রাজধানীতে বিক্ষোভ শুরু, গৃহযুদ্ধের হুমকি গদ্দাফিপুত্রের | বিশ্ব | DW | 21.02.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

রাজধানীতে বিক্ষোভ শুরু, গৃহযুদ্ধের হুমকি গদ্দাফিপুত্রের

অবশেষে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে শুরু হয়েছে সরকার বিরোধী আন্দোলন৷ এদিকে বিক্ষোভকারীরা পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজি দখল করে নিয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে৷

default

ত্রিপোলিতে বিক্ষোভ

ত্রিপোলির পরিস্থিতি

লিবিয়ায় আন্দোলন শুরু হয়েছে প্রায় ছয় দিন আগে৷ তবে এতদিন সেটা থেকে মুক্ত ছিল ত্রিপোলি৷ কিন্তু গতকাল শেষের দিকে ত্রিপোলিতেও হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে দেখা গেছে৷ তারা বিলবোর্ডে থাকা গদ্দাফি'র ছবির দিকে পাঁথর ছুড়ে মেরেছেন৷ এছাড়া সরকার বিরোধী স্লোগান দিয়েছেন৷ এরই এক পর্যায়ে গদ্দাফির সমর্থকরা তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে৷ পুলিশও বিক্ষোভকারীদের সরাতে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে৷ এছাড়া গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে৷

বেনগাজি দখল

সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্প দখল করে সেখানে অবস্থান করছেন বিক্ষোভকারীরা৷ এমনটাই খবর পাওয়া যাচ্ছে৷ বেনগাজির কয়েকজন বাসিন্দা বলছেন কিছু সেনা সদস্য বিক্ষোভাকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে গদ্দাফির এলিট বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল৷ তবে আরেক সূত্র থেকে পাওয়া খবর বলছে,

Libyen Muammar Gaddafi Moammar Gadhafi

গদ্দাফির পদত্যাগ চান বিক্ষোভকারীরা

বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়েছে সেনাবাহিনী৷ ফলে বেশ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে৷ সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত বিক্ষোভে ২৩৩ জন মারা যাওয়ার খবর দিচ্ছে মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ'৷ গদ্দাফির ছেলে সাইফ-আল-ইসলাম সরকারি টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে স্বীকার করেছেন যে বেনগাজিতে কয়েকটি সামরিক কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে বিক্ষোভকারীরা৷

গদ্দাফির ছেলের বক্তব্য

তাঁর বক্তব্য ছিল বেশ কঠোর৷ মাঝে মধ্যেই আঙুল উচিয়ে কথা বলেছেন গদ্দাফির ছেলে সাইফ৷ বিক্ষোভ ছড়ানোর জন্য তিনি প্রবাসী লিবীয়দের দায়ী করেন৷ এছাড়া স্বীকার করে নেন যে, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত ছিল একটা ‘ভুল'৷ তবে এজন্য সেনাবাহিনীকে দায়ী করেন তিনি৷ কারণ তাঁর মতে, গণবিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করার মতো পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছিল না সেনাবাহিনীর৷ এছাড়া বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বাড়িয়ে বলার জন্য বিদেশি গণমাধ্যমগুলোতে দায়ী করেন সাইফ গদ্দাফি৷ বেনগাজিতে কয়েকটি সামরিক কেন্দ্র লুট হওয়ায় বেশ কিছু অস্ত্র চলে গেছে সাধারণ জনগণের কাছে৷ তাই তিনি বলেন যখন সবার কাছে অস্ত্র থাকে তখন গৃহযুদ্ধ শুরু হয়৷ অর্থাৎ পরিষ্কারভাবেই তিনি গৃহযুদ্ধের হুমকি দিয়ে বলেছেন এর মাধ্যমে আমরা একে অপরকে মেরে ফেলবো৷ এছাড়া তৈলক্ষেত্রগুলোও ধ্বংস করে দেয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি৷

বিশ্বের প্রতিক্রিয়া

লিবিয়াতে বহু লোকের মৃত্যুর খবরে ‘গভীর উদ্বেগ' প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র৷ লিবিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে কথাও বলেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা৷ এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাশটন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে গদ্দাফির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন৷ এদিকে, লিবিয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে আজ এক বিশেষ বৈঠক ডেকেছে ইইউ৷ লিবিয়ার ঘটনার সমালোচনা শোনা গেছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেও৷

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়