলাপে বসতে হবে, গদি ছাড়তে হবে, এরকম আরো নানা উপায় জানিয়েছেন...

একদিকে আগুন, অন্যদিকে গুলি – মানুষ মরছে দু’দিকেই৷ মৃত্যুর এই মিছিল থামানোর উপায় কী? এর উত্তর ডিডাব্লিউ-র ফেসবুকে পাঠকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো৷ ফেসবুকে এই পোস্টটি দেখেছেন প্রায় ৩০ হাজার পাঠক৷ লাইক করেছেন দেড় হাজারেররও বেশি পাঠক৷ আর মতামত জানিয়েছেন, মন্তব্য করেছেন দু’শোর অধিক ফেসবুক বন্ধু৷

মাসুম প্রধান মনে করছেন, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগুন, গুলি আর অসহায় মানুষদের মৃত্যু রোধ করা সম্ভব৷ এই একই মত আরো অনেকের৷ যেমন সৈয়দ মোর্শেদের মন্তব্য, ‘‘সবদলের অংশগ্রহণে মধ্যবর্তী একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন৷'' এবং তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘‘আমাদের জনগণের একটি কাজ হবে, যে নতুন কোনো একটি দলকে নির্বাচিত করা৷''

জিয়াউর রহমান আবার নির্বাচন চান৷ আর কেন চান তার কারণও তিনি বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘দু দলই ক্ষমতার মোহে উন্মাদ, ক্ষমতাই এখানে মূখ্য৷ তাহারা জনগণকে মূল্যায়ন করে না, আর কোনো দেশ এভাবে চলতে পারে না৷ তাই সবদলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কাম্য৷ যেহেতু বিগত নির্বাচনটা প্রশ্নবিদ্ধ, তাই আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই একটি সর্বগ্রহণযোগ্য নির্বাচন জরুরি৷ তবে ক্ষমতাসীন দলেরই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার৷ তা না হলে একটা তৃতীয় মাত্রা যোগ হওয়াটাই স্বাভাবিক৷ সেটা হলো সামরিক শাসন৷''

ডয়চে ভেলের ফেসবুক বন্ধু আলী হোসেন তরুণ প্রজন্মের পক্ষে মত দিয়েছেন৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘খালেদা আর হাসিনাকে রাজনীতি থেকে বনবাসে পাঠাতে হবে, নতুন প্রজন্মের তরুণদের দ্বারা দেশ পরিচালনা এক মাত্র শান্তি লক্ষণ৷''

পাঠক মোখলেসের মতে ‘হাসিনার পদত্যাগ এবং একটি সুস্থ নির্বাচন৷'

আল ইসলাম একেবারে নিশ্চিত যে ‘‘এই দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে বিদায় দিতে হবে৷''

আগুন, গুলি আর মৃত্যুর মিছিল থামাতে শাহাব উদ্দীনের পরামর্শ, ‘‘সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দ্রুত একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা৷''

বন্ধু মোস্তাক আহমেদ মুনসি একটু ভিন্ন মত পোষণ করেন৷ তাঁর আশা, ‘‘আগামী ৩ বছর সেনাবাহিনী দ্বারা দেশ পরিচালনা দেখতে চাই এবং সকল অপরাধীদের সঠিক বিচার চাই৷ তিন বছর পরে জনগণের ভোটাধিকারের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী তাদের নিজ কর্মে ফিরে যাবে, এটাই আমার আশা৷

আবুল হানিফের সোজা কথা৷ তিনি মনে করছেন, হাসিনা সরে গেলে সব বন্ধ হয়ে যাবে৷ সাইদুল ইসলামের পরামর্শ যে ‘‘সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সুষ্ঠু একটি নির্বাচন দেওয়া হবে বিবেকমানদের মত বড় একটি কাজ৷'' পাঠক মুন্না, রাজু আহমেদ রঞ্জুও নতুন করে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন৷

তাপস মজুমদার বাংলাদেশের নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সন্দীহান৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে আমাদের দেশ একটি বিশাল বিপদের মুখে পতিত হয়৷ সমস্যা হল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকে না, আবার সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করতে গেলে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রয়োজন দেখা দেয় এই দেশে৷ তাই গণভোট করা প্রয়োজন৷ তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি গ্রহণ করলে তা সংবিধানে পরিণত হবে৷ আর নির্বাচন পদ্ধতি কোনো সরকার পরিবর্তন চাইলে তা গণভোট করতে হবে৷''

রওশন হোসেন, কার্তিক ধর, মো. জসিম উদ্দিন সুমন এবং রনি সরকারের মতে ‘‘ চাই দুই নেত্রীর মধ্যে সংলাপ৷'' মো.আবদুল হালিমও নতুন নির্বাচন চায়, তবে তা হতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে৷

শান্ত রায় লিখেছেন ফেসবুকে, ‘‘গণভোটের মাধ্যমে জনগণই ঠিক করুক, দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে৷''

অন্যদিকে ইমরান খান সতু দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এতটাই অস্থির যে তিনি আর চান না যে, নারী নেতারা দেশের কর্ণধার হোক৷ তিনি এবার পুরুষ নেতার পক্ষে৷ লিখেছেন, দুই নেত্রীকে সরিয়ে দাও, নতুন দল তৈরি করো৷ নেতা হতে হবে পুরুষ, তাহলে দেশে শান্তি আসবেই, ইনশাআল্লাহ৷''

পাঠক সাহাদাত উল্লারও প্রায় একই মত৷ তাঁর মন্তব্য, ‘‘নারীদেরকে রাজনীতি থেকে বাদ দিলে অবশ্যই ভালো হবে৷''

মো.মাসুমও মনে হয় অতিষ্ঠ বাংলাদেশের বড় দুই রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপে৷ তিনি বলছেন, ‘‘দুই দলকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হোক৷''

সুমন আক্তার মনে করছেন হাসিনা গদি ছাড়লেই সব সমস্যার সমাধান হবে৷ তাঁর মন্তব্য ‘হাসিনার গদি ছাড়তে হবে৷'

মাসুদ খান প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরে পেতে চান, যদি দু'হাজার মানুষের জীবনের বিনিময়ে হয় তাতেও তাঁর আপত্তি নেই৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘ক্ষতি যা হয় একবারেই হয়ে যাক৷ এপার না হয় ওপার৷ দুই হাজার লাশের বিনিময়ে যদি আমি আমার ভোটাধিকার ও প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরে পাই তাতে মন্দ কিসের !''

শাহীন হাসান ও এয়াকুব আলী প্রধানমন্ত্রী হাসিনার পদত্যাগের পক্ষে মত দিয়েছেন৷

বর্তমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের উপায় হাবীব শেখ জানিয়েছেন এভাবে, ‘‘স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নতুন করে নির্বাচন দিলে বর্তমান সমস্যার সমাধান সম্ভব৷''

আমাদের পুরনো বন্ধু সুহৃদ ব্যানার্জি জানিয়েছেন তাঁর মত এভাবে, ‘‘এই মৃত্যুর মিছিল বাংলাদেশে জনগণের কল্যাণের জন্য দুই নেত্রীকে এক সমান্তরাল পথে আসতে হবে৷ পৃথিবীর ইতিহাস দেখেছি, দুই নারী কখনো এক হতে পারেনা, কিন্তু এটা রাজনীতির ব্যাপার৷ বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য দুই নারী রাজনীতিতে দণ্ডায়মান৷''

জাফর খান মনে করেন, সন সমস্যার সমাধান হলো সংলাপ, অন্যথায় দুই নারীকে রাজনীতিবিদদের তালিকা থেকে বাদ দেয়া৷

জুয়েল সাদিক, রিয়াজ উদ্দিন, শরীফ ইমামেরও মত দুই নারীকে রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়া হোক৷

সংকলন: নুরুননাহার সাত্তার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন