রাজনীতির জাঁতাকলে আফগান নারীরা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 05.02.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

রাজনীতির জাঁতাকলে আফগান নারীরা

আফগানিস্তানে নারী নির্যাতন বিরোধী নতুন একটি আইন হতে যাচ্ছে৷ প্রথমে শুনে খবরটা আনন্দের মনে হলেও, আসলে হতে যাচ্ছে উল্টোটাই৷ আইনটি অনুমোদন হলে আফগান নারীরা কিন্তু আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিতই হবেন৷

নতুন এই আইনটির কথা মঙ্গলবার জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ৷ সেখানে বলা হয়েছে, এই আইনটি অনুমোদন হলে হয়রানির প্রতিরোধে আইনি সহায়তা থেকে একরকম বঞ্চিত হবেন নারীরা৷ এরই মধ্যে পার্লামেন্টে উচ্চ ও নিম্ন কক্ষে আইনের খসড়াটি পাস হয়েছে৷ তবে আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এতে সই না করায় খসড়াটি এখনও আইনে পরিণত হয়নি৷ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অবশ্য এটি প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হবে৷

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, নতুন এই আইন কার্যকর হলে সম্ভাব্য অপরাধী এবং নির্যাতনের শিকার কোনো নারীর আত্মীয়কে আইনজীবীরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন না৷ অর্থাৎ পারিবারিক নির্যাতনের শিকার নারী, যাঁকে শিশু বয়সে বিয়ে দেয়া হচ্ছে বা হয়েছে, বা যাঁর ওপর নির্যাতন করা হয়েছে, তাঁর পরিবারের সদস্যদের সামনে ঘটনাটি ঘটলেও তাঁরা সাক্ষ্য দিতে পারবেন না৷

এর ফলে নির্যাতিতের পক্ষে যাঁরা লড়বেন তাঁদের জন্য আইনি প্রক্রিয়াটা ভীষণ জটিল হয়ে দাঁড়াবে৷ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস সম্ভাব্য এই আইনের একটা অন্য জটিলতাও তুলে ধরেছেন৷ তিনি জানান, এটা যদি আইনে পরিণত হয়, তবে আত্মীয়দের দ্বারা নিগৃহীত নারীরা আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন৷ কেননা এমন অনেক আত্মীয় আছেন, যাঁরা কেবল নির্যাতনই নয় নারীদের পাচার ও বিক্রির সাথেও জড়িত ৷

নিউ ইয়র্কভিত্তিক এই সংস্থাটি জানায়, আফগানিস্তানে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা নির্মূল বা ইভিএডাব্লিউ-এর যে আইনটি রয়েছে, নতুন আইনটি আসলে তার বিরুদ্ধে যাবে৷ ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই কট্টরপন্থি ইসলামি নেতা এবং রাজনীতিবিদদের বিরোধিতা সত্ত্বেও ঐ আইনটি অনুমোদন করেন৷ আইনটিতে নারী নিগ্রহ, যেমন ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন, বাল্য বিবাহ, জোরপূর্বক বিয়েসহ ২২টি বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল৷

এদিকে, মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, কারজাই তাঁর সরকারের সাথে তালেবান জঙ্গিদের শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের জন্য গোপনে বৈঠক করেছেন৷ তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারজাইয়ের মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি৷ তবে মুখপাত্র এটুকু জানিয়েছেন, গত দু'মাস ধরে দু'পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে, যা ইতিবাচক৷

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী এপ্রিলের নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই কারজাই দেশের নানা আইন ও বিভিন্ন পদক্ষেপে পরিবর্তন আনছেন৷ এ কারণেই হয়ত তালেবানের সাথে আলোচনা এবং তার ফলস্বরূপ নারী নির্যাতন বিরোধী আইনে এই পরিবর্তন৷

এপিবি/ডিজি (ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়