1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

রাজনীতির ‘এ-বি-সি-ডি' জানা এ বি সিদ্দিকী

‘বাজ'-এর আঘাতে আমরা জর্জরিত৷ শৈশবে ‘রংবাজ' শব্দটি শুনে রংবাজ দেখার খুব সাধ হয়েছিল৷ তখন দেখা হয়নি৷ আজকাল অবশ্য কোনো ‘বাজ'-এরই অভাব নেই৷ রংবাজ, চাপাবাজ, ধান্দাবাজ, হামলাবাজ – অনেক রকমের ‘বাজ'-ই পথেঘাটে মেলে!

নায়করাজ রাজ্জাক অভিনীত ‘রংবাজ' মুক্তি পাওয়ার কয়েক বছর পর আমার সামনে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটি দেখার সুযোগ এসেছিল৷ নতুন ছবি ঢাকা থেকে মফস্বলে আসতে আসতে পুরোনো হয়ে যেত৷ তবুও রংবাজ কী? সেটা মায়ের কাছ থেকে জেনে নিয়ে দাবি তুলেছিলাম, ‘‘রংবাজ দেখতে দিতে হবে৷'' তখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো, ছায়াছবিতে দর্শক টানার নামে যৌনতা বিক্রিও একদম হতো না – তবু দাবিটা পূরণ হয়নি৷ আসল রংবাজ তো দূরের কথা, সিনেমা হলে গিয়ে নকল রংবাজও দেখা হয়নি তখন৷

সেই আফসোস বেশি দিন থাকেনি৷ পত্র-পত্রিকায়, টেলিভিশনের পর্দায় ‘রংবাজ' এবং ‘রংবাজি' অনেক দেখেছি৷

আজকাল ‘রংবাজ' শব্দের প্রচলন খুব একটা নেই৷ বখাটে, ইভ টিজার, মাস্তান, সন্ত্রাসী – দেশি-বিদেশি এমন নেতিবাচক শব্দ তো শুনি, কিন্তু বহুদিন হলো কাউকে ‘রংবাজ' বলতে শুনি না৷ তবে ‘বাজ' ফিরে ফিরে আসে নানা শব্দের লেজ হয়ে৷ যে খুব বানিয়ে বানিয়ে কথা বলে, সে ‘চাপাবাজ'৷ ধোঁকা দেয় যে, সে ধোঁকাবাজ৷ যে জোর করে টাকা বা চাঁদা নেয়, সে চাঁদাবাজ৷ হামলাকারী একসময় হয়ে যায় হামলাবাজ৷ ফেরেব্বাজও আছে অভিধানে৷ এত ‘বাজ' থাকলে কী হবে, সংবাদমাধ্যমে বেশি চোখে পড়ে চাঁদাবাজ আর হামলাবাজদের৷ গত কয়েকমাসে এক মামলাবাজও মিডিয়ায় বেশ ‘কদর' পাচ্ছেন৷

A.B. Siddiki

আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বললেই এবি সিদ্দিকী মামলা করে দেন

বাংলাদেশে আদালতের জন্মের পর থেকেই মামলাবাজি চলছে৷ কিন্তু এ বি সিদ্দিকী সম্ভবত সব পূর্বসূরিকেই ছাড়িয়ে গেছেন৷ ‘মামলাবাজ' হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও বহুবার ছাপা হয়েছে তাঁর নাম৷

আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কেউ অপ্রমাণিত এবং আপত্তিকর কথা বললেই এবি সিদ্দিকী-এর নাম আসে খবরে৷ দলবাজির উগ্র রাজনীতির ডামাডোলের মধ্যেও তিনি কারো শরীর বা সম্মানে আঘাত করেন না, শুধু ‘অসত্য ভাষণ' কিংবা ‘মানহানির' অভিযোগে মামলা করেন৷ বাংলাদেশের রাজনীতিতে জ্বালাও-পোড়াও, ধরো-মারো, নিন্দা-কুৎসাই চলে অবিরাম, সেখানে এবি সিদ্দিকীর দল এবং দলনেতার স্বার্থে আদালতের স্মরণাপন্ন হওয়া নিশ্চয়ই মন্দের ভালো৷ নেতা-নেত্রীরা তো কাথা বলার ক্ষেত্রে নৈতিকতা, শিষ্টাচার, মানবিকতা, দায়ীত্বশীলতা – এ সবের ধারই ধারেন না৷ যার-তার সম্পর্কে যা খুশি বলে হাততালি আর প্রচার পাওয়াটাই যেন শেষ কথা৷ এর বিরুদ্ধে যদি কেউ আইনের ভাষায় কথা বলতে চায়, মন্দ কী! কথা-বার্তা-আচরণে সবারই তো দায়িত্বশীল এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া দরকার৷

Deutsche Welle DW Arun Chowdhury

আশীষ চক্রবর্ত্তী

এ বি সিদ্দিকী আবার কখনো সমাজের কোনো ‘চুনোপুটি'-র বিরুদ্ধে মামলা করেন না৷ রঘববোয়ালরাই তাঁর টার্গেট৷ সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াও তাঁর ‘মামলার হামলা' থেকে রেহাই পাননি৷

মামলা করতে এ বি সিদ্দিকীকে যে খুব কাঠখড় পোড়াতে হয় তা-ও নয়৷ পত্রিকায় খবরটা পড়ে পেপার-কাটিং সঙ্গে নিয়ে চলে যান আদালতে৷ সেখানেও তেমন কিছু করতে হয় না৷ উকিলের পেছনে ছুটতে হয় না, তাঁরাই ছুটে আসেন তাঁর কাছে৷ গরিব মানুষ টাকার অভাবে মামলা করতে পারেন না, আইনজীবী পান না৷ এ বি সিদ্দিকীর সেই সমস্যা নেই৷ অনেক আইনজীবী বিনা পয়সায় তাঁর হয়ে কাজ করতে রাজি৷ যেনতেন মামলা তো নয়! মিডিয়া এমন মামলার জন্য ওঁত পেতে থাকে৷ প্রচারের এমন সুযোগ কি সবসময় আসে? এ বি সিদ্দিকীর কাছে তাই কেউ টাকা চান না, তাঁর মাধ্যমে সবাই শুধু প্রচারটাই চান৷

রাজনীতিবিদরা প্রচারের আলোয় থাকতে, জনপ্রিয়তা বাড়াতে বা ধরে রাখতে কথার ফুলঝুড়ি ছোটান৷ এ বি সিদ্দিকী তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করে চলে আসেন লাইলমলাইটে৷ মামলা পরিচালনার সূত্রে দু-একজন আইনজীবীও চলে আসেন তাঁর সঙ্গে৷ এ এমন এক চক্র যেখানে প্রত্যেকেই তাঁরা অন্যের তরে৷

মামলাবাজ হয়ে পরিচিতি ছাড়া এখনো বেশি কিছু পাননি এ বি সিদ্দিকী৷ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ঘুস কত লোকের কপাল ফিরিয়ে দিল, এ বি সিদ্দিকীকে এখনো ভাড়া বাসাতেই থাকতে হয়৷ তবে ‘আসল পথ' খুঁজে পেয়েছেন তিনি৷ ‘অনেক কিছু' পাওয়া যায় সেই পথে৷ পাওায়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে৷ চিরকাল সাংবাদিকতা করেও প্রকৃত সাংবাদিকের যা ভাগ্যে জোটে না, এ বি সিদ্দিকী এক সময়ের ‘স্টাফ' থেকেই নাকি তিন তিনটি পত্রিকার সম্পাদক৷ দৈনিক ভোরের আলো, সাপ্তাহিক অবদান এবং চিত্রজগত্‍ – এই পত্রিকাগুলোর নাম শুনেছেন? শোনেননি? এ বি সিদ্দিকী দৈনিক ভোরের চেতনার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক৷ ‘ভোরের চেতনার'-ও নাম শোনেননি? আপনি-আমি এমন হাজারটা পত্রিকার নাম না শুনলে কী আসে যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হয়ত শুনেছেন, ‘সম্পাদক', ‘ব্যবস্থাপনা সম্পাদক' এবং ‘আওয়ামীপন্থি মামলাবাজ' এ বি সিদ্দিকীকে ডেকে নিয়ে মাথায় হাত রেখে এ বি সিদ্দিকীকে ধন্যও করেছেন তিনি৷ আর কী চাই!

শেখ হাসিনার স্নেহধন্য হবার পর এখন সংসদ সদস্য হতে চান এ বি সিদ্দিকী৷ সেই সুযোগ কী আওয়ামী লীগ তাঁকে দেবে? না দিলেও বেশি ক্ষতি নেই৷ বাংলাদেশে একবার ‘লাইন' পেয়ে গেলে কিনা হয়৷ এসএসসি ফেল লোকও শীর্ষে ওঠে৷ শূন্য ঝুলি থেকেও বেরিয়ে আসে কত শিল্পপ্রতিষ্ঠান, জাহাজ, ব্যাংক...! যুদ্ধাপরাধী, ধর্ষক, খুনি হয়ে যায় ধনী-মানী৷ এ বি সিদ্দিকী হয়ত বাংলাদেশের রাজনীতির ‘এ-বি-সি-ডি' মুখস্ত করেই মাঠে নেমেছেন৷ কে ঠেকাবে তাঁর ‘উন্নতি'!

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়