1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

রাজনীতির আগুন নেভানোর উদ্যোগ নেই

বার্ন ইউনিটে বাড়ছে মানুষের আহাজারি৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে আহজারির রেশ৷ অথচ যাঁরা আগুন নেভাতে পারেন, তাঁরা আগুনের দায় একে অপরের ঘাড়ে চাপাতেই এখনো ব্যস্ত৷

বিএনপি জোটের টানা অবরোধ থামার কোনো ইঙ্গিত নেই, বরং যোগ হচ্ছে টানা হরতাল কর্মসূচি৷ অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহিংসতা থামাতে পুলিশকে সবকিছু করার নির্দেশ দিয়েছেন, ঘোষণা দিয়েছেন দায় বহনের৷ পুলিশের প্রতি তাঁর এই বক্তব্যে নিয়মনীতি ভাঙার ইঙ্গিত স্পষ্ট৷ অন্তত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সেরকমই ভাবছে৷ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ পুলিশকে ইচ্ছামত কাজ করার অধিকার দিয়ে কার্যত চলমান সহিংস পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তোলার ঝুঁকি নিচ্ছে৷

অ্যামনেস্টি মনে করছে, পুলিশকে মাত্রাতারিক্ত ক্ষমতা দেয়া ভয়ংকর পেট্রোল বোমা হামলার জবাব হতে পারে না৷ সংস্থাটি একইসঙ্গে জানিয়েছে যে, বিএনপির উচিত সহিংস কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের নেতাকর্মীদের বিরত রাখা৷

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর এমন বক্তব্য কার্যত কোনো পক্ষই আমলে নিচ্ছে না৷ বরং দুই পক্ষের কঠোর অবস্থানে ক্ষতির শিকার সাধারণ মানুষ৷ পুলিশ পারছে না পেট্রোল বোমা রুখতে, ফলে পুড়ছে সাধারণ জনতা৷ ভিড় বাড়ছে বার্ন ইউনিটে৷

সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুকে এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন অনেকে৷ গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম কর্মী মাহমুদুল হক মুন্সি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘মানুষ পুড়িয়ে রাজনীতি নয়, পোড়া লাশের গণতন্ত্র আমার নয়! শহীদ মিনারে #হোকপ্রতিবাদ৷''

যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি নিয়ে সৃষ্ট গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারও নিরলসভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন অবরোধের আগুন থেকে মানুষকে রক্ষা করতে৷ সহিংসতার বিপক্ষে জনসচেতনতা গড়তে তৎপর ইমরান শুক্রবার ‘‘সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিবাদী গণস্বাক্ষর ও সমাবেশ'' শীর্ষক এক ইভেন্টের আয়োজন করেন৷

বিএনপি জোটের রাজনৈতিক কর্মসূচির সমালোচনা করে সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘শুধু মানুষকে বিপদে না ফেলে রাস্তায় নামেন, পুলিশের মার খান....শুধু জনগণকে মারবেন কেন, মারের ব্যবস্থা করে দেবেন কেন?''

বলাবাহুল্য, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর প্রায় এক বছর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ শান্ত ছিল৷ বিশেষ করে বিএনপি কোনো কঠোর রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করেনি৷ কিন্তু সেসময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী দলটির আন্দোলন করার ক্ষমতা নেই হাস্যরস শুরু করে৷ নানারকম উসকানিমূলক বক্তব্য দেন৷

গোলাম মোর্তোজা সেদিকে ইঙ্গিত দিয়ে লিখেছেন, ‘‘মন্ত্রী শাহজাহান খান এত বড় শ্রমিক-মালিক নেতা, নিজেদের মালিকানার বাস রাস্তায় চালাচ্ছেন না কেন? কাজ না করে এত উসকানিমূলক হুংকার কেন? মানুষকে বিপদে ফেলে সুবিধা নিতে চায় বিএনপি৷ সরকারও মানুষের বিপদ পূঁজি করে বিএনপি নির্মূল করে সুবিধা নিতে চায়৷ মানুষ যে কি চায়, তা ভাবে না কেউ!''

সংকলন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়